somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারে ভারতবর্ষ দর্শন: পর্ব-৫

১৮ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ভারতে আমার দশম দিন ৷ দিল্লীতেই আছি ৷ গতকাল প্রায় ৫০০ কিলোমিটার যাত্রার পর আজ শরীরটাকে অতটা চাপ দিতে চাই নি ৷ প্রলয় দা আজ কলকাতা ফেরত গেলেন ৷ লোকটা এই যাত্রায় যা করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না ৷ আমাদের দিল্লী, কলকাতা, আগ্রা সব জায়গায় আগলে রেখেছিলেন ভদ্রলোক ৷ এক অর্থে আমাদের নিরামিষাশী বানিয়ে দিয়ে গেলেন ৷ ডিম, ডাল ছাড়া দিল্লীর ছয় দিনে কোন প্রোটিন খাই নি ৷ মানে পশুজাত প্রোটিন খাই না প্রায় সপ্তাহখানেক! আমার জন্য এটা প্রায় অলঙ্ঘনীয় রেকর্ড ৷ আশ্চর্য ওভাবে মাছ-মাংসের কথা মনেও পড়ছে না ৷ সবই সাই বাবা ভোজনালয়ের অবদান ৷ ওরকম ভেজ খাবার হতে পারে জানাই ছিল না ৷ তবে আজকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ৷ অন্যান্য দিনের মত নয় ৷ সকালটাই শুরু হল ভিন্নভাবে ৷ ঘুম থেকে উঠে দেখি সঙ্গী সাথীদের কেউ নেই ৷ সকাল তখন সাতটা পেরোয় নি ! 


প্রলয় দা গেছে 'তৎকাল' টিকেট নিতে ৷ এজেন্টকে বলা ছিল ৷ তৎকালটা হল যেটা ২৪ ঘন্টা পূর্বে কাটা হয় ৷ এটা ছাড়া রিজার্ভেশন প্রায় মাসদুয়েক আগেই শেষ যায় ৷ ট্রেনের টিকেটের যা চাহিদা এখানে ! আর মুকুল ভাই গেছে তার আগের দিনে রিচার্জ কেন হয়নি তার হিসেব নিতে ৷ সকাল সকাল উঠে এরা চলে যাবে কী করে জানব ? তাছাড়া এরা কাজের দিনেও ন'টার আগে উঠে না, আজ বিশ্রামের দিনে নাই ! অফিসের নিত্যদিনের মেইল পাঠিয়ে শাওয়ারে গেলাম ৷ রাতের ঘুমটা ভাল হয়েছে ৷ চারটায় উঠে আধা ঘণ্টার জন্য শুধু ঐদিনের অভিজ্ঞতা লিখেছিলাম ৷ আজ বিশ্রাম মানে ঘরে বসে থাকা নয় ৷ বিশ্রাম মানে নতুন দিল্লীর বাইরে না যাওয়া ! সকালে নাস্তা করলাম নতুন এক জায়গায়, পুরো পেট ভরে খেয়ে ২০ রূপি হল ! স্ট্রীট ফুড খেতে মজা, দামেও সস্তা ৷ সিদ্ধান্ত নিলাম আজ নতুন দিল্লীর অলিগলিতে খেয়ে বেড়াব ৷ বলার মত কিছু পেয়েও যেতে পারি, পেলামও তাই ৷ আজকে এসবের কথাই বলব ৷ রাস্তার পাশের খাবার আর নতুন দিল্লীর মানুষের কথা ৷ 


প্রথমে বলব একটা গাড়ির কথা ৷ ঢাকার মতই ভ্যানে করে বিক্রি করছে ৷ লুচির সাথে সবজি, ডাল, চাটনি, সালাদ পনের টাকা ৷ আপনার সামনেই বানাবে ৷ একটা প্লেটে দিচ্ছে, এদের প্লেটগুলো ভাগ ভাগ করা ৷ আমাদেরগুলোর মতন না ৷ দুটো লুচি খেয়ে আরো দুটো লুচি নিলাম ৷ সবজি-টবজি সব ফ্রি ৷ দাম জিজ্ঞেস করতে বলল, "বিস রূপাইয়া মালিক ৷" দিয়ে দিলাম ৷ কথা বললাম আরও কিছুটা সময় ৷ এসেছেন এও ইউপি থেকে ৷ মার্জিত আবার এ লোক ৷ আসলে মানুষের চরিত্র নিয়ে সরলীকরণ সবসময় সত্যটা বলবে না আপনাকে ৷ এর পর চা খেলাম পাঁচ রূপী দিয়ে ৷ হাঁটতে লাগলাম ৷ 


