somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভণ্ডামি আর হটকারিতার রাজনীতি

০৪ ঠা মে, ২০১৫ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যিনি নির্বাচন প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন গাড়িবহর নিয়ে। তার বহরের নমুনা হয় বরাবরই আড়ম্বরপূর্ণ, জাঁকজমকপূর্ণ, চমক লাগানো, এমনকি উস্কানিমূলকও। তিনি বলেছেন বিএনপির গণজোয়ার দেখে সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে। যার এত গণসমর্থন তিনি কেন গত ৫ জানয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে গণদের পোড়ানোর কর্মসূচি হাতে নিলেন? তারপর সিটি নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনে রাস্তায় নেমেছেন ভোট চাইতে। এটা মিডিয়ার যুগ, তিনি ভোট চেয়ে আবেদন জানালে তো মুহূর্তে প্রচার হয়ে যাবে। বেগম জিয়া কৌশলের চেয়ে অপকৌশলের চর্চা সব সময় বেশি করেন।

বন্দুকধারী সৈন্য-সামন্ত নিয়ে তিনি দামি গাড়িতে চড়ে ভোটের প্রচারণায় নেমেছেন। গণজোয়ারের নেত্রীর বন্দুকধারীর প্রয়োজন হলো কেন? তিনি জানেন, ৯৫ দিনে অবরোধ-হরতাল দিয়ে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত জানতেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, যানবাহনের পেশাজীবীরা, ১ হাজার পঙ্গু মানুষের আত্মীয় স্বজনরা, দেশের প্রতিটি বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধদের স্বজনরা তার ওপর ক্ষেপে আছে। তারা মনস্তাত্তি¡কভাবে খালেদা জিয়ার অনুশোচনা বিবর্জিত নির্বিকার ভাবমূর্তিতে ক্ষুব্ধ হয়েছে, তাই তারাই কালো পতাকা দেখিয়েছে। কালো পতাকা প্রদর্শন করা কি পেট্রলবোমা ছুঁড়ে মারার চেয়ে খারাপ নাকি? পৃথিবীর অনেক বড় বড় বড় নেতাদের তাদের দেশের মানুষ কালো পতাকা দেখিয়েছে, আবার ফুলের মালাও দিয়েছে। তিনি এতই ‘আপসহীন’ যে তার বিরুদ্ধে কালো পতাকাও দেখানো যাবে না। তার অহঙ্কার এতটাই চূড়াস্পর্শী যে তার জন্য আলাদা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে।

সরল সাদা মনে তিনি ভোট চাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেননি, আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত। তাই যদি হত তাহলে তিনি সশস্ত্র নিরাপত্তা অফিসার নিয়ে মাঠে নামতেন না। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুব্ধ নাগরিকদের খালেদা জিয়া সহজভাবে গ্রহণ করেননি। যিনি ৯৫ দিন ঘর থেকে নামেননি, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে যাননি, একটি বার্ন ইউনিটও পরিদর্শন করেননি, এবার তিনি পুলিশকে না জানিয়ে সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়লেন- এর মধ্যে সরলতার চেয়ে গরলতাই বেশি।

হরতাল এত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তারপরও তিনি আবার হরতাল ডেকেছেন। মনুষ্যত্বের চর্চা থাকলে ফের হরতাল দিতে তিনি একটু ভাবতেন। তার চারপাশে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিবর্জিত লোক, যারা গণহত্যার সাফাই গায়, তারাও বেগম জিয়াকে বিবেকের চর্চা করার প্রেরণা দেয় না। রাজনীতি মানবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। হত্যা মধ্যযুগীয় ধারা, রাজনীতির ধারা নয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ যদি মানবতার পরিচয় এবং আইনের শাসনকে গুরুত্ব না দিতেন তাহলে ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফেরার আগে রাজাকাররা সমূলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। রাজাকাররা প্রধানমন্ত্রী, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেত না। গত ২১ বছরে রাজাকারদের ভোটের হার অনেক বেড়েছে। তারা নীরবে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ইসলামের নাম বিক্রি করে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেক পেট্রডলার এনে মজবুত হয়েছে। অস্ত্র মজুত করেছে। এসব খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে শক্তি যোগান দিয়ে যাচ্ছে, এজন্য বাংলার মা-বোনদের বুক খালি করতে বিচলিত হচ্ছেন না।

