somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ চিকিৎসা নিতে ‘অমানুষ’দের কাছেই যাবে মশিউল আলম | তারিখ: ১১-০৩-২০১২

১১ ই মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Mohammed Tanvir Jalal
২০১২.০৩.১১ ১১:৪৪ [ আপনার মন্তব্য বিবেচনার জন্য অপেক্ষমান এবং সকলের নিকট প্রদর্শিত নয় ]
(Click This Link এই লিঙ্কটা দেখুন। নিচে আমার মন্তব্য)

এক বন্ধু
ইউরোপ থেকে লিখেছেন তাঁকে প্রতিদিন রোগী দেখতে হয় ৫ জন করে। ৫ জন এর বেশী সে একটি রোগীও দেখে না। টেলিফোন এ সিরিয়াল দিতে হয় । আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে। এখানে রোগীর সিরিয়াস কি না তা দেখার দরকার নাই, কোন নেতা, সুপারিশ, চেয়ারম্যান নাই। ইমারজেন্সি হলে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। হাত ভাঙ্গা নিয়ে ৮ ঘণ্টা ইমারজেন্সিতে বসে থাক্কতে দেখেছেন। আর উনি যে টাকা বেতন পান তা দিয়ে একটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পুরো খরচ চালিয়েও টাকা বেঁছে যাবে। ৮ ঘণ্টায় ৫ টি রোগী দেখতে হলে প্রতি রোগী কতটা সময় পাবে? আর আমাদের দেশে! আমার এক আত্মীয়কে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাব হাসপাতালে ফোন করে জানলাম আজ দেখানো যাবে না তাই ডাক্তারকে ফোন করলাম কারন দেরি করা সম্ভব না। ডাক্তার সাহেব আমাকে না বলতে পারলেন না। অনেক ডাক্তারের সিরিয়াল দেখি কয়েক মাস আগেই নিতে হয়। আবার সেই সিরিয়াল ভাঙ্গার জন্য রোগীরা অনেক রকম চেষ্টা করে। অনেক রোগী আমার কাছে ফোন করে আমার প্রফেসর এর ঠিকানা চায় যদিও আমি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ তবুও আমাকে দেখাবে না। খুব সাধারন ব্যাপারে প্রফেসর এর কাছে যায়। আপনি ৫০০- ৮০০ টাকা হলেই প্রফেসরকে দেখাতে পারছেন তো কেন জুনিওর ডাক্তারকে দেখাবেন? আর প্রফেসর শতশত রোগীর চাপে দিশে হারা। খারাপ ব্যাবহার করলেও তার রোগী কমছে না তাই তার ভালো ব্যবহার করার দরকার আছে? আমার চেম্বারে আমি বসে মাছি মারি আর প্রফেসর গালি দিয়ে রোগী বের করে দিচ্ছে তাতেও রোগী কমছে না। গালি খেয়ে দু একটা রোগী হয়ত আমার চেম্বারে আসছে কিন্তু অধিকাংশই সেই প্রফেসর এর কাছেই যাচ্ছে। আমরা চাই প্রফেসররা আরও বেশী রোগীকে গালি দেক তাতে আমাদের কিছু লাভ হবে। যেহেতু রেফেররাল সিস্টেম নাই তাই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
আমার আরেক বন্ধু কানাডা থেকে লিখেছেন তার স্বামী ও বাচ্চা বমি করতে করতে ওষ্ঠাগত হওয়ার পর অনেক ফোন করার পর পেরামেদিক্স এসে পানি খেতে বলে চলে যায় আর কয়েক হাজার ডলারের বিল ধরিয়ে দিয়ে বলে হাসপাতাল গেলে এতো ডলার লাগবে আর ডাক্তার দেখবে ১২ ঘণ্টা পর বুঝেন ঠেলা। তাঁরা কি মানব সেবা করছে না!!!
