রাজশাহী ভার্সিটির এক ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম ।
- ভাই ইন্টারনেট না থাকলে অনেক ভালো হতো '
অবুঝের মতো কথা বলে ফেলে অনার্স পড়ুয়াটা । সম্প্রতি ওই ভার্সিটির এক টিচারের ফেসবুক স্টোরিতে শেয়ার হয়ে গেছে ফোনে রাখা প্রশ্নপত্র । ভুলক্রমে হয়েছে । তিনি আবার আরেকজন টিচারের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাসের অভিযোগ এনেছেন । সেখানে যে খেলা চলছে তাতে জোর করে অন্তভুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা দোষ না বুঝেই অবুঝের মতো দোষী বানাচ্ছে আন্তজালকে । দোষী অবশ্যই ইন্টারনেট তবে এই আন্তজাল নয় । তাকে বলি,
ভাই তোমরাই নাকি সিলেটের ভার্সিটিতে নেটের স্পিড নিয়ে তুলকালাম কান্ড বাধিয়েছিলে !
এই যুদ্ধকালীন সময়ে জালের যোগাযোগ না পেয়ে চমকে উঠি । সকাল সকাল ভাগ্নে ঘুম জাগিয়ে তুলেছে । একটু পর তার অনলাইনে ক্লাস । রাউটারে চোখ রাখি । হলুদ সবুজ বাতিরা টিপ টিপ করছে । কোথাও লালবাতি নেই , সব ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে । পরমানু বোমা ফুটল নাতো ! নেট বন্ধ হয়ে যাবার লেটেস্ট কারণ হতে পারে । এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার দেরী আছে । তখন নেট স্লো থাকবে সকালে । এমনটা সরকারী নিয়ম ছিলো করোনার আগে । দ্রুত টিভির সামনে যাই বিটিভি সিএনএন যমুনা নিউজ দেখি । কোনো সমস্যা নেই ।
নেট সার্ভিস প্রভাইডারকে ফোন দিব ভাবি , দেখি নেট ঠিক হয়ে গেছে । সকালে জুম ক্লাস শুরু হবার সময় প্রায় দিনই এমন হবে । ক্লাস চলাকালীন সময়েও হবে । প্রভাইডার বলে সকালের দিকে নেটে চাপ বেশি থাকে , কয়দিন পর আর অনলাইন ক্লাস হবে না তখন ঠিকঠাক থাকবে । আমি তো মাঝে মাঝেই পাই বললে বেয়ারা প্রভাইডার বলে টুকটাক সমস্যা থাকবেই, চালালে চালান না চালালে ......
নেটের ব্যবসা পাড়া মহল্লা ভিত্তিক হয়ে গেছে । নিজের এলাকায় অন্য কেউ নেই । এক এলাকায় দু তিনজন গর্বিত সার্ভিস প্রভাইডার । বাড়ি প্রতি ভাগাভাগি। ছোট্ট শহরটায় দুইটা ব্যবসা জমজমাট। তাদের একটা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র । মানুষের নেট খুব জরুরি, মাদকদ্রব্যে আসক্ত হবার পর নেশা ছাড়ানো জরুরি । ফেসবুক ,ইউটুব ,গুগলে ,পাবজিতে আলাদা ক্যাশ সার্ভার জরুরী । খুব সাধারণ ইন্টারনেটের ব্যবহার উপযোগীতা করা , স্পিড ব্যাপারগুলো বিদ্যুত থাম্বায় জড়ানো পেচানো গচ্ছিত কেবলের সাথে জড়িয়ে পেচিয়ে গেছে । সেই থাম্বার নিচ দিয়ে হাটতে ভয় হয় ।
মোবাইলে নেটে খুব বেশি সমস্যা নেই । টাকা থাকলে ইন্টারনেট ৫ জি । যার নেই তাদের অনলাইন জুম ক্লাসে পাওয়া যাবে না । তারা ফেসবুকে সময় দেয় না , ইউটুবে তামিল মুভি দেখেনা , অনলাইন লুডু খেলে পাবজি খেলা পোষায় না । এরা সাধারণ মানুষ , এরা আন্তজালে মোড়ানো কোনো ভার্সিটির টিচার হতে পারবে না । এরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে ।
রাজশাহী ভার্সিটিতে পড়ুয়া ভাইটিকে উপদেশ দেয়া শেষ করি । বেচারা নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে ফেলেছে । সৌভাগ্যবান মনে ভার্সিটির আন্তজাল নিয়ে উথাল পাতাল !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

