somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“সিরিয়ায় অশান্তি"; “শান্তির দূত যুক্তরাষ্ট্র” !!!!!!

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক সময় আমি মজা করে বলি- ভারতের সীমান্ত সম্পর্কিত যত সমস্যা আছে তা সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছে বলিউড অভিনেতা সানি দেওয়াল। সেটা রসিকতা করে বললেও, বর্তমান পৃথিবীর কর্মকান্ড দেখলে যে কোন ব্যক্তির মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, পৃথিবীতে যত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হচ্ছে তার সমাধানের দায়িত্ব এক এবং একমাত্রই যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও তাকে কেউ এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে দেয়নি। ঐযে কথায় আছে না- “গাঁও মানে না আপনে মোড়ল”

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশকে দেখলে আমার অনেক সময় অট্ট হাসি পায়। কারণ তারা হচ্ছে দন্তহীন সাপ। বিষ আছে কিন্তু তা প্রয়োগ করার জন্য দাঁত নেই। সম্পদ আছে কিন্তু বন্টন করতে হলে অনুমতি লাগে। অস্ত্র আছে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। আর সবচেয় বড় ব্যাপার হল বিবেক থাকলেও বিবেক প্রয়োগে স্বাধীনতা নেই।কারণ এ সমস্ত ঘুড়ির মূল সুতাটা তো পৃথিবীর সবচেয় বড় সমাজসেবক অ্যামেরিকার কাছে। মধ্যপ্রাচ্যে যে দেশগুলো এই মোড়লের কাছে নিজের মেরুদন্ড বিক্রি করে দিয়েছে, আজকে শুধুমাত্র তারাই শান্তিতে আছে। সন্ত্রাস তাদের কাছে যায় না। তাদের অবস্থা দেখে মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যে কেউ অ্যামিরিকার অনুমতি ছাড়া নিজের বিয়ে করা স্ত্রীর হাত ধরা আর ধর্ষণ করা সমান অপরাধ। শুধু কি মধ্যপ্রাচ্য!!! নিজের স্বার্থে আঘাত আসায় সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙ্গে কি অবস্থা করেছে তা আমাদের সকলের জানা আছে। ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে এক হতে চায়, কিন্তু তাতে বাঁধা দিচ্ছে ইউএস। অবস্থা এমন আমার ভালো আমি বুঝি না, বুঝে শুধু লাল মিয়া। ঠিক আছে মেনে নিলাম লাল মিয়া নামক ইউএস’ই শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক্সপার্ট। তাহলে একনজরে একটু দেখে নেয়া যাক আজকে আফগানিস্তানের কি অবস্থা? আজকে লিবিয়ার কি অবস্থা? তারা কি আগের থেকে ভালো আছে?তাদের ইকোনমি বর্তমানে কেমন?

এবার একটু জঙ্গি দল গুলোর দিকে নজর দেই। লস্কর-ই-তৈয়েবা, তালেবান, আইএস, তেহরিক-ই-তালেবান ইত্যাদি দলগুলো এক এক সময় এক এক নামে আসছে। আর যখনই তাদের উত্থান হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তারা যেকোন দেশের সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে। এ দলগুলো কি একদিনে হয়ে যায়!! তারা এসব অস্ত্র ক্রয় করার টাকা পায় কোথা থেকে? তাদের কাছে কারা এসব অস্ত্র বিক্রি করছে? কোন দেশের সীমানা দিয়ে তাদের কাছে চলে যাচ্ছে? এসকল প্রশ্নের সমাধান না করে আমি যদি শুধু মাত্র সেই অস্ত্র বহনকারি একজন জঙ্গিকে মেরে ফেলি, সেটা কি প্রকৃত সমাধান???

এসকল জঙ্গিদের উত্থান অত:পর তাদের দমন অভিযানের পর কোন দেশটির সবচেয় বেশি উপকার হয়? জানি উত্তরটা একটি শিশু বাচ্চাও দিতে পারবে। অর্থাৎ সেই মোড়ল দেশটি নিজস্ব স্বার্থের জন্য ইচ্ছেকৃত একটি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে। অবশ্য শক্তিশালিরা সবসময়ই দুর্বলদের উপর এমন রাজনৈতিক চাল দেয় যেন তারা চাপে থাকে, এটাই স্বাভাবিক। ঠিক এ লাইনটি লিখতে গিয়ে মোড়ল দেশ অ্যামেরিকার একজন বিখ্যাত ইকোনমিস্ট পল ক্রগম্যানের একটি উক্তি মনে পড়লো- “Politics determine who has the power, not who has the truth."

