somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তবতা

২৬ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীলার সংগে শেষ কথা হয় ৬ মাস আগে। বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে হন্যে হয়ে চাকরি খুজছিলাম ১ বছর ধরে। কিন্তু এই করোনার মাঝে বিশ্ব যেখানে থমকে গেছে, চাকরি তো কোন ছাড়। আমার নীলা অনেক ধৈর্য্য ধরেছে। ধনী ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে, গুণধর পাত্রের অভাব তার হবে না আমিও জানতাম। সেখানে সে শুধুমাত্র আমার জন্যে বসে থেকেছে এতটা দিন। ওকে গর্ব করে বলতাম, পাসটা শুধু একবার করে নেই, এরপর দেখো, চাকরি একটা জুটে যাবেই। আমার কথায় কোনদিন আপত্তি করে নি। ওর মনে আমিই ছিলাম সব, আমার কথাই শিরোধার্য। কি অসুখে, কি বিপদে, কি প্রয়োজনে- সব কিছুতেই আমিই ছিলাম তার একমাত্র ভরসার স্থল। রমনা পার্কে তার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে দুজনে মিলে দেখতাম এক সুখের স্বপ্ন, লাল-নীল সংসার। যেই সংসারে বিপদ আসলে হাল ধরবো দুজনে, যত ঝাপ্টাই আসুক কোনদিন হাতটা ছাড়বো না। কি ছেলেমানুষই না ছিলাম। কোন শালা বলে জীবনটা প্রেমময়? জীবন হচ্ছে একটা মরুভূমি, প্রেমের কোন অস্তিত্ব এখানে পাওয়া যাবে না, সব মরীচিকা। সব শুধুই মোহ। চোখের কোণা দিয়ে যে জল গড়িয়ে পড়ছে, সেটাও এই মোহভঙ্গের ফসল।

এই যাহ। নীলার কথা বলছিলাম, কখন যে ফিলোসফিতে মোড় নিলাম খেয়ালই নেই। ১ বছরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর যখন কোন চাকরি জুটলো না, তখন হঠাত করে নীলার বাবা আমাকে ফোন দেয়। তার একটাই অনুরোধ, আমি যেনো তার একমাত্র মেয়েকে মুক্তি দেই, তার জীবনটা নিয়ে যেনো আর না খেলি। মেয়ের জীবনটা অনেক রঙ্গিন। তার এক বন্ধুর ছেলে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, বিয়ের পর মেয়ে সিঙ্গাপুরে থাকবে। ওখানে তাদের নিজস্ব বাড়ি। মেয়ের আর কোনদিন দেশেই ফিরতে হবে না। আরো কত কি। সোজা কথায়, অনেক তো হলো বাবা, এবার বিদেয় হও। অতি দুঃখে নাকি মানুষের হাসি আসে, কথাটার প্রমাণ ওইদিন পেলাম। মলিন একটা হাসি ঠোঁটের কোনায় ঝুলে থাকলো। সারাটা জীবন পড়াশোনা করে আসলাম শিক্ষা আর সম্মানের আশায়, সারাটা জীবন বিশ্বাস করে এসেছি টাকাই সব কিছু নয়, শিক্ষাই মুক্তির পথ। আর আজ শিক্ষা মাথা কুটে মরছে, জিতে যাচ্ছে অর্থ-সহায়-সম্পত্তি।

ও হ্যাঁ। তিনি অবশ্য আমাকে বলেছিলেন নীলা এই বিয়েতে রাজি না। সে সারা জীবন আমার জন্যেই বসে থাকতে চায়। আমার যেদিন চাকরি হবে সেদিন আমার ঘরে এসে উঠবে। তার এই রঙ্গিন চশমার রঙ্গিন স্বপ্ন আমাকেই ভাঙ্গতে হবে। উনি ভাঙ্গলে নাকি নীলা কোনদিন তার দিকে আর মুখ তুলে তাকাবে না। আমি হয়তো পারতাম তার এই আদেশ না মেনে আমার মতো করে দিন কাটাতে। কিন্তু নীলাকে যে একটু বেশিই ভালোবাসি। আমার জীবনটা যাহয় হোক, সে যেনো জীবনে সুখী হয়।

২০২১ এর জানুয়ারী মাসে আমাদের ৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলাম আমি। নীলার চোখ দিয়ে অঝড় ধারায় পানি পড়ছিলো। আমি ছিলাম একেবারে পাথর। শেষবারের মতো তার হাতটা ধরে তাকে রিকশায় তুলে দেই। রিকশা ছুটে যায় তার গন্তব্যের দিকে। সাথে নিয়ে যায় আমার ভালোবাসার একমাত্র মানুষটাকে।

অনেকেই বলেছে, সামনে আরো প্রেম আসবে, এসব যেনো ভুলে যাই, যেনো সামনে পা বাড়াই। আমি শুধুই হাসি। প্রেম যতই আসুক, সত্যিকার প্রেম একটাই। আজ আমার প্রেম আমার সঙ্গে নেই। সুখেই আছে সে আশা করি। ভালো থাকুক আমার ভালোবাসা। সুখে থাকুক আমার নীলা।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০২১ রাত ১২:২৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×