somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৮ বিহারি ক্যাম্পে ৭৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেশে বিহারি ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়লেও বিল পরিশোধ করছে না এসব ক্যাম্পের বাসিন্দারা। ১৯৯২ সালের জরিপ মোতাবেক দেশের ১৭টি জেলায় ৭০টি বিহারি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের মধ্যে দুটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন ৮টি বিহারি ক্যাম্পেই বিল বকেয়া পড়েছে ৭৬ কোটি টাকার বেশি। সম্প্রতি এই ৮ ক্যাম্পের বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) আওতাধীন ৮টি বিহারি ক্যাম্পে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে পিডিবির আওতাধীন ক্যাম্পে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে। এ ছাড়া ডেসকোর আওতাধীন ক্যাম্পে গত অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। বিশাল অঙ্কের এই বকেয়া পরিশোধের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা এদেশে সব ধরনের নাগরিক সুবিধাই গ্রহণ করছে। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকের মতোই রাষ্ট্রের সব ধরনের সেবামূল্য তাদের পরিশোধ করা উচিত। কিন্তু তারা তা করছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী এদেশে আটকে পড়া উর্দুভাষী অবাঙালিদের (বিহারি) সকল প্রকার বিল দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব বিল পরিশোধ করে। কিন্তু যখন আটকে পড়া এসব অবাঙালিরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছেন তখন কনভেনশনের শর্ত মানা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন সরকারের উচিত তাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া। এদের কেউই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। দীর্ঘদিনের এই বকেয়া বিল পেতে বিদ্যুৎ বিভাগ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে দেনদরবার করলেও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তা আদায় করা যাচ্ছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে পাঁচ লাখ বিহারি রয়েছেন। এদের মধ্যে দেড় লাখেরও বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উচ্চ আদালতের এক রায়ে বলা হয়েছে, যাদের জন্মস্থান বাংলাদেশে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। আদালতের এই আদেশের পর অর্ধেকেরও বেশি বিহারি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পে বসবাস করায় তাদেরও আটকে পড়া পাকিস্তানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ তারা সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হয়ে যায়। তৎকালীন সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুসলমানরা মুসলিম দেশে বাস করতে আগ্রহ দেখায়। ওই সময় পাকিস্তান সরকার কৌশলে তাদের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশে থাকার ব্যবস্থা করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবাঙালি উর্দুভাষীরা পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রেডক্রস বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় উর্দুভাষী অবাঙালিদের বসবাসের জন্য ক্যাম্প স্থাপন করে। যা জেনেভা ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে মক্কাভিত্তিক এনজিও রাবেতা আল ইসলাম বাংলাদেশে বসবাসকারী উর্দুভাষী অবাঙালিদের ওপর জরিপ করে। সেই জরিপ মোতাবেক দেশের ১৭টি জেলায় ৭০টি ক্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ৬টি ও মিরপুরে ২৫টি। বাকি ৩৯টির মধ্যে বগুড়া, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর ও নীলফামারীতে একটি করে, নারায়ণগঞ্জে ৩টি, যশোরে ৯টি, রংপুরে ২টি, রাজশাহীতে ২টি, চট্টগ্রামে ৫টি, ঈশ্বরদীতে ৪টি ও খুলনায় ৫টি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের বসবাসকারীরা নাগরিক সুবিধা নিলেও এর বিপরীতে সেবামূল্য পরিশোধ করছে না।

সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:২৭
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×