
গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি সরকারের কড়া পদক্ষেপের কারণে বেশ কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেও এখন আবার কিছুটা সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে জেএমবির কয়েক সদস্য ধরাও পড়েছে। চট্টগ্রামে সংগঠনের এক সামরিক কমান্ডার নিজের গ্রেনেড বিস্ফোরণে প্রাণও হারিয়েছে। এদের কাছ থেকে বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্র, গ্রেনেড, গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার ও রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও এবং আরও আগে বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত এ জেএমবি জড়িত থাকার বিভিন্ন আলামত আসছে গোয়েন্দা তদন্তে। ইতোমধ্যেই ঢাকায় মিরপুর থেকে জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হবার তথ্য মিলেছে। এছাড়া নিষিদ্ধ জঙ্গী এই সংগঠন ইতোমধ্যে ভারি কিছু অস্ত্রশস্ত্রও যোগাড় করেছে। এসব অস্ত্রশস্ত্র আসছে পার্বত্যাঞ্চলের মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে। বিশেষ করে বান্দরবান অঞ্চল দিয়েই একে-৪৭, একে-২২, মর্টার লঞ্চার, এসএমজি গ্রেনেডসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছে জেএমবি।
চট্টগ্রামে সম্প্রতি জেএমবির এক সামরিক কমান্ডার ও সংগঠনের আত্মঘাতী স্কোয়াডের চার সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর নিজেদের গ্রেনেড বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় সামরিক কমান্ডার জাবেদ। এ ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ফারদিন নামে এক শীর্ষ জঙ্গী নেতার নাম বেরিয়ে এসেছে। যার হদিস এখনও মেলেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ফারদিনই মূলত অস্ত্র ও অর্থ যোগানের মূল হোতা। সিএমপি কমিশনার ও ঊর্ধতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ফারদিন কে, কোথায় তার বাড়ি, কাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আদ্যেপান্ত সবকিছু এখনও অস্পষ্ট। তবে গ্রেফতারকৃতরা তাকে শুধু সে নামেই চেনে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
এদিকে ইতালির নাগরিক তাভেলা ও জাপানী নাগরিক কুনিও হত্যা রহস্যের কোন কূল-কিনারা সোমবার পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। এই দুই বিদেশী হত্যার পর বিভিন্ন দেশ থেকে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং ঢাকায় নিযুক্ত যেসব বিদেশী দেশের রাষ্ট্রদূত ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন অবস্থায় ছিলেন সরকার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করায় তারা এখন অনেকটাই উৎকণ্ঠামুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। দুই বিদেশীসহ ইসলামী চিন্তাবিদ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা ঘটনার নতুন ক্লু নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিশেষ শাখার দুটি দল বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করে গ্রেফতারকৃত চার জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে। সোমবার এ চারজনের মধ্যে তিনজনকে নতুন করে আরও দু’দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। এই রিমান্ড নগরীর সদরঘাট এলাকায় ছিনতাই ঘটনার প্রেক্ষাপটে। তবে চারজনের ১৫ দিনের রিমান্ডের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ দিন অতিবাহিত হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরে জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নতুনভাবে গড়ে ওঠার খবরের পর এরা চট্টগ্রামে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে যে কয়েকটি হত্যাকা- ঘটেছে সে সবের পেছনে এদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। আর ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিদেশীসহ সেসব খুন হয়েছে সে ব্যাপারে আইএস নাম দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি তাদেরই পরিকল্পিত। মূলত জামায়াত-বিএনপির ইন্ধনে জেএমবি সদস্যরা এখন মাঠে কাজ করছে বলে পুলিশ নিশ্চিত। চট্টগ্রামে জেএমবির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন কোন ক্লু পাওয়া গেলে তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।
এদিকে চট্টগ্রামে জঙ্গী তৎপরতা নতুন করে চলার বিষয়টি পুলিশসহ সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় জেএমবি সদস্যরা গোপন আস্তানা গেড়েছে। সীতাকু-, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় গোপন আস্তানা গেড়ে এরা নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে বলে খবর পাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
পুলিশের ধারণা বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে বিএনপি ও জামায়াতের সহযোগিতায় জেএমবি সদস্যরা মাঠে নামার সাহস করেছে। এবং এর পাশাপাশি এদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় প্রধান ফারদিন বৃহত্তর চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নামটি একেবারেই নতুন। নামটি প্রকৃত না ছদ্ম তা এখনও অজানা। তবে নাম যাই হোক না কেন এমন এক প্রভাবশালী জেএমবি নেতা বৃহত্তর চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে সরকারবিরোধী নানা চক্রান্তে জড়িত। এ নিয়ে সিএমপির কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন এই নামটি তারা পেয়েছেন। তার কর্মকা- সম্পর্কেও জেনেছে। কিন্তু হদিস মেলানো এখনও কঠিন। কেননা, জেএমবির গ্রেফতারকৃত সদস্যরা তার নাম ফাঁস করেছে তারা তার নামটি ছাড়া আর কিছু জানে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জেএমবি আবার তৎপর হয়ে হত্যাকা-সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার তথ্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে গোয়েন্দা সংস্থা ও এসবির দুটি দল চট্টগ্রামে গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন ক্লু বের করা যায় কিনা তা নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



