somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশে ফের তৈরি হবে ঢাকাই মসলিন

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া ঢাকাই মসলিন পোশাক এত সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ কাপড় একটি দিয়াশলাই বাক্সে রাখা যেত। মসলিন শাড়ি সম্পর্কে এই কিংবদন্তি বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত।

সোনালি ঐতিহ্যের সেই মসলিন আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদকালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় বুননের বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক ও বায়োটেকনোলজি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মো. মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম করে দেওয়া হয়েছে। ওই টিমের অপর দুই সদস্য হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আলম এবং অ্যাগ্রোনোমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁত বোর্ডের সদস্য নিমাই চন্দ্র পাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত টিম বাংলাদেশের যেসব এলাকায় মসলিনের সুতা তৈরির উপযোগী ফুটি কার্পাস তুলা উৎপাদন হয় তা খুঁজে বের করবে। আর বাংলাদেশে এ ধরনের তুলা এখন না পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে সমজাতীয় তুলা এনে মসলিন সুতা তৈরির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। দেশে আবারও হারানো মসলিন ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে সোনালি ঐতিহ্যের মসলিন তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে একটি সভাও করেছে। ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রসঙ্গত, মসলিন হলো তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম কাপড়। এটি তৈরি হতো ‘ফুটি কার্পাস’ নামের এক ধরনের সূক্ষ্ম তুলা থেকে। মসলিনের ইতিহাস নিয়ে অনেক গল্পগাথা প্রচলিত রয়েছে। মসলিন কাপড় এত মিহি ছিল যে ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চওড়া এমন একটি কাপড় একটা ছোট আংটির মধ্যে দিয়ে অনায়াসে চালাচালি করা যেত বলে কিংবদন্তি রয়েছে। মুঘল আমলে সতেরো শতকে মসলিন শিল্প বিকাশ লাভ করেছিল ঢাকার সোনারগাঁ আর আশপাশের অঞ্চলে। এ কারণে এটি ঢাকাই মসলিন বলে পরিচিত ছিল। এই মসলিন রপ্তানি হতো ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তবে সস্তা কাপড়ের ভিড়ে আঠারো শতক থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে জগদ্বিখ্যাত পোশাক ঢাকাই মসলিন।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া ঢাকাই মসলিন পোশাক এত সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ কাপড় একটি দিয়াশলাই বাক্সে রাখা যেত। মসলিন শাড়ি সম্পর্কে এই কিংবদন্তি বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত।

সোনালি ঐতিহ্যের সেই মসলিন আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদকালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় বুননের বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক ও বায়োটেকনোলজি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মো. মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম করে দেওয়া হয়েছে। ওই টিমের অপর দুই সদস্য হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আলম এবং অ্যাগ্রোনোমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিল এক্সটেনশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁত বোর্ডের সদস্য নিমাই চন্দ্র পাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত টিম বাংলাদেশের যেসব এলাকায় মসলিনের সুতা তৈরির উপযোগী ফুটি কার্পাস তুলা উৎপাদন হয় তা খুঁজে বের করবে। আর বাংলাদেশে এ ধরনের তুলা এখন না পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে সমজাতীয় তুলা এনে মসলিন সুতা তৈরির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। দেশে আবারও হারানো মসলিন ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে সোনালি ঐতিহ্যের মসলিন তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে একটি সভাও করেছে। ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রসঙ্গত, মসলিন হলো তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুত করা এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম কাপড়। এটি তৈরি হতো ‘ফুটি কার্পাস’ নামের এক ধরনের সূক্ষ্ম তুলা থেকে। মসলিনের ইতিহাস নিয়ে অনেক গল্পগাথা প্রচলিত রয়েছে। মসলিন কাপড় এত মিহি ছিল যে ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চওড়া এমন একটি কাপড় একটা ছোট আংটির মধ্যে দিয়ে অনায়াসে চালাচালি করা যেত বলে কিংবদন্তি রয়েছে। মুঘল আমলে সতেরো শতকে মসলিন শিল্প বিকাশ লাভ করেছিল ঢাকার সোনারগাঁ আর আশপাশের অঞ্চলে। এ কারণে এটি ঢাকাই মসলিন বলে পরিচিত ছিল। এই মসলিন রপ্তানি হতো ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তবে সস্তা কাপড়ের ভিড়ে আঠারো শতক থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে জগদ্বিখ্যাত পোশাক ঢাকাই মসলিন।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×