somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে চাই নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন আর ব্যক্তিগত সচেতনতা

২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। পৃথিবীতে ২৫ বছরের উর্ধে জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বিশ্বে প্রতি বছর ১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপ এবং এর আনুষঙ্গিক জটিলতায় মৃত্যু বরণ করে। নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শতকরা ৮০ ভাগ লোকের মৃত্যুবরণের কারন উচ্চ রক্তচাপ।

উচ্চ রক্তচাপের কারনঃ

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ, যে কোন সময়। তবে উচ্চ রক্তচাপের জন্য মূলত পারিবারিক বা বংশানুক্রমিক কারন, অতিরিক্ত ওজন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়।


উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণঃ


(১) মাথা ব্যথা
(২) ঘাড় ব্যথা
(৩)চোখে ঝাপসা দেখা বা অস্বস্তি বোধ।
(৪) চোখ, কিডনি, বা হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে পক্ষাঘাত হতে পারে।

হৃদপিণ্ডের চাপঃ


হৃদপিণ্ডের চাপ দুই ধরনের হয়ে থাকে। সিস্টোলিক চাপ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ।



সিস্টোলিক চাপঃ


এ ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়, রক্তচাপ বাড়ে এবং ধমনী গুলো সংকুচিত হয়। সুস্থ সবল হৃদপিণ্ডের সিস্টোলিক চাপ কমপক্ষে থাকা উচিত ১২০ এর কম। ১২০-১২৯ হলে স্বাভাবিক এবং ১৩০-১৩৯ মাত্রার চাপকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি বলে ধরে নিতে হবে।

ডায়াস্টোলিক চাপঃ


এ ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ড শিথিল বা প্রসারিত হয়। রক্ত চাপ কমে এবং হৃদপিণ্ড রক্তে পূর্ণ হয়ে যায়। ডায়াস্টোলিক চাপ কমপক্ষে থাকা উচিত ৮০ এর কম। ৮৫ এর কম হলে তা স্বাভাবিক এবং ৮৫-৮৯ মাত্রার চাপ হলে তাকে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি বলে গণ্য করতে হবে।

উচ্চ রক্ত চাপের প্রকারভেদঃ

সিস্টোলিক, ডায়াস্টলিক
(১) গ্রেড-১ ( মৃদু উচ্চ রক্তচাপ)ঃ ১৪০-১৫৯, ৯০-৯৯
(২) গ্রেড-২ (মাঝারি উচ্চ রক্তচাপ)ঃ ১৬০- ১৭৯ , ১০০-১০৯
(৩) গ্রেড-৩ ( অত্যন্ত বেশি)ঃ ১৮০ বা বেশি, ১১০ বা বেশি

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের উপায় ঃ

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। একটু সচেতন থাকলে এটি সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জীবন যাত্রার নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরী। স্বাস্থ্যকর জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের জীবন যাত্রায় একটু পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে উচ্চ রক্তচাপ মুক্ত সুস্থ জীবন।


জীবনযাত্রা পরিবর্তন পদ্ধতিঃ


(১) ওজন নিয়ন্ত্রণঃ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধির আনুপাতিক হারে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। নিজ উচ্চতা এবং দেহ গঠনের উপর ভিত্তি করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যারা উচ্চ রক্ত চাপের ঔষধ খান, নিয়ন্ত্রিত ওজন তাদের ক্ষেত্রে ঔষধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।


(২) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমঃ সপ্তাহে ন্যুনতম ৫ দিন ৩০-৬০ মিনিটের ব্যায়াম রক্ত চাপ ৪-৯ মিঃ মিঃ পর্যন্ত কমাতে পারে। যারা ইতিমধ্যে উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এটি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসাবে কাজ করে।



(৩) পুষ্টিকর খাবার গ্রহনঃ পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ১৪ মিঃ মিঃ পর্যন্ত রক্ত চাপ কমাতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় শস্য জাতীয় খাবার, প্রচুর ফল মূল এবং শাক এর পরিমান বৃদ্ধি করে কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার কমাতে হবে। না খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে বরং প্রতিবেলায় পরিমিত খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।



(৪) অতিরিক্ত লবন পরিহারঃ খাবার গ্রহনের সময় অতিরিক্ত লবন পরিহারে রক্তচাপ ২-৮ মিঃ মিঃ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। প্যাকেট জাত খাবার কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে সোডিয়াম লবনের পরিমান দেখে কেনা উচিত। পাতে আলগা লবন নেয়া এবং অতিরিক্ত লবন সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন –পনির, পটেটো চিপ্স, শুঁটকী ইত্যাদি পরিহার করা উচিত।



(৫) ধুম পান পরিহারঃ ধূমপানের অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি তা ১০ মিঃ মিঃ পর্যন্ত রক্ত চাপ বাড়াতে পারে। তাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।



(৬) অতিরিক্ত চা / কফি পান পরিহারঃ রক্তে ক্যাফেইনের পরিমান বেড়ে গেলে তা অনিদ্রা, ক্ষুধামান্দ্য রোগের কারন হতে পারে। ফলশ্রুতিতে বাড়তে পারে রক্ত চাপ।



(৭) দুশ্চিন্তা পরিহারঃ অকারন দুশ্চিন্তা রক্ত চাপ বাড়ায়। জীবনের যে সকল ঘটনাবলী মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা নিয়ে অহেতুক টেনশন না করে যার যার ধর্ম মতে প্রার্থনায় মনোনিবেশ করলে দুশ্চিন্তার প্রবনতা কমে আসে।



(৮) নিয়মিত রক্ত চাপ মাপাঃ যাদের উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ঔষধ গ্রহন করা উচিত। অনেকে ঔষধ সেবনের পর রক্ত চাপ স্বাভাবিক দেখে হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করে দেয় যা মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০-৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের স্মরণ রাখা উচিত যে পরিমিত মাত্রার ঔষধ দ্বারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু ঔষধ বন্ধ করা কিংবা ঔষধের মাত্রা বাড়ানো কমানো শুধু মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।



(৯) উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের অবগত করাঃ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে অনেকে নিজের রোগ চেপে থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ করেন না। ফলশ্রুতিতে পরিবারের সদস্যগণ অজ্ঞতাবশত রোগীর জীবনে উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারেন। এর ফলে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। তাই পরিবারের সকলের সাথে উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ে কথা বলুন, এর প্রতিকার আর প্রতিরোধ সম্পর্কে নিজে জানুন এবং অন্যদের ও জানতে সাহায্য করুন।


“ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে যার, নিরাপদ জীবন তার” – এ শ্লোগান নিয়ে এ বছর উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস- ২০১ ৩ ; উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে চাই এর ক্ষতিকর প্রভাব, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি। আসুন আমরা সকলে সচেতন হই। উচ্চ রক্তচাপের রাহু থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি এবং অন্যকেও এ ব্যাপারে সজাগ করে তুলি। উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। পৃথিবীতে ২৫ বছরের উর্ধে জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বিশ্বে প্রতি বছর ১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপ এবং এর আনুষঙ্গিক জটিলতায় মৃত্যু বরণ করে। নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শতকরা ৮০ ভাগ লোকের মৃত্যুবরণের কারন উচ্চ রক্তচাপ।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×