somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক্তাররা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় পড়াশুনা করে না।

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডাক্তাররা জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় পড়াশুনা করে না।

অনেক দিন যাবৎ একটা কথা শুনছি ডাক্তাররা নাকি জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় পড়াশুনা করে আর তাই অনেকে ডাক্তারদের কে সব সময় এক হাত নেয় আর বলে জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় ডাক্তার হইস এখন জনগণকে ফ্রী দেখবে। ভাবটা এমন যে সবাই বাপের পয়সায় সব করছে আর ডাক্তাররা জনগণের পয়সায় ডাক্তার হচ্ছে, তাই সবাই মিলা ডাক্তারকে তুলা ধুনা করবে!!! জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় ডাক্তার হয় কথাটা একেবারেই ভুল। যারা ট্যাক্স দেয় তাঁরা কারা? আমজনতা ট্যাক্স দেয় না। সরকারী কর্মকর্তার মধ্যে বেতন ছাড়া ট্যাক্স দেয়ার সুযোগ একমাত্র ডাক্তারদেরই আছে। অনেকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে কামালেও ট্যাক্স দেন না। প্রফেশনাল দের মধ্যে ডাক্তাররাই সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দেয়। আর বাকি ট্যাক্স দেয় ব্যবসায়িরা । এবার আসুন দেখি সরকারী মেডিকেল কলেজ গুলতে কি হচ্ছে। সরকারী মেডিকেল কলেজ গুলতে সব শিক্ষক ও ডাক্তাররা বেতন ভাতাদি নিয়ে বিনামূল্যে হাজার হাজার রোগীর সেবা দান করছেন। সরকারের স্বাস্থ্য খাতের বিশাল একটা অংশ এই মেডিকেল কলেজ এর শিক্ষক ও ডাক্তাররা দিয়ে আসছে। যে বেতনে এই ফ্রী সেবা ডাক্তাররা দিচ্ছেন সেই বেতন দিয়ে ওনাদের একদিনের সেবাও কেনা সম্ভব না। রোগী তো দেখছেনি তার উপর ছাত্রদের পড়াশুনা করাচ্ছেন। তাই সরকার মেডিকেল ছাত্রদের পড়াশুনা করানোর জন্য তেমন কিছুই ব্যয় করছেন না। বরং সেই শিক্ষকদের দিয়ে হাজার হাজার রোগীর বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছে। আর সরকার ছাত্রদের শুধু কম মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করছে আর বাকি হাজার হাজার টাকার বই খাতা, যন্ত্রপাতি, খাওয়া সব নিজের। আর পাশ করার সাথে সাথে একজন ইনটার্ন ডাক্তার যে সেবা টুকু সরকারকে তার জনগননের সেবার মাধ্যমে দেয় তার মূল্য সরকার তাকে কোন ভাবেই দেয় না। বিগত ৫ বৎসরে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্তি আমার মনে হয় এক মাসেই শোধ হয়ে যায়। আসলে মেডিকেল কলেজ গুলতে শিক্ষক, ডাক্তার আর ছাত্ররা মিলে জনগণকে যে সেবা দেয় তার তুলনায় এঁদের প্রাপ্তি খুবই সামান্য। জনগণের ট্যাক্স এর টাকায় তো দুরের কথা উল্টা ডাক্তার তৈরির এই প্রক্রিয়ায় জনগন পাচ্ছে প্রায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা আর দেশ পাচ্ছে নুতন নুতন ডাক্তার । এবার খোঁজ নিন অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনগণকে কি দিচ্ছে? কেউ কিছু দিচ্ছে কি? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর কথাই ধরুন সরকার ওদের পিছনে যে টাকা খরচ করছে এর বিনিময়ে ছাত্র পরানো ছাড়া তাঁরা কি আর কোন সার্ভিস কি সরকার বা জনগণকে দিচ্ছে? না তাঁরা কোন সেবা দিচ্ছে না। তাহলে কারা শুধুই জনগণের টাকা খরচ করে পড়াশুনা করছে আর কারা মুলত জনগণকে সেবা দিচ্ছে আর সাথে সাথে নিজের জীবনও গড়ছে?
৪৭টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×