
লন্ডন থেকে উড়ে এসে গোপনে নিউইয়র্কে রাতের আঁধারে ম্যানহাটানের এক নামী হোটেলে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির প্রতিক্ষারত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর পরিবার ও মার্কিন আইনজীবীদের সাথে কি শলামর্শ করে গেলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক?- এই বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে কানাঘুষা চললেও কেউ জানেন না কি মিশন নিয়ে এসেছিলেন দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানকারী জামাতের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজ্জাক।
এদিকে গত ১১ জুলাই সোমবার রাত ১১টার পর ম্যানহাটানের ১২৫ ইস্ট ও ৫০ স্ট্রীটের একটি আলো ঝলমলে হোটেলে যখন সবাইকে ঢুকছিলেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক তখন আশে পাশে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত অনেক বাংলাদেশীর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি বিষয়টি। প্রত্যক্ষদর্শী একজন বর্ণমালা‘কে জানিয়েছেন বেঞ্জামিন হোটেল ঢুকে লাউঞ্চে বসে ব্যারিস্টার রাজ্জাক সবাইকে নিয়ে ঘন্টা খানেক কথাবার্তা বলেন। অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছেন এ সময়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর একপুত্রও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আর ও ছিলেন মীর কাসেম আলীর ছোট ভাই মীর মাসুম আলী, যিনি নিউইয়র্কে থেকে বিগত বছরগুলোতে বিশাল অংকের অর্থ একটি লবিং ফার্মকে দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে মার্কিন প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে। এসময়ে মুসলিম উম্মাহ ও জামাতকে সমর্থন দিতে গড়ে উঠা ‘কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন’র কোন কোন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন বলেছেন সূত্রটি।
এদিকে দেশে গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বর্বর হত্যাকান্ড ও সোলাকিয়ার ঈদ জামাতের পাশে সন্ত্রাসী হামলার পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাকের নিউইয়র্কে গোপন মিটিং করার বিষয়টি নজরে রাখছে বাংলাদেশ সরকার। নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি মনিটরিং করে ইতোমধ্যেই ঢাকাকে জানিয়েছেন বলে জানতে পেরেছে বর্ণমালা।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বর্ণমালা‘কে। ড. সিদ্দিক বর্ণমালা‘কে বলেন, আমরা এই গোপন মিটিংয়ের খবর জেনেছি এবং আমেরিকার আইন অনুযায়ী যা কিছু করার তা করবো এবং এতে কোন দেশবিরোধী কিছু থাকলে তা আইনানুগভাবেই প্রতিহত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এর আগেও বিএনপি-জামাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তারপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এবং জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করে নিজেরাই তাতে ফেঁসে গেছে। তাদের অনেকেই এখন আমেরিকার কারাগারে দিন কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাসিব মামুন গত ১২ জুলাই জ্যাকসন হাইটসের একটি প্রতিবাদ সভায় ব্যারিস্টার রাজ্জাকের গোপন মিশনের উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক থেকে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের এই গোপন মিশন।
এর আগে গত মাসে নিউইয়র্কের মটগেজ জালিয়াতিতে দন্ডপ্রাপ্ত জ্যাকব মিল্টন ওরফে সাব্বির আহমেদ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ইসরাইলী ক্ষমতাসীন দল লিক্যুদ পার্টি নেতা মেন্দি এন সাফাদির সাক্ষাৎকার নেবার সময় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানান। জ্যাকব মিল্টনের একটি টিভি অনুষ্ঠান ‘উই আর দ্যা পিপল’ এবং তার জ্যাকসন হাইটস অফিসে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক মহিলানেত্রীও কাজ করেন। মেন্দি সাফাদির সাক্ষাৎকার এবং সরকার বিরোধী কয়েকটি টিভি অনুষ্ঠানে ঐ মহিলানেত্রী সহকারী হিসাবে আর্বিভূত হয়েছিলেন।
এদিকে ইসরাইলী রাজনৈতিক মেন্দি এন সাফাদি ওয়াশিংটনে একটি লবিস্ট ফার্ম পরিচালনা করেন। আর তাই কেউ কেউ ধারণা করছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাকের গোপন মিশন কি শেষ পর্যন্ত ফাঁসির অপেক্ষমান জামাত নেতা মীর কাসেম আলীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসাবে মেন্দি সাফাদির লবিস্ট ফার্মের শরাপন্ন হবে নাকি নতুন কোন উপায় বের করতেই আমেরিকায় এসেছেন জামাত নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাক?
সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

