somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুপকথা

১৫ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে মেরে ফেলা হলো। মানুষের পর এবার আমার নতুন জন্ম হলো 'লাশ' হিসেবে।

রুপা কথা বলে...

১২ই সেপ্টেম্বর, হ্যাঁ, মৃত্যুর পর আমি নিজেও খুঁজেছি আমার মৃত্যুর সঠিক ক্ষণ-দিন-তারিখ। কারণ অনেক কিছু ঘটে যায় সেই একটা দিনে। দিনের শুরু থেকেই কিংবা তারও শুরুর শুরু থেকে আরম্ভ হয়ে যায় আমার মৃত্যুর আয়োজন— পৃথিবী আমার ঘুণাক্ষরেও টের পায় না, কেবল কতকগুলো আভাস আর কেমন কেমন সন্দেহের দ্বাররক্ষীরা ছাড়া।

আমরা যে মরে যাবো এটা আমরা জানি। যে-কোনো সময় মরে যাবো এও জানি। কিন্তু মৃত্যুর ওপর দমকা হাওয়া বুলিয়ে জীবনকে আরেকটু যাপন করে নেওয়ার তৃষ্ণা আমাদেরকে অদ্ভুত এক উদাসীনতায় ঘরবন্দী করে নেয়— আমরা জেনেও অনেক কিছু না জেনে থাকার ভানে নিশ্চিন্ত থাকি!

আমিও অমনই নিশ্চিন্ত ছিলাম। হয়তো বিধাতাকে বরাবরই এটা বলছিলাম, ‘তুমি তো এখনই আমাকে মৃত্যু দিচ্ছো না, তাই না? তাই কি? প্লিজ দিও না! আমার কিছু কাজ আছে! হাহাহা, কী রসিকতা!’

নিজেই হেসেছিলাম নিজের বক্তব্যে। কিন্তু বিধাতাও যে হেসেছিলেন, সেটা আমি দেখতে পাইনি। আন্দাজেই থেকে থেকে আমার আন্দাজের বাইরে চলে যাচ্ছিলো তাঁর সেই প্রজ্ঞাপ্রবন হাসি!

আজ, এখন এতো রাগ এতো অভিমান এতো ঘৃণা আমার কাজ করছে নিজের ওপর যে, মনে হচ্ছে সেটা দেখেও তিনি হাসছেন আর বলছেন- ‘আমি বরাবরই তোমার ওপর।’

কিন্তু বিধাতা, কেন, যখন মৃত্যুই দেবে তখন এভাবে কেন? কেন এভাবে কেন কেন? কাঁদতে কাঁদতে আমি আমার লাশের সামনে এসে যাই, যাকে এখন দেখলে আমি আর চিনতে পারি না! ভেতরটাকে ছারখার করে দিচ্ছে আমার আমারই এই অজ্ঞতা!


জীবিত মানুষগুলোও শুনেছি চেনেনি আমায়, বা হয়তো, চিনতে চিনতে রসিকতায় মেতেছে, যেমনটা কখনো আমিও মাততাম! আমার লাশের মুখ নিচু হয়ে আসে আমার কল্পনায়। আমার খুব করুণ লাগে তার জন্য। আমার খুব খারাপ লাগে। হঠাৎ মনে হয়, বিধাতা হাসি থামালেন। এবং বললেন...

শুনে আমি স্তম্ভিত হতে পারি না। কারণ সবটাই আমার জানা। আমি সবকিছুরই সাক্ষী এই প্রকৃতির মতো। তবে একথাও সত্য যে ঐ লাশে আমি তেমন কোনো সাক্ষ্য ছেড়ে আসিনি। যদি চাইতাম, যদি গুছিয়ে গুছিয়ে ভেবেচিন্তে দিনক্ষণ ঠিক করে আমার মৃত্যু হতো, তবে হয়তো কিছু সাক্ষ্য রেখে আসতে পারতাম। পারতাম!


আমার বড্ড গরম লাগে। আমার বড্ড ঠাণ্ডাও লাগে। একা লাগে করুণ লাগে! প্রচণ্ড জোরে পৃথিবীটাকে দুমড়ে মুচড়ে থেঁতলে দিতে ইচ্ছা করে। মাথা, মাথা থেঁতলে দিতে ইচ্ছা করে! মুখগুলোকে কেটে ফেলতে ইচ্ছ করে! জানিনা, জানিনা কার! আমি কাঁদতে থাকি আমার লাশের পাশে। আমি কাঁদতে থাকি আমার পাশে

বিধাতা আমার চোখ মুছে দেন এবং বলেন...







.................................................

" be patient; wait
That the word mature
This body and, as a fruit
To pass the wind that deserve it ".
~Eugénio De Andrade
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ১২:২৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×