
প্রায় দু’মাস আগে গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি নম্বর সড়কের একটি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাট থেকে রহস্য মায় সুন্দরীর উপস্থিতিতে নিখোঁজ হয়েছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘ট্র্যাপের শিকার’! উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বাসায় তার সঙ্গে কথিত গৃহপরিচারিকা ছিল বলে যে তথ্য এই ভবনের ভাড়াটে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাবীব হাসানাত ভবনের দারোয়ান আক্তার আলীকে জানিয়েছিলেন তা সঠিক নয় বলে জানা গেছে। আসলে সে গৃহপরিচারিকা নয়, একজন সুন্দরী তরুণী ও বিউটিশিয়ান। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হাবীব হাসানাতের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে দুটি বিউটি পার্লার রয়েছে। একটি বিউটি পার্লার মহিলাদের জন্য অপরটি পুরুষদের। এ পার্লারের বাইরে সুমনার বায়িং হাউসের ব্যবসাও রয়েছে। ওই বিউটি পার্লারের একজন বিউটিশিয়ান হচ্ছেন ওই সুন্দরী তরুণী। বিভিন্ন সূত্রে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।নিখোঁজ হওয়ার চারদিন আগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হাসানাত নিজে ড্রাইভ করে এক ব্যক্তিকে তার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি রোডের ৪৯/বি নম্বর ভবনের দোতলার ভাড়া বাসায় সন্ধ্যার পর নিয়ে আসেন। ভবনের দারোয়ান আক্তার আলীকে হাসানাত বলে যান যে বাসায় কাজের বুয়া ও একজন মেহমান রেখে গেলাম। প্রয়োজন হলে তুমি সহযোগিতা করো। এই কথা বলে ওই রাতে হাসানাত তার স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে গাড়িযোগে বেরিয়ে যান। এর চার দিন পর গত মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে হাসানাতের উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ওই ভাড়া বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার মেহমানকে মুখে গামছা বেঁধে নিয়ে যায় বলে দারোয়ান আক্তার জানান। ভবনের গেটে অপেক্ষমাণ নোয়া মাইক্রোতে তুলে ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা তাকে নিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর সুন্দরী তরুণীও (কথিত কাজের বুয়া) চলে যায়। ওই ব্যক্তিটিই (মেহমান) বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ দাবি করেন। সালাহউদ্দিন নিখোঁজের গতকাল ৫ম দিন অতিবাহিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সালাহউদ্দিনের সন্ধান পায়নি বলে জানায়।
সূত্র পরিবারের সাথে বনাবনি না থাকায় তিনি গোপনে ঐ ফ্লাটে বসবাস করতেন ও বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির সময় তিনি ওই বাড়িতে গোপনে অবস্থান করে বিবৃতি দিয়ে আসছিলেন বলে জানা যায়।

হাসিনা আহমেদ
বিবিসি কে জানান আজ বেলা সাড়ে এগারটার তার স্বামীর সাথে তার ফোনে কথা হয়েছে। মিসেস আহমেদ বলেন, “মেঘালয়ের একটি হাসপাতাল থেকে তিনি ফোন করেছেন। শুধু বলেছেন আমি ভালো আছি। তোমরা আসার ব্যবস্থা করো”।
তবে কোন হাসপাতালে তিনি এবং কিভাবে সেখানে তিনি গেলেন তার কিছুই জানাননি তার স্ত্রী।
শিলং পুলিশের সুপার বিবেক শ্যাম
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার সকালে শহরের গলফ লিংক এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় ৫৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে তারা গ্রেপ্তার করেন। তার কাছে ভারতে ঢোকার কোনো কাগজপত্র ছিল না।
তখন পুলিশ জানত না যে তারা বাংলাদেশের সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাকে আটক করেছে। সালাহ উদ্দিন নিজেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দাবি করলে তা নিয়ে পুলিশের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
তখন পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে মেঘালয় ইনস্টিটিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সে (এমআইএমএইচএএসএস) পাঠায়।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বিএনপি সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বরাত দিয়ে সালাহ উদ্দিনের ফোন আসার খবর গণমাধ্যমে এলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়।
ওদিকে স্বামীর ফোন পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে তার বাসায় গেছেন হাসিনা আহমেদ।দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে তার গুলশানের বাসায় যান সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় ৪৫ মিনিট পর বেরিয়ে আসেন।

সেখানে তিনি বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাসএর তোপের মুখে পরেন। শিমুল বিশ্বাস তাকে বলেন, পারিবারিক ঝগড়া ঝাটির কারনে সালাহ উদ্দিন আহমেদ লুকিয়ে থেকে বিএনপিকে আরও বিপদে ফেলেছেন। যা অনুচিত কাজ হয়েছে। ঘড় ঠিক না রেখে এরকম নাটক করার কি মানে তিনি বার বার হাসিনাকে জিগ্যাস করতে থাকন। এসময় হাসিনা চুপ করে থাকেন।
সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ খালেদার অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে এসে তিনি নিজেই ফোন পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। হাসিনা আহমেদ সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, “ইনশাল্লাহ পাওয়া গেছে। আমি পরে আপনাদের ব্রিফ করব।”
গত ১০ মার্চ অচেনা এক দল লোক উত্তরার একটি বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে আর কিছুই মনে করতে পারছেন না বলে দাবি করলেও তার স্ত্রীর ফোন নাম্বার কিন্তু তার ঠিকই মনে আছে।
সিলেট সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের শিলংয়ে কিভাবে এলেন, তাও বলতে পারেননি ৫৪ বছর বয়সী বাংলাদেশে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। সন্দেহজনক আচরণের জন্য সোমবার সকালে শিলং পুলিশ আটকের পর সালাহ উদ্দিন নিজেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন।

তখন মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠায়। মানসিকভাবে সুস্থ আছেন বলে চিকিৎসকরা জানালে সালাহ উদ্দিনকে সরকারি অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে পুলিশ। মি. সিয়াম বলছেন, তার দেহে কোনো চোট বা আঘাতের চিহ্ন ছিলো না, কিন্তু তিনি নিজে হৃদরোগ আর লিভারের সমস্যা রয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের জন্য তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে পুলিশ।

ধারনা করা হয় তিনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারত হয়ে নেপালে গাঢাকা দিতে চেয়েছিলেন। তবে ভূমিকম্পের কারনে নেপাল সফর বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
তার স্ত্রী পারিবারিক অশান্তির কথা চেপে রেখে, দাবি করেন যে তার স্বামীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে সে অভিযোগ নাকচ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তাকে আটক করতে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধানে তার দলের ‘হাত রয়েছে’ বলেও সে সময় ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বামীর খোঁজ চেয়ে উচ্চ আদালতেও যান সাবেক সাংসদ হাসিনা আহমেদ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, তারাও এই বিএনপি নেতার কোনো খোঁজ জানে না।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কয়েকদিন আগেও অভিযোগ করেছিলেন যে মি: আহমেদ র্যাবের কাছে আছে।
view this link তবে র্যাব সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সবসময়ই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৫ রাত ২:৪০