somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিকনিকের মজা...

১১ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্টে গিয়ে শুনি পিকনিক হবে। আমাকে তখন আর পায় কে? পিকনিকের স্থানের নাম শুনেই মনে পড়ল বহুবার গুনগুন করে গাওয়া সেই গানের কথাগুলো_ তোমায় নিয়ে নাও ভাসিয়ে যাব তেপান্তর...। ভাবলাম নাও ভাসিয়ে তেপান্তর যেতে না পারলেও এবার অন্তত বাসে করে তেপান্তর যাওয়া যাবে। পিকনিকের দিন 4 মার্চ, বাস ছাড়ার সময় সকাল 8টা আর রিপোর্টিং সকাল সাড়ে 7টা। রিপোর্টিংয়ের সময়ের কথা শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ ঘুমকাতর আমি কতদিন যে ঘুমের জন্য সকালের ক্লাস মিস করেছি। এসব ভেবে মোবাইল ফোনে চারটা অ্যালার্ম দিয়ে রাখলাম। অবশেষে ভাগ্য খুবই সুপ্রসন্ন বলে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে পেরেছিলাম। তড়িঘড়ি করে ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি এখনো অনেকেরই আসার বাকি। যা হোক হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
গুনগুন করে গান গাইতে ছিলাম। কি নামে যে ডাকি...। বাসে ওঠার সময় মনে হলো কোন বাসে যে উঠি। কয়েকজন অতিচালাক বন্ধু আবার মেয়েদের আধিক্য যে বাসে সে বাসে গিয়ে উঠল। এদিকে আমাদের বাসের কয়েকজনের আফসোস, তারা বড় ধরনের মিস করে ফেলেছে। এ ভুলের উসুল বুঝি আর কখনোই হবে না। ডিপার্টমেন্টের রূপসী বলে কথা! বাসে উঠে বসে বসে ভাবছি কখন বাস ছাড়বে। আর যাব তেপান্তরে। কিন্তু বিপত্তি বাধল তখনই। জানতে পারলাম আমাদের ইয়ারের একজন এখনো পেঁৗছেনি। ধ্যাত, লেটকামারদের জ্বালাতনে আর পারা গেল না।
অবশেষে গাড়ি চলা আরম্ভ হলো; কিন্তু টিএসসির সামনে গিয়েই আবার থামল। তখন তো বাসের একজন গান গাওয়া আরম্ভ করল, গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে। শো শো করে বাস ছুটে চলছে। কিছুক্ষণ পরেই রীতিমতো তা-ব শুরু হলো। প্রফেশনাল কোনো কনসার্টকেও হার মানাবে গানের আয়োজন। পাশাপাশি নাচানাচি তো আছেই। মনে মনে বললাম, তোমাদেরকেই খুঁজছে বাংলাদেশ! আমাদের বাসের ড্রাইভার মামাটি আবার বেশ করিতকর্মা। প্রমাণ দিচ্ছি। আমাদের বাসের সামনে অনেক বাস ছিল; কিন্তু ড্রাইভার মামার কারণেই আমাদের বাসটি চলে গেল সব বাসের সামনে। একেকটি বাস ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রবল হাততালি। মনে হলো আইনের মোটামোটা বই পড়ার পাশাপাশি বছরে দু'তিনবার পিকনিক হলে মন্দ হয় না; কিন্তু ডিপার্টমেন্টের স্যাররা কি আর সেই কথা মানবেন!
অবশেষে গাড়ি ঠেকল তেপান্তরে। বলে নিই তেপান্তর একটি শুটিং সঙ্ট। এটি ময়মনসিংহে অবস্থিত। গাড়ি থেকে শুরু হলো হুড়োহুড়ি করে নামা। কার আগে কে নামতে পারে। বাস থেকে নামার পর তেপান্তরে প্রবেশ করলাম। ঢুকেই চার ক্রাউনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। মনে হয়েছিল তারা যেন আমাদের স্থাগত জানাচ্ছে। তাদের সঙ্গে একটা ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। এখানে বলে রাখি এই ক্রাউনদের কিন্তু প্রাণ নেই। তেপান্তরে গিয়ে সবচেয়ে মজার যে জিনিসটি আমি আবিস্কার করলাম সেটি হলো তেপান্তরের দোলনা। বসে বসে দোল খেতে খেতে মনে হলো তেপান্তরে হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা; কিন্তু তা আর পারলাম কই? জনাকয়েক বড় আপুরও ইচ্ছে হলো তার দোলনায় চড়বে। অগত্যা আমাকেই ত্যাগ স্বীকার করতে হলো।
দোলনা ছেড়ে হেঁটে হেঁটে দেখছিলাম তেপান্তরের পথ। এক জায়গায় দেখলাম বড় এক ড্রাগন হা করে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে ড্রাগনের কাছেই গেলাম না! কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো নানা ধরনের আয়োজন। বিস্কিট দৌড়, মোরগের লড়াই, পিলু পাসিং, সুই-সুতা দৌড়সহ নানা ধরনের আয়োজন। সুই-সুতা দৌড়ে আসিফ নজরুল স্যারের মজার কারচুপি ছিল উপভোগ করার মতো। তারপরই শুরু হলো শিক্ষাথর্ী এবং শিক্ষকদের মধ্যে আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলা। আজব সব নিয়ম তাতে। যেমন স্যারদের বিরুদ্ধে জোরে বল করলে নো বল হবে, স্যাররা ক্যাচ আউট হবেন না ইত্যাদি। অবশেষে স্যাররাই ম্যাচটি জিতে নিলেন। ম্যাচ শেষে খাবারের আয়োজন। তারপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরু। শুরু হলো ইমন স্যারের গান দিয়ে। স্যার গাইলেন 'যেখানে সীমান্ত তোমার সেখানে বসন্ত আমার...'। গান শুনতে শুনতে মনে হলো আসলেই আমাদের বসন্তের শুরু পিকনিকের বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে। এভাবেই নানা বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে চলতে থাকে পিকনিক উৎসব। পিকনিক শেষে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান তাসলিমা মনসুর ম্যাডাম জানালেন, আমরা নাকি খুবই ভদ্রভাবে পিকনিক শেষ করতে পেরেছি। আমাদের ধন্যবাদও দিলেন। তখন আমাদের আর পায় কে। একজন তো বলেই ফেলল, দেখতে হবে না আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটির ল' ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট!
পাখির নীড়ে ফিরে আসার মতোই আমাদেরও আয়োজন শেষে ফেরার পথে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। সঙ্গী তখন একদিন তেপান্তরে কাটানোর স্মৃতি। স্মৃতিকাতরতা নিয়েই গাড়িতে উঠলাম ফিরতি পথে। সন্ধ্যা গড়িয়ে তখন রাত নেমেছে মাত্র। পিকনিক শেষ বলে পিকনিকের মুড কিন্তু তখনই শেষ হয়ে যায়নি। প্রমাণ পেলাম ফেরার পথে গান শুনে আর নাচানাচি দেখে। সে কথা আর না-ই বললাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×