somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৬ যুদ্ধাপরাধী

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় পলাতক ৬ যুদ্ধাপরাধীকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে ৪ জন বিদেশে পালিয়ে আছে বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ২ জনের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ৬ পলাতক যুদ্ধাপরাধী হলেনÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীন, সৈয়দ মো. হাসান আলী ওরফে হাছেন আলী, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন।
পলাতকদের অবস্থান, বিদেশে থাকলে তাদের কোন উপায়ে অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, দেশে পলাতকদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে তদারকি করতে গত বছর একটি মনিটরিং সেল গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই সেল আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীন এবং বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন কোন দেশে অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্র্তা জানান, বিদেশে পলাতকদের দেশে ফেরাতে নানামুখী চেষ্টা চলছে। যাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি, তাদের অবস্থান জানতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা।
একাত্তরে ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার দায়ে দুই আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ- দেন। তাদের মধ্যে চৌধুরী মঈনুদ্দীন বর্তমানে যুক্তরাজ্যে পলাতক জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে আশরাফুজ্জামান খান আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। চৌধুরী মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে বসে বাংলাদেশবিরোধী নানা কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। কয়েক মাস আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। দুজনের বিরুদ্ধেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইস্যু রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর চেষ্টা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকায় আশরাফুজ্জামানকে দেশে ফেরানো নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা। তার পরও তাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে একটি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক গোপন প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাজ্যের কোন ঠিকানায় চৌধুরী মঈনুদ্দীন অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে অনুসন্ধান চলছে।
তবে একটি সূত্র জানায়, চৌধুরী মঈনুদ্দীনের অবস্থান সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকার ওয়াকিবহাল। কিন্তু দেশটির সরকার তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরে আগ্রহী নয়। তাকে যেন হস্তান্তর করা না হয়, এ জন্য ব্রিটিশ সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে জামায়াতের লবিইস্ট গ্রুপ।
একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ- দেন। এর কয়েক মাস আগেই দেশ ছেড়ে পালান এই যুদ্ধাপরাধী। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ভারত হয়ে বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তানে গেছেন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানেই আছেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রসিকিউশন গত বছরের ২১ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মো. হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। এই যুদ্ধাপরাধীও পলাতক। এ ছাড়া পলাতক রয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন। গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদ- দেন। আরেক যুদ্ধাপরাধী জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারও গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে আমৃত্যু কারাদ-ে দ-িত করেন।
জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাসান আলী ও আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে গত বছর সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, জাহিদ হোসেন খোকন সুইডেনে আছে। ইন্টারপোল থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সুইডিশ সরকারের প্রসিকিউশন শাখার পাবলিক প্রসিকিউটর ম্যারি লিন্ড থমসিন এক চিঠিতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখাকে জাহিদ হোসেন খোকনকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
সুত্র
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×