somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দর্প হরণ ...

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরুন, আপনি দূর থেকে দেখছেন, একটি মেয়ের চোখের সামনে তার স্বামীকে হত্যা করে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। সেই অবস্থায় মেয়েটির মানুষিক অবস্থা কি হবে একবার চিন্তা করে দেখুন ! কোনো কাল্পনিক রূপ কথার গল্প আমি আপনাকে শুনাচ্ছি না । বাংলাদেশের শেরপুর জেলার একটি গ্রাম সোহাগপুর। ১৯৭১ সালে সেই গ্রামেই ঘটেছিল এরকম এক নির্মম হত্যা কান্ড। সেই গ্রামের প্রতিটি ঘর থেকে বিবাহিত যুবক পুরুষদের ধরে এনে এক সাথে ১২০ জনকে হত্যা করা হয়েছিলো, তারপর তাদের স্ত্রীদের পালা করে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়েছিল। আর এই সমস্ত ঘটনার মূল নায়ক যিনি তিনি রাজাকার কামারুজ্জামান।
এই বিধবা মায়েরা তাদের বুকের এই অমানুষিক যন্ত্রণা আর ক্ষোভ নিয়ে আজ ৪৩ বছর ধরে বেচে আছেন। একটিবার চিন্তা করুন তাদের ছোটো ছোটো সন্তানগুলির কথা, যারা দুয়ারে পরে থাকা মৃত বাবার লাশে কাফনের কাপড় না দিয়ে সেই কাপড়ে উলঙ্গ মায়ের শরীল ঢাকার চেষ্টা করছে। জানি, সেই ভয়াবহ দৃশ্যকে আপনি আপনার কল্পনার চোখে আসতে দিতে চাইবেননা। কিন্তু বাস্তবে সেটাই ঘটেছিল।বিধবা পল্লীর সেই সন্তানরা পেটের খুদা আর দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে আজ ৪৩ বছর ধরে তাদের মায়েদের কষ্টের বোঝা বহন করে চলছে। কি নিদারুন কষ্টের সময় যে তারা পার করেছে, একমাত্র ভুক্তভুগী ছাড়া সেই কষ্টের অনুভুতি বোঝা অসম্ভব !
এরপর বাংলাদেশে এমন একটা সময়ও গিয়েছে যখন, কামারুজ্জামানের ছেলে ওয়ামি দম্ভো ভরে মুক্তিযুদ্ধাদের কুকুরের বাচ্চা বলে গালি দিতো। আরেক ছেলে ওয়ালী পোস্ট দিত, " হেডাম থাকতে ট্রাইবুনাল করে আমার বাবার বিচার কর"! মনে আছে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে যেদিন এই কথাগুলি শুনেছিলাম, সেদিন একা একা কেদেছি, রাতে ভাত খেতে পারিনি কারণ গলা দিয়ে ভাত নামেনি। একজন মানুষ আর তাদের সন্তানরা কত বড় অমানুষ হলে এই ধরনের কথা বলতে পারে !
প্রজন্ম জানা আছে কি, ৭১ এর সেই দিনগুলির কথা, ক্রেক প্লাটুন গ্রুপের মেম্বার আজাদ ছিল এ দেশের অন্যতম ধনী পরিবারের সন্তান। গান শুনার জন্য এলভিস প্রেসলির রেকর্ড কিনতো তখনকার দিনের ১০০০ টাকা খরচ করে। সেই আজাদ যখন পাকিস্থানি আর্মিদের হাতে ধরা পরে, তাকে বন্দী করে রাখা হয় রমনা থানায়। আজাদের মা বহু কষ্ট করে আজাদের সাথে দেখা করতে যায়। আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত আজাদ মায়ের কাছে ভাত খেতে চায় ! আজাদের মা বাসায় ফিরে সমস্ত দিন ধরে রান্না করে এক বিহারী দালাল কে নিয়ে খাবার দিতে যায়। কিন্তু হায় ! আজাদকে তারা আগের রাতেই মেরে ফেলেছে। দেশ স্বাধীন হবার পর শহীদ আজাদের মা আরো ১৪ বছর জীবিত ছিলেন। কিন্তু এই ১৪ বছরে এক বারের জন্য ও তিনি ভাত মুখে দেননি, বিছানায় ঘুমাননি। মেঝেতে পাটি বিছিয়ে থাকতেন, যেমনটা আজাদ জেলখানায় থাকত !
বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী লিলি আন্টির সাথে আমি দেখা করতে গিয়েছিলাম।বিশ্বাস করুন আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারিনি। তার পা ছুয়ে সালাম করার সময় আমার চোখ দিয়ে পানি পরছিল, তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। পৃথিবীর সকল সম্পদের বিনিময়ে-ওকি এই মহিলার ক্ষতি পূরণ দেয়া সম্ভব?
মেট্রিকে স্ট্যান্ড আর ইন্টারমিডিয়েটে ষ্টার মার্ক পাওয়া রুমি, আমেরিকায় পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছিল। আমেরিকায় না গিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়ে ছিলেন। কিসের আশায় ? কার জন্য ?
প্রজন্ম আজ তোমার কাছে যুদ্ধাপরাদীদের বিচার মানে ৪৩ বছর আগের ঘটনা নিয়ে অহেতুক টানাটানি ! তুমি কি কখনো পারবে সেই দুখিনি মায়ের কষ্টের তীব্রতাকে অনুভব করতে ? সেই স্বামী হারা স্ত্রীর আর্তনাদকে বেথ্যা হীন করে তুলতে ?
দিনে দিনে বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ ! আজ ধর্মের কল বাতাসে নড়েছে.... যেই মানুষ রুপি জল্লাদ, কসাই আর নর পশুরা এই হত্যাকান্ড আর অন্যায় গুলি করেছে, সেই মীর কাসেম, কামারুজ্জামান, নিজামী, মুজাহিদের বিচারের রায় এই বাংলার মাটিতে হয়েছে। মহান আল্লা পাকের কাছে লক্ষ্য-কোটি শুকরিয়া ! অন্তত জীবনের শেষ বেলাতে এসেও এই দুখিনি মা গুলো একবারে জন্য হলেও স্বস্থির নিশ্বাস ফেলুক......
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×