somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আসিফ ইকবাল তােরক
সুন্দর চেহাড়া মানুষকে মুখোশ দেয় আর সুন্দর মন মানুষকে সুন্দর করে! কুৎসিত মনকে সুন্দর চেহারা দিয়ে স্বল্প সময় আড়াল করা যায় কিন্তু বেশিক্ষন লুকিয়ে রাখা যায় না।

ভারতের জনগন আমাদের শত্রু নয় বন্ধু!!!

১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একজন কট্টর ভারত বিরোধী নই বরং বলা যায় আমি ভারতের অন্যায় পররাষ্ট্রনীতির বিপক্ষে। যেমন ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া সীমান্তে বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশী হত্যা, নিল্যজ্জ ভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ, অসম ব্যবসায়ীক চুক্তি সহ আরো হাজার হাজার অন্যায় প্রতিনিয়ত করে চলছে ভারত বাংলাদেশের প্রতি। আর এজন্য অনেকাংশেই দায়ী আমাদের দেশের মেরুদন্ডহীন সরকার। গত দশ বছরে ভারতের এই শোষননীতি আরো প্রকট হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র একটি অনির্বাচিত সরকারের কারনে যারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সম্পূর্নভাবে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়েছে। যেহেতু ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগনের ভোটের তোয়াক্কা করতে হয়না সেহেতু দেশের মানুষের সুযোগ সুবিধা কিংবা অধিকার রক্ষার জন্য সরকারকে কোনো কৈফিয়ত দিতে হয় না।

এখন ভারতের সরকার আমাদের অনেকভাবে শোষন করে চলছে মানে এই না যে আপনি ভারতের সাধারন জনগনের বিষোদাগার করবেন, তাদের গালি দিবেন তাদের দেশের নামে অপপ্রচার চালাবেন কিংবা তাদের দেশের অভ্যান্তরিন সমস্যা আপনি সারা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরবেন! না এইসবের কিছুই আপনি করবেন না। এসব করে কোনো লাভ নেই। যেমন ভারত ধর্ষনের কারনে কুক্ষাতো (ইন্টারন্যাশেনাল মিডিয়াতে এসেছে), ভারত অনেক নোংড়া যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা হয়, দুষিত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, এদের সেনিটারি ব্যবস্থা অনেক সোচনীয়। এগুলো তাদের দেশের অভ্যন্তরীন সমস্যা, সেই দেশের সরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে ডীল করছে। এগুলোর কথা ফলাও করে প্রচার করে আমাদের দেশের একপয়সার দাম হবে নাহ, হয়ত আমরা ট্রল করতে পারি, মজা নিতে পারি বা নিজেদের দেশের সরকার ব্যার্থতার ঝাল মেটাতে পারি কিন্তু তাতে তাদের কিছু আসবে যাবে নাহ। বরং তাদের দেশের সাধারন জনগনের চক্ষুশূল হবো।

আমরা বরং প্রতিবাদ করতে পারি আমাদের দেশের প্রতি করা তাদের দেশের অন্যায় পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে। যদি সম্ভব হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের প্রতিবাদগুলো তুলে ধরা। সুন্দরবন ধ্বংস করে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানো, সীমান্তা মানুষ হত্যা করা, ন্যায্য পানির হিস্যা না দেওয়া যে কোনো হিসেবে অন্যায় ও অবৈধ এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচার চাওয়া অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। কিন্তু এজন্যে শক্ত এবং জনগনের ভোটে নির্বাচিত একটি বৈধ সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

আমি অনেক দেশ ঘুরেছি অনেক ভারতীয়দের সাথে পরিচয় হয়েছে, বিশ্বাস করুন তারাও আমাদের মতই সাধারন মানুষ। কাজ করে, খায় দায় গল্প করে ঘুরে ফিরে। তাদের কাছে যদি তাদের দেশ নিয়ে বদনাম করেন, যদি বলেন হিন্দুরা গরুর মূত্র পান করে, তারা ধর্ষক জাতি, অশিক্ষিত জাতি এতে তারা আপনার উপর ক্ষিপ্র হতেই পারে স্বাভাবিক ব্যাপার, তারাও তখন আমাদের দেশ নিয়ে বদনাম করবে। এখন কেউ যদি আমাদের দেশ নিয়ে অপপ্রচার চালায় তবে তার সেই অপপ্রচার যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমান করুন। আমাদের বদনাম করলে আমরাও যদি তাদের বদনাম করি এটা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তারা যদি গোমূত্র পান করে, ধর্ষক জাতি হয় তাতে আমাদের কি আসে যায়, এসব বলে প্রচার করে আমাদের কি কোনো লাভ হবে, হবে নাহ। খবরে দেখলাম মিলিয়ন ডলারের ঈদ শপিং করেছে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশীরা। ভারতীয় সিরিয়ালের উপর পুরোপুরি আসক্ত আমাদের মা/বোন সমাজ, আমাদের সরকার বিনা টেন্ডারে ভারতীয় কম্পানীকে কাজ দিয়ে দিচ্ছে, সীমান্তে হত্যার কোনো প্রতিবাদ সরকারের তরফ থেকে হয় নাহ। যদি প্রতিবাদ করতেই হয় তবে নিজের দেশ থেকেই শুরু করুন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা একজিনিস আর অন্যের বদনাম করা আরেক জিনিস।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:১৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×