বর্তমানের সিরিয়া ইস্যু নিয়ে ইউএস অনেক তৎপর। আইএস দমনে জিরো টলারেন্স। একদম ইউরোপের সাথে এক হয়ে ন্যাটো বাহিনী তৈরি এবং খেয়ে না খেয়ে আক্রমন। ভালো কথা সেই আইএস দমনে যখন রাশিয়া এবং ইরান এক হয়ে আক্রমন করতে চায়, তখন তোমাদের গায়ে আগুন লাগার কারণ বুঝতে পারছি না। রাশিয়া যখন আক্রমন করলো তখন ইউএস বিবৃতি দিয়েছে- রাশিয়া আইসএস নয়, যারা বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে তাদের ওপর আক্রমন করেছে। যদি এটাই হয় তাহলে আমরা কি ধরে নিবো আপনারাও আইএস নয় বরং যারা বর্তমান প্রেসিডেন্ট এর পক্ষে তাদের ওপর আক্রমন করছেন? আসল খেলাটা কি এখানে? মোটেই না…সিরিয়া মিশনের পরই ধরা হবে ইরানকে। আর সেটা ইরানও ভালো ভাবে বুঝে গেছে। যে সোভেয়েত ইউনিয়নকে ভেঙ্গে দিতে পেরেছে অ্যামেরিকা, সেই রাশিয়াকে সব শেষে ধরবে না সেই গ্যারান্টি স্বয়ং ভ্লাদিমির পুতিনও দিবে না। তবে কেন আমরা মনে করবো অর্থনৈতিক ভাবে চীন অ্যামেরিকার ওপরে চলে যাওয়ার লক্ষন থাকা সত্ত্বেও মোড়ল ইউএস তাদের ছেড়ে দিবে!!!

ইউএস এর এ খেলা বুঝতে পেরেই আজকে পুরো অ্যামেরিকা, ইউরোপ একদিকে আর রাশিয়া, চীন এবং ইরান অন্যদিকে। তারা কোন ভাবেই তাদের মিত্র বাশার আল আসাদকে হারতে দিতে চায়না। কারন বন্দুকের পরের গুলিটিতেই তাদের নাম লিখা আছে। এ লক্ষ্যবস্তু থেকে কোন অংশে বাদ যাবে না ভারত, কারণ উপমহাদেশে রাজত্ব কায়েম করতে হলে ভারত-চীন কে বশ করা ছাড়া কোন উপায় নাই। আর সেই বাঘের থাবা থেকে বাংলাদেশ কোন ভাবে বেঁচে যাবে সেটা ভাবা হচ্ছে আমাবস্যার রাতে পূর্ণীমার চাঁদ খোঁজা। কারণ এরই মধ্যে ইতালির নাগরীক হত্যার পরপরই আইএস সে দায় স্বীকার করা/ রেড এলার্ট জারি করা, অনেকটা তারই লক্ষণ।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ইউএস’র টার্গেট সিরিয়ায় ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সরকার গঠন করে, নিজের স্বার্থ হাছিল করা। কারণ ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়ার কারণে সেই নব্য জঙ্গি সরকার কোন দিন অ্যামেরিকার বিপক্ষে যাবে না, আর অ্যামেরিকাকে খুশি করার জন্য নিজেদের মধ্যে হানাহানি করবে। তবে যে ফর্মূলা নিয়ে ইউএস লিবিয়া পর্যন্ত সফলতা পেয়েছে, এবার আর তা পাবে বলে আমি মনে করি না এবং বিশ্বাসও করতে চাই না। কারণ লিবিয়ার সময় ইরান এবং রাশিয়া কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও তার পিছনে গাদ্দাফির কিছু আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত এবং একগুয়ে মানসিকতা দায়ি ছিল। তবে এবার কোন ভাবেই সিরিয়াকে হারতে দিবে না রাশিয়া,চীন, ইরান এবং নেপথ্যে থেকে ভারত।

পরিশেষে শুধু একটি কথাই বলবো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নোংরা রাজনীতি দেখে, ব্রিটেনের এক্স প্রধানমন্ত্রী উন্সটন এর একটি কথা আমি সবসময় মন থেকে অনুভব করি, তিনি বলেছিলেন- “ Politics is almost as exciting as war, and quite as dangerous. In war you can only be killed once. But in politics many times."

অসংখ্য ধন্যাবাদ আমার লিখাটি পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৪:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×