নতুন দিল্লীর স্টেশনের বাহির হবার গেট দিয়ে বের হয়েই যে রোড গ্যাছে ওটার নাম মেইন রোড ৷ মেইন রোডের মুখ দিয়েই ডানে একটা আর বামে একটা রোড চলে গেছে ৷ বামের রোডটার নাম কৃষ্ণা গলি ৷ কৃষ্ণা গলি একটা খনি ৷ গলির মুখেই একটা দুধ-মালাই-লাচ্ছির দোকান ৷ কত লিটার দুধ যে বিক্রি হয় তা বলা দুরূহ ঘটনা ৷ এখানকার লোকজন দুধ এত খায় ! এরা প্রাণিজ আমিষ খায় না বলে এসব খায়- পরে জানলাম ৷ যে লোকটা লাচ্ছি বানিয়ে দিচ্ছে সে কোনই কথা বলে না ৷ বললাম লাচ্ছি দিতে, দিল ৷ প্রতি গ্লাস ২৫ টাকা ৷ পাঞ্জাবি গ্লাস ৷ বিশাল বড় গ্লাস ৷ খেয়ে পেট ঢোল হয়ে গেল ৷ এরা লাচ্ছি বানানোর পর এর উপর সরের একটা পুরু স্তর দেয় ৷ আমি চা কফিতে চিনি না খেলেও লাচ্ছি, ফালুদায় চিনিতে কোন আপত্তি আমার নেই ৷ এরা অনেক চিনি দেয় লাচ্ছিতে ৷ খেতে ভালই লাগল ৷ মালাই রাগড়া/রাগঢ়া বলে আরেকটা খাবার বিক্রি করছে ৷ রাতে খেলাম ৷ এটা বেশ ভাল ৷ রেসিডেনসিয়াল মডেলে যখন আমাদের মালাই দিত তখন খুশির শেষ থাকত না, ঐ সময়ের কথা মনে পড়ে গেল ৷ কত যে ভাল ছিলাম ! হাঁটতে হাঁটতে কত রকমের মানুষ যে দেখলাম ৷কেউ কেউ দেখলাম শুধু সানগ্লাস বিক্রি করছে ৷ কেউ কাউবয় হ্যাট বিক্রি করছে ৷ দেখছি, ওদের কোন ক্লান্তি নেই ৷ রোজ সকালে আসে, রাতে যায় ৷ সবাই মোদি মোদি করছে ৷ "আচ্ছে দিনের অপেক্ষায় এরা " ৷ দেখা যাক এদের ভাগ্য পরিবর্তিত হয় নাকি ৷ হোক, হলেই ভাল ৷ 


দুপুরে খেলাম 'রুচি ভেজিটেরিয়ান ক্যাফে' তে ৷ নাম শুনে যা মনে হচ্ছে বিষয়টা মোটেও তা না ৷ মানে অবস্থা বারিস্তা ক্যাফের মতন না ৷ তবে খাওয়া ভাল ৷ ৫০, ৬০, ৭০ টাকার অফার আছে ৷ ভাতের লিমিট নাই ৷ অস্থির লাগল খেতে ৷ এরকম ভেজ পেলে আমি আর নন-ভেজের ওদিকে যেতাম না ৷ ওয়েটার এসেছে উড়িষ্যা থেকে ৷ ব্যবহার খুব ভাল ৷ আমাদের হিন্দুস্তানী ভেবেছিল প্রথমে ৷ পরে পরিচয় জেনে আধো বাংলা, উড়িয়া বলতে লাগল ৷ বুঝতে আরও অসুবিধে হল ৷ কিছু বুঝতে না পারলে মাথা ঝাকিয়ে হাসতে লাগলাম ৷ নাহ, এবার আসলে আপুর সাথে বসে হিন্দি সিরিয়ালের দুটো পর্ব দেখে আসতে হবে ! 


সন্ধ্যের দিকে ডিমের সাথে পাউরুটি দিয়ে ভেজে ওমলেট দিল ৷ এটা বোধহয় দেশেও পাওয়া যায় ৷ খাওয়া হয় নি ৷ তবে এখানে দুটো ডিম দেয়ার পরও দাম ১৫ রূপি ৷ একটু কমই ৷ রোদের তাপ বেড়েই চলছিল ৷ চামড়া পুড়ে যাচ্ছিল ৷ রোডগুলোর মোড়ে মোড়ে বার আছে ৷ দাম লাগয়ে রেখেছে বাইরে ৷ কলকাতায় চিলড বিয়ার ১৮০ রূপী, নতুন দিল্লীতে ৭৫ রূপী ৷ ব্র্যান্ড কোনটারই জানি না ৷ ভেতরে গেলে জানা যেত, কিন্তু যাওয়া হয় নি কোনটাতেই ৷ ব্র্যান্ড অন্য হলেও এত ফারাক তো হবার কথা নয় ৷ যাক সে কথা ৷ নতুন দিল্লীর অলিগলিতে অবস্থা উন্নতি খুব হয় নি ৷ রাস্তার উপরের নতুন দিল্লী আর গলির ভেতরের নতুন দিল্লীর তফাৎ অনেকই ৷ এখান থেকে দুই কিমি দূরেই রাজিব চকের অবস্থা দেখে দিন তিনেক আগে আমার মাথা ঘুরে গেছিল ৷ এদিকের মানুষ হাসে, কথার উত্তর দেয় ৷ বড় রাস্তায় সবাই কানে ইয়ারফোন নাহলে হাতে মোবাইল চাপতে থাকে ৷


আজকের দিনে উপলব্ধি; আপনি টাকা দিয়ে সব কিনতে পারবেন, এমনকি সুখও ৷ তবে টাকা দিয়ে সত্যিকারের হাসিসহ বন্ধু পাওয়া দুরূহ ! খরচ কম হলো, মানুষ দেখা হলো ৷ খাওয়া দাওয়া হলো, অন্য নতুন দিল্লী দেখা হলো ৷ হাঁটলাম প্রচুর ৷ দিন শেষে হোটেল রূমে এসে সাকিবের বোলিংয়ের হাইলাইটসও দেখা হলো ৷ সব মিলিয়ে দিনটা মন্দ নয় !



মে ১৮, ২০১৪
রাত এগারটা বেজে বায়ান্ন
হোটেল লর্ডস, পাহাড়গঞ্জ
নতুন দিল্লী ৷
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৪ সকাল ৯:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×