somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাম সর্বস্ব

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয় এর জোয়ার বইছে। কথায় কথায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে আপগ্রেড এর ফোয়ারা চালু হয়ে গেছে। আমি জানতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় মানে কি? বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিলেই কি আমাদের গ্রেড বেড়ে গেল! আমাদের মনে যা আসে তাই আমরা করছি। অগ্রপশ্চাৎ কিছু না ভেবেই আমরা বাহাবা নেয়ার জন্য একটা হাস্যকর কাজ করে ফেলছি। আজকাল কথায় কথায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এর সংজ্ঞাটাই সম্ভবত ভুলে গেছি। বিশ্ববিদ্যালয় মানে যেখানে সব ধরনের জ্ঞান এর চর্চা হয় আর যেথা হতে সব বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আজকাল এই বিশ্ববিদ্যালয় নামটার অপব্যবহার চালু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঢালাও ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ব্যাপারটা অনেকের মাঝে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি ইত্যাদি। নামত দেয়া সহজ কিন্তু এটা কি ঠিক হচ্ছে? একটা বিষয় নিয়ে যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় তাহলে কি ওঁটা হাস্যকর হচ্ছে না? সারা দুনিয়ার কোথাও কি এই নজির আছে? সারা দুনিয়ায় যেখানে এইসব বিষয় গুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর আন্ডারে স্কুল হিসাবে আছে আমরা তাঁদের নাম দিচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়! আর এতে মনে করছি ওদের মান অনেক বেড়ে গেল! আমরা যে কতটা বোকার স্বর্গে বাস করছি তার বলার আর অপেক্ষা রাখে না। লোকজন এইসব দেখে আমাদের নিয়ে হাসে। যদি নাম দিলেই মান বেড়ে যেত তাহলে বিভিন্ন দেশের হাজার বছরের সেই সব প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে ফেলত। আসলে এই নামের যে মানে তাই আমরা জানি না। আর জানিনা বলেই আমরা এইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে নিজেদের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করছি। মানে না বুঝলে কেউ গালি দিলেও মনে হবে আশীর্বাদ করছে। তাই মানে বুঝা জরুরী। কখন একটা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে তাও জানা জরুরী। তাই কোন কিছুকে নাম করনের আগে তার যথারততা প্রমান করা জরুরী। আমার মনে হয় আমাদের অজ্ঞতাই আমাদেরকে এই ধরনের হাস্যকর সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নাম সর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয় বানানো কোন প্রয়োজন নাই। নাম করনের মাধ্যমে এঁদের আপগ্রেড না করে বরং ডাউনগ্রেড করা হচ্ছে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় যে সরকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে আপগ্রেড করার চিন্তা করছে। কিন্তু বাস্তবে কি হবে দেখুনঃ ঢাকা মেডিকেল একটি দুনিয়াযোরা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মেডিকেল অনুষদের একটা অংশ। ঢাকা মেডিকেল এর ছাত্ররা ঢাকা ইউনিভার্সিটি এর ছাত্রই। ওনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতেই সার্টিফিকেট পায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ইউনিভার্সিটি করলে ছাত্ররা ঐ ইউনিভার্সিটি থেকেই সার্টিফিকেট পাবে। আমার প্রশ্ন ঢাকা মেডিকেল ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এখন যে সার্টিফিকেট পায় তার দাম কি ঢাকা মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট এর সমান হবে? কখনই নয়। দুটা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নাম মুছে সদ্য প্রসূত একটা নাম সর্বস্ব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এর সার্টিফিকেট কতটা গ্রহণযোগ্য! এভাবে নাম পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ দিনের গড়ে উঠা ঐতিজ্জ নিমিষে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। তাহলে আদতে কি হল? আপগ্রেড না ডাউনগ্রেড? আমাদের এইসব ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রক্ষা করা নিতান্তই অপরিহার্য। এইগুলিকে ইউনিভার্সিটি নাম দিয়ে কিছু লোক নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। এতে দেশ,জনগন,ছাত্র কারো কোন লাভ হবে না। আসুন সবার স্বার্থে এই অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×