somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তালপাতারসেপাই
যাহা বলিব সত্য বলিব

ফেরত পাঠানো ২৭ জনের ১৪ জনই আনসারুল্লাহর সদস্য!

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এরই মধ্যে মামলা করে কয়েক দফায় পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখন ওই ১৪ জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে রয়েছেন। আর যাচাই-বাছাই শেষে বাকি ১৩ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তারা নজরদারিতে রয়েছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।



গতকাল বুধবার মামলার তদারকি কর্মকর্তা ডিবির ডিসি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ সমকালকে বলেন, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৭ জনের মধ্যে ১৪ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতাদর্শে বিশ্বাসী। সিডি-ডিভিডির মাধ্যমে তারা এবিটি নেতা জসীমুদ্দীন রাহমানির বয়ান শুনতেন। তবে তাদের সঙ্গে এখনও আইএস বা আল কায়দার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।



সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ করলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এ ব্যাপারে গত ২৮ ডিসেম্বর সমকালের ১৯ পৃষ্ঠায় 'রিমান্ড শেষে ১৪ জঙ্গি জেলহাজতে' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। গত ডিসেম্বরে কয়েক দফায় জঙ্গি সন্দেহে ২৭ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে একাধিক সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সরকারও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেয়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে একজনকে ফেরত পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর পর বিষয়টি নিয়ে প্রথমে 'লুকোচুরি' করা হয়। এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে চাননি।




সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন_ টাঙ্গাইলের আমিনুর, আবদুল আলীম, শাহ আলম, কুমিল্লার গোলাম জিলানী, মাহমুদুল হাসান, নুরুল আমিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাফর ইকবাল, ঝিনাইদহের আকরাম হোসেন, চুয়াডাঙ্গার আবদুল আলী, ঢাকার সাইফুল ইসলাম, পাবনার আশরাফ আলী, কুড়িগ্রামের আলম মাহবুব, মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মদ জসীম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডলার পারভেজ।




ডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা বিভিন্ন সময় শ্রমিক হিসেবে সিঙ্গাপুর যান। তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা এক যুগ আগেও সিঙ্গাপুর গেছেন। তারা সিঙ্গাপুরের মোস্তফা মার্কেটের কাছে অ্যাঙ্গোলিয়া নামে একটি মসজিদে সপ্তাহে অন্তত একদিন জড়ো হতেন। অধিকাংশ সপ্তাহের রোববার তারা মিলিত হতেন। সেখানে জিহাদি ভিডিও প্রদর্শন করা হতো। তাদের মধ্যে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ড, জসীমুদ্দীন রাহমানির বয়ান নিয়ে আলোচনা হতো। উগ্রপন্থি বই প্রকাশের জন্য তারা বাংলাদেশে টাকা পাঠাতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সন্দেহভাজন ১৪ জনের কেউ কোনো উগ্রপন্থি অপারেশনে সরাসরি জড়িত_ এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।




দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব কর্মকাণ্ড অনেক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। পরে তাদের আটকের পর প্রথমে সেখানকার কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর কয়েক দফায় ২৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠায় সিঙ্গাপুর পুলিশ। সর্বশেষ জঙ্গি সন্দেহে ফেরত পাঠানো হয়েছে নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে। ডিবি পুলিশের দাবি, নাজমুলের সঙ্গে উগ্রপন্থি কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে সিঙ্গাপুরে 'মারামারি'তে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।




সিঙ্গাপুরে বসবাস করে কীভাবে ওই ১৪ জন এবিটির মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেন_ এমন প্রশ্নে মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এটা মোটেও অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়। ইন্টারনেটে খুঁজলেও রাহমানির অনেক বয়ানের লিঙ্ক পাওয়া যায়। এই চক্রটি অন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে মসজিদে উদ্বুদ্ধ করত। এরই মধ্যে কেউ কেউ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে ফেরত আসার পর তাদের মধ্যে অনেকে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে_ এমন চিন্তাভাবনা কারও কারও মধ্যে ছিল। সিঙ্গাপুরফেরত কয়েকজন বাংলাদেশে থাকাকালে জসীমুদ্দীন রাহমানির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তবে কেউ কখনও পুলিশের হাতে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হননি। কয়েকজন 'আহলে হাদিসের' অনুসারীও আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক এজাজ শফি জানান, এজাহারভুক্ত ১৪ জনকে আবার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৬:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×