আমার এক রোগী ইন্দিয়াতে ১০০০০০ টাকায় যে অপারেশন করে এসেছে সে অপারেশন আমি করি ১৫০০০ টাকায়। কিন্তু ওখানে অপারেশন করার পরও আবার আমার কাছে আবার আসতে হয়। সিঙ্গাপুর এ একটা এন্ডস্কপি করতে প্রায় ১০০০০০ টাকা লাগে আর এখানে লাগে ১৫০০- ২০০০টাকা। এদেশে যত কম টাকায় আমরা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছি তা আর কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। আর এতো সহজে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়াও দুনিয়ায় বিরল। একটু অন্য খানে খোঁজ নিন।
ডাক্তাররা বিনা প্রয়োজনে ঔষধ লিখে কথাটা খুব সত্য নয়। তবে ডাক্তারের সামনে ২০০ কোম্পানি আছে ডাক্তার যেকোনো একটা কম্পানির ঔষধ লিখতে পারে। এটা তার স্বাধীনতা তাই না? ২০০ কোম্পানির প্রত্যেকে চাইবে তার ঔষধ লিখাতে এটা সারা দুনিয়ার চিত্র। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ভাবে ডাক্তারকে কনভিন্স করতে চেষ্টা করবে এটাও স্বাভাবিক। এটা সারা দুনিয়ায় এভাবে হয়। মনে রাখতে হবে ঔষধ একটা পণ্য আর এই পণ্য বাজারজাত করার জন্য কোম্পানি গুলো বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারের দায়িত্ব ঔষধের মান নিয়ন্ত্রন করা তাইনা? তাহলে ডাক্তার নিরধিদায় যেকোনো ঔষধ লিখতে পারবে। অথচ আমি কোন রোগীকে ঔষধ লিখতে গেলে আগে চিন্তা করি এটা কোন কোম্পানির ঔষধ এটার মান ভালো কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। ডাক্তার হিসেবে এটা আমার চিন্তা কেন করতে হবে? এটা চিন্তা করবে ঔষধ প্রশাসন । ঔষধ ব্যাবহার বারার জন্য কি ডাক্তার দায়ী নাকি অন্য কিছু? মানুষের সচেতনতা বেড়েছে, পল্লি ও হাতুড়ে ডাক্তাররা আজকাল দেদারছে ঔষধ লিখছে, ফার্মেসিতে যে ঔষধ বিক্রি করছে সেও দেদারছে ঔষধ লিখছে ও বিক্রি করছে, অনেকেই নিজে নিজে ঔষধ সেবন করছেন। এইগুলো কি ডাক্তার এর দোষ?
আরেকটা কথা বললেন যে ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কমিশন নিচ্ছেন। হা এটা অনেকেই করছেন। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু এই কাজটা করতে অনেক সময়ই ডাক্তাররা বাধ্য হন। আমি একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। আমি ঢাকায় চাকুরী করি। আমাকে বিকেল এ রোগী দেখতে হয় তাই আমার একটা চেম্বার প্রয়োজন। আমি কোথায় চেম্বার করব? টাকা দিয়ে চেম্বার ভাড়া করা কি আমার পক্ষে সম্ভব? না সম্ভব না। আর যদি টাকা দিয়ে চেম্বার ভাড়াও করি আমার কাছে কি রোগী আসবে? না আসবে না(যেটা হয়েছে আমার ক্ষেত্রে)।
আমাকে দারস্থ হতে হয় কোন বিখ্যাত ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর কাছে। আর ঐ সেন্টারে আমার চেম্বার টিকিয়ে রাখতে হলে অনেক সময়ই অযাচিত পরীক্ষা লিখতে হয় আর না লিখেলে নিষ্ক্রান্ত হতে হয় দোষটা কার?