এ ছাড়া ’৭৫ পরবর্তী কালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চক্রবৃদ্ধিহারে অনৈতিক রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশকে ভূতের মতন পেছন দিকে হাঁটানো হয়েছে। রাজনীতির মঞ্চে ধর্ম ডেকে এনে ধর্মের চরম বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। আলেম সমাজের মধ্যে বিভাজন ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ইসলামের বিপক্ষে দাঁড় করানো হয়েছে। অথচ ঘুষ-দুর্নীতি খালকাটার নামে অর্থের অপচয়, গ্রাম সরকারের নামে অবাধে লুটপাট চলেছে জিয়ার আমলে। জিয়াউর রহমানের আমলে উত্তরবঙ্গে মা-বোনেরা প্রকাশ্যে বেশ্যা পাড়ায় দেহ বিক্রি করতে চলেছিল। আবার অন্যদিকে নীল-অশ্লীল ছবি প্রদর্শনের ব্যবসা, প্রিন্সেস লাকিখানের উলঙ্গ নৃত্য- এসব জঘন্য সামাজিক অবক্ষয় শুরু হয়েছিল। এই যে সমাজকে কলুষিত করার কাজ, এই বর্জ্য থেকে একটি প্রজন্মের জন্ম হয়েছে যারা জামায়াত-বিএনপির ভোটার হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উস্কানি, হঠকারিতা অস্ত্রবাজি, পেট্রল-বোমাবাজি সব অপশক্তি খালেদা জিয়ার পতাকাতলে দাঁড়িয়েছে।

রাজনীতির সুস্থ প্রতিযোগিতা খালেদা জিয়ার অভিধানে লেখা আছে বলে মনে হয় না। সুস্থ রাজনৈতিক পথ ধরে তিনি রঙিন চশমা পরে, গাড়িতে চড়ে কাওরান বাজার গিয়েছিলেন বলে মনে হয় না। পরিস্থিতির জট পাকানোই ছিল তার নিয়ত। তাই হয়েছে, জট পাকিয়েছে। তার গাড়ি বহরে হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। সেই গাড়ি নিয়ে তিনি বিদেশী ক‚টনীতিকদের দেখিয়েছেন। এত বিদেশ-নির্ভরতা কেন? কথায় কথায় যারা বিদেশের দুয়ারে ধর্না দেন তারা আবার ধর্মের দোহাই দেন কীভাবে? তারা আবার জঙ্গি লালন করেন কীভাবে? তারা আবার ‘নাস্তিক সরকার’ বলেন কীভাবে? যাদের কাছে ধরনা দেন তারা সবাই কি মুসলিম? বিএনপি জামায়াতের বড় কৃতিত্ব ভণ্ড রাজনীতির জন্ম দেয়া। ভণ্ড রাজনীতিতে মানবতা থাকে না, বিবেক থাকে না, মনুষ্যত্ব থাকে না, সহনশীলতা থাকে না।

পাকিস্তানি শাসকরা ছিল মদ্যপ, শূকরের মাংস খেকো বেনামাজি। তারপরও তারা ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়ে দিত। তাদের ইসলাম ছিল ভারত বিরোধিতা। এই ন্যাক্কারজনক ভন্ডামি উত্তরাধিকার সূত্রে পাকিস্তান থেকে পেয়েছেন খালেদা জিয়া, এজন্য অসুস্থ নিয়তে কাওরান বাজারে গিয়েছিলেন ভোট চাওয়ার জন্য। আমরা চাই সুস্থ রাজনীতি, সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। আমরা চাই সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।
সুত্র
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×