somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ নিশির জন্মদিন.......

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ নিশির সাথে আমার দেখা হবে বলতে গেলে প্রায় তিন বছর পর দেখা হতে যাচ্ছে, আজকেও দেখা করার ইচ্ছা ছিলনা তারপরও দেখা করতে হচ্ছে।
আজ নিশির জন্মদিন.......
নিশির জন্মদিনে একটু সামনে দাড়ানোর খুব ইচ্ছা করছিল তাই দুপুরে বিমানে উঠে বসলাম প্রথম প্রহরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোরের ফ্লাইটে ফিরে আসলে ঠিকঠাক মতই অফিস করা যাবে তাই।
নিশির সাথে পরিচয় হয়েছিল অনেকটা গল্পের মতই, আমি কোনদিনও প্রেমে পরবনা চিন্তা করে হিমু হতে চাইলাম। হলুদ পান্জাবিতে সিঙ্গাপুরে রাস্তায় হেটে চলি, দুইদিন পুলিশের হাতেও আটকা পরলাম। সব মিলিয়ে নিজের মাঝে যখন হিমুকে প্রায় মিলিয়ে নিয়ে ছিলাম ঠিক তখনি গালে টোল আর ঠোটের উপরে তিল ওয়ালা নিশি নামের মেয়েটার সাথে পরিচয়। আমাদের পরিচয়টাও ঠিক ফেইবুকেই হয়েছিল, বলতে গেলে নিশিকে না দেখেই আমি আমার হিমু থিউরি থেকে ফিরে আসলাম।
গত কয়েকটা দিন নিশির জন্য খুব মায়া লাগছিল তাই হঠাৎ করেই চিন্তা করলাম এবার নিশির জন্মদিনে আবার ওর সামনে দাড়াব, এক ফ্রেন্ডের মাধ্যমে এলইডি লাইটের ১ হাজার বেলুন কালেক্ট করলাম, একজনের সাথে কথা বল্লাম বেলুনে হেলিয়াম গ্যাসে পূর্ন করার জন্য। সময় যেহেতু ১৫ মিনিটের মত পাবে তাই উনার সাথে ২/৪ জন লোক নিতে বল্লাম সিলিন্ডার ৪টা নিবে সাথে। ফায়ার ওয়ার্কের ১৭৫ টা শুট নিলাম, যেহেতু এই বিষয়টা একটু রিক্স থাকে তাই দোকানের একজন কর্মচারী সাথে নিলাম।
১৭৩৫ টা গোলাপ হাতে আমার সব পরিকল্পনা সাজিয়ে নিশিদের বাসায় আসলাম ততক্ষনে ঘড়িতে রাত্র ১১টা বেজে গেছে, নিশিদের বাসা থেকে ছাদের চাবি নিয়ে সবাইকে ছাদে নিয়ে গেলাম। বেলুনে গ্যাস দেয়ার কাজ শুরু করল ৪জন, ফায়ার ওয়ার্ক ঠিক কর্নারে সিড়ির রুমের পিছনে রেখে একজন বসে আছে। অবশ্যক নিশিদের বাসার সবাইকে বলেছিলাম আমি ফোন করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত যেন আমার আসার কথাটা নিশিকে না জানানো হয়, এমনকি কোন কারনে যাতে ছাদে আসতে না পারে এই বিষয়টাও দেখতে বল্লাম। ১০০০ বেলুনে গ্যাস পূর্ন করে এলইডি লাইড জ্বালিয়ে ছাদের রেলিং এর সাথে বেধে রাখা হয়েছে, মনে হচ্ছে এই ছাদটা এক টুকরো আকাশ যার মাঝে হাজারো তারকা ভিড় করে আলো ছড়াচ্ছে। নিশির সাথে পরিচয়ের প্রথম জন্মদিনে বলেছিলাম আমার ইচ্ছা আছে আকাশটাকে ৭টা খন্ডে বিভক্ত করে প্রিয় সাতজন মানুষকে উপহার দেব, তুমিও পাবে এক খন্ড আকাশ। আজ মনে হয় নিশিকে তার আকাশের অংশটা বুঝিয়ে দিতে এসেছি।