বিভিন্ন জেলা বা উপজেলা লেভেল এ সব রোগী প্রথমে ধরা খায় পল্লি বা হাতুড়ে এর কাছে। তারাই সব টেস্ট ঠিক করে দেয় ডাক্তারকে দিয়ে বাধ্য করায় টেস্ট লিখতে আর কমিশন সে নিয়ে নেয়। এটা বাস্তব চিত্র। শুধু টেস্ট এর কমিশনই না ডাক্তারের ভিজিট ও অপারেশন এর টাকা থেকেও সে কমিশন পায়। আর যে ডাক্তার কমিশন দেয় না তার রোগী নাই। ডাক্তার বা ক্লিনিক এর কাছ থেকে আজকাল অনেকেই কমিশন খায়। একটা রোগী কোন ভাবে ক্লিনিক এ আনতে পারলেই টাকা এঁদের বলা হয় দালাল। পল্লি, হাতুরে থেকে শুরু করে রোগীর আত্মীয় স্বজন কেউ বাদ নাই দালালি থেকে। এমনও শুনেছি আপন মেয়ে মাকে ক্লিনিক এ এনে দালালির পয়সা খেয়েছে কারন মার চিকিথসার ব্যয় বহন করবে তার ভাইরা। অনেক সময় দেখেছি আমি অপেরাসন করে যে টাকা পাই একজন দালাল আমার চেয়ে বেশী টাকা শুধু রোগীকে ধরে নিয়ে এসে পাচ্ছে। আর ক্লিনিক ওয়ালারা দালালকে স্যার স্যার বলতে অজ্ঞান আরও কতো খাতির! আর আমাকে খাতিরত দুরের কথা মুখ কালো করে যতটা সম্ভব কম টাকা দিয়ে বলছে স্যার রোগী অত্যন্ত গরীব ইত্যাদি ইত্যাদি।
অনেক ডাক্তারই ইনকাম ট্যাক্স দেন। কম দিলেও অন্তত দেন। অন্য পেশাজীবীদের সেই সুযোগ কম। কিন্তু সম্পত্তির হিসাব নেন , ঢাকা শহরে এতো যে ফ্ল্যাট হচ্ছে কারা কিনছে? নামে বেনামে কারা টাকার পাহাড় গড়ছে? আমেরিকাতে সবচেয়ে ধনী নাকি ডাক্তাররা। আমেরিকান অনেক ডাক্তারের ব্যক্তিগত জেট আছে। হেলিকাপ্তার তো কথাই নাই। যে আমেরিকা মানবতার কথা তুলে মুখ ফেনা ফেনা করে ফেলছে তাঁদের দেশে ডাক্তাররা এতো ধনী কিভাবে হয়? ওদের ডাক্তারদের কি মানবতা নাই? শুধু আমেরিকা নয় সারা দুনিয়ার সর্বত্রই ডাক্তারদের এই অবস্থা। তাহলে কি সারা দুনিয়ায় ডাক্তারদের মানবতা নাই? আসলে সারা দুনিয়ায় ডাক্তাররা যে সুযোগ সুবিধা পান তা আর কেউ পায় না । পেতে পারে না। কারন এর চেয়ে কঠিন কিছু আর দুনিয়ায় হতে পারে না। মানুষের চিকিথসার চেয়ে মূল্যবান আর কিছু হতে পারে? না পারে না। আর তাই সব দেশের সরকার ডাক্তারদের সেই সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে, জনগণও ট্যাক্স দিচ্ছে দেদারছে। আর আমাদের ডাক্তাররা কি সুযোগ সুবিধা পায়? বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার মধ্যে ডাক্তাররাই সবচেয়ে অবহেলিত। পাশ করার পর এমন যায়গায় পোস্টিং দেয় যে ওখানে বসার জন্য একটা চেয়ার পর্যন্ত সরকার দেয় না। বাড়ি, গাড়ী সব সুযোগ কারা পায়? ডাক্তারি পড়া ও ডাক্তারি করা যে কতটা পরিশ্রমের তা শুধু ডাক্তার মাত্রই বুঝতে পারে।
শুধু শুধু ডাক্তারদের গালি গালাজ না করে খোঁজ নিন দয়া করে সারা দুনিয়ায় ডাক্তাররা কি করছে, কি সেবা দিচ্ছে, কতো টাকা পাচ্ছে আর বাংলাদেশ এ কি হচ্ছে। দেখবেন বাংলাদেশ এর মতো এতো ভালো স্বাস্থ্য সেবা দুনিয়ার আর কোথাও নাই। আমাদের হাজার সীমাবদ্ধতার মাঝে আমরা জনগণকে যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি এটা সারা বিশ্বের আর কোথাও যদি খুঁজে পান আমি ডাক্তারই ছেড়ে দিব। এটা আমার ওপেন চেলেঞ্জ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×