জীবনে কিছু জিনিস এড়ানো সম্ভব নয়, যেমন মৃত্যু কিম্বা শহরে থাকলে ট্রাফিক জ্যাম। কি? মনে পড়ে গেল ধুলাবালি, প্রচুর মোটরসাইকেল, মোটর গাড়ি আর সূর্যের চাচাছোলা গরম। মনে না পড়লেও নিশ্চিত থাকেন আগামীকাল আপনার ভ্রমনে অপেক্ষা করছে রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়া , সর্বকালের সর্বসেরা ও জনপ্রিয় শারীরিক মানসিক এক যন্ত্রণা, নাম - ট্রাফিক জ্যাম।
আসেন দেখে নেই জ্যামে পরে আপনি কি কি করতে পারেন -
১ । জ্যামে পড়ামাত্র অফিস কিম্বা যেখানে যাবেন সেখানে জানিয়ে দিন আপনার দেরী হবে
২ । রেডিও বা গান শুনুন , বিরক্ত লাগলে
৩ । যারে তারে ফোন দিয়ে কথা বলুন , কথা শেষ হয়ে গেল অথচ জ্যাম না ছাড়লে
৪ । মোবাইলে ফেসবুকিং করুন , এতেও বিরক্ত হলে
উপরের সব আবার রিপিট করেন। রিপিট করতেই থাকেন ।
আমি এগুলোই করি । আপনি নাও করতে পারেন । ফোন করে প্রিয়জনের সাথে কথা বলেন। শেয়ার বাজার কিম্বা ন্যাটো রাশিয়া নিয়ে নিজের সাথে কথা বলেন । পাশের সিটে , ভেহিকেলে সুন্দর - সুন্দরী থাকলে তার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করতে পারেন । বাসে থাকলে ঘুমানো কঠিন হয়ে যায় । সবচে ভালো হয় গন্তব্যের দিকে হাটা শুরু করা , তবে ভালো হইলেও এই কাজটা অনেক কঠিন ।
রমজান মাসে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে । রমজান শেষ হয়ে গেলেও ভয়াবহ অবস্থা চলতেই থাকবে। বিরক্তিকর , জগন্য এসব বলেও কোনো লাভ নেই । এমনিতেই মানুষ তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে । ভাজা পোড়া খাওয়া কমে যাচ্ছে । শরীরে চর্বির অভাব প্রকট। গরমে সিদ্ধ হলে শরীরের অরিজিনাল মাংস গলতে শুরু হবে এবার। নিজস্ব্ গাড়িতে যারা যাতায়ত করেন তাদের নিয়ে ভাবার দরকার নেই , তারাও মোটরসাইকেল যানের ঠেলায় বেশিদূর নজর প্রসারিত করতে পারেন না। এরা রাতে জাগে দিনে ঘুমায় , জেগে জেগেও ঘুমায় । এদের জন্য জ্যাম এক ধরনের নিষিদ্ধ ভালোলাগা।
যেহেতু অবস্থার উন্নতি হবার কোনো সম্ভাবনা নাই কিম্বা আদৌ হবে কিনা এইটাই কেউ জানে না , তাই নিজে কি কি করেছেন কিম্বা করবেন এই জ্যামের অখন্ড অবসরে , তা অন্যদের জানিয়ে দেই। উপদেশ মূলক বেকার এই কার্যক্রম কারো কাজে দিলে আপনার জন্যে খাস দিলে দোআ হবে ।
আমার খুব ইচ্ছে করে শীতের সময় পরার জন্য , নিজের জন্য , একটা উলের সোয়েটার বানাতে । উল বুনতে বুনতে বানানোর বানানো হলো , শীতের কথা মনে করে একটা আরামদায়ক ফিলিংসও আনা গেল।

ছবি : কলকাতা বাংলা মুভি 'সোয়েটার' থেকে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