ঘড়িতে যখন ১১টা ৫৫ মিনিট তখনি নিশিকে ফোন করলাম, এত দিন পর আমার ফোন পেয়ে মনে হয় অনেকটা বড় রকমের ধাক্কা খেল। প্রায় ৬০ সেকেন্ড কোন কথায় বলেনি, ধাক্কাতো খাওয়ারই কথা। যে মানুষটা দিনে কম করে হলেও ২০ বার কল করে জ্বালাতো সেই মানুষটা হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল কোথাও কোন সন্ধান পাওয়া গেলনা, একেবারেই পাওয়া গেলনা। অনেক দিন পর এই যন্ত্রনার মানুষটাই হঠাৎ করে ফোন করলে যে কারোই শক খাওয়ার কথা।
ছোট্ট করে বল্লাম একটু ছাদে আসবেন?
- কার ছাদে?
- আপনার বাসার ছাদে।
- আপনি আমার বাসার ছাদে কখন আসলেন?????? এমন হাজারো প্রশ্নের পর নিশি ছাদে আসতে রাজি হল।
নিশি ছাদের গেইটে দাড়িয়ে গেল, যেন সে আর হাটতে পারছেনা। পিছনে ওর পরিবারের সবাই দাড়িয়ে আছে, আসলে নিশির সাথে পরিচয়ের পর ওর পরিবারের সাথেও খুব ভাল একটা সম্পর্ক তৈরী হয়ে গিয়েছে। প্রতিটা মানুষ আমাকে খুব আপন করেই নিয়েছিল।

নিশির দাড়িয়ে থাকতে দেখে আমি নিজেই এগিয়ে এসে নিশির সামনে দাড়ালাম ফুলগুলি নিশির হাতে দিলাম, আজকে নিশির সাথে আমার পরিচয়ের ১৭৩৫ দিন পূর্ন হল তাই ততটা ফুল নিয়ে এসেছিলাম। খুবই সাধারন ভাবে জন্মদিনের উইশ করে নিশির সামনে একটা কেক রাখলাম, মেয়েটা মোমবাতি গুলি নিবিয়ে কাপা হাতে কেকটা কাটছে। এমন সময় সিড়ি ঘরের পিছন থেকে আকাশের দিকে আতশ বাজি গুলি উড়ে উড়ে যাচ্ছে, বিকট শব্দে ভিন্ন ভিন্ন কালারে আকাশটাকে সাজাচ্ছে। নিশি ছুরি হাতে নিয়ে কেকের পাশেই হাটু গেড়ে বসে পরল, ছাদের রেলিং থেকে বেলুন গুলির সুতা কেটে দেয়া হচ্ছে একটা একটা বেলুন নিশির আকাশে একটা তারা হয়ে উজ্জল আলো ছাড়াচ্ছে। কি চমতকার লাগছে আকাশটা, মনে হচ্ছে পৃথিবী নামক গ্রহে অন্য একটা পৃথিবী।

সবার দৃষ্টি যখন আকাশের দিকে আমি তখন পাশে থাকা ব্যাগটা কাধে নিয়ে সিড়ি পর্যন্ত হেটে গেলাম, পিছনে না তাকিয়েও বুঝতে পারছি নিশি আমার চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে। শরীরের সবটুকু শক্তিদিয়ে চেষ্টা করছে আমাকে ডাকতে কিন্তু আজকে মনে হয় নিশিটা বোবা হয়ে আছে, কিছুতেই মুখ থেকে একটু শব্দও বাহির হচ্ছেনা। আমি থামলাম কাধ থেকে ব্যাগটা রেখে একটা বক্স বাহির করে নিশির হাতে দিলাম, বক্সের কাভার খুলতেই যাকেযাকে জোনাকি গুলি উড়তে শুরু করল, নিশি নিঃশব্দে বসে আছে। হঠাৎ নজরে আসল নিশির চোখের নিচে চকচক করছে, তারমানে নিশি কাঁদছে?
নাহ! আর অপেক্ষা করা যাবেনা। গুরু বলেছে, চোখের পানির সামনে দাড়াতে নেই, এই একটা ক্ষুদ্র বিষয় অনেক কিছু বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে......
আমি ব্যাগ কাধে নিয়ে সিড়ি দিয়ে নেমে আসছি, আর দূরে কোথাও সাউন্ড সিস্টেমে বাজছে -

সোনার মেয়ে, তোমায় দিলাম ভুবন ডাঙ্গার হাসি,
তোমায় দিলেম মধ্যদিনের, টিনের চালের বৃষ্টি রাশি,
আর দিলেম রৌদ্রধোয়া, সবুজ ছোঁওয়া পাতার বাঁশি,
মুখে বললাম না, বললাম না ভালবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:৪৬
১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×