somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

গল্প: একাকীত্ব

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাশের অন্য মেয়েরা যখন সাজগোজ আর বয়ফ্রেন্ড খোজায় ব্যস্ত মুনিয়া তখন মুখ গুজে পড়ে থাকতো শুকনো বইয়ের পাতায়। ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনা ওর ধ্যানজ্ঞান। এজন্য তাকে অনেক সময় অনেক কথাই শুনতে হতো। কেউ কেউ বলতো মেয়েদের শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না ছেলেদের আকর্ষন করার ক্ষমতাও থাকতে হয়। এসব কথা কোনদিন গায়েই মাখেনি সে । মুনিয়ার চিন্তা শুধুই ক্যারিয়ার আর ক্যারিয়ার।

মুনিয়া আজ তার সারাজীবনের পরিশ্রমের ফল পেয়েছে । সে এখন বিসিএস ক্যাডার, একটি নামকরা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক । যেদিন বিসিএস পরিক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হয় সেইদিনটা মুনিয়ার জীবনের সেরা আনন্দের দিন। সারাজীবনের কষ্ট তার সার্থক হয়েছে। সে এখন যে পরিমান বেতন পায় তা তার একার জন্য অনেক বেশি। একদিন তার চাইনিজ খেতে ইচ্ছা হয়, সঙ্গী না থাকায় একাই গিয়েছিল সেদিন। মোটেই ভাল লাগেনি, খাবার অর্ডার দিয়ে চারভাগের একভাগ খেয়ে বাকীটা ফেলে রেখে এসেছিল। নিজেকে ওই পরিবেশে বড়ই বেমানান মনে হয়েছিল তার কারণ সবাই জোড়ায় জোড়ায় বসেছিল শুধু সেই একা। অন্যদের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে দেখে তারও বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন,বান্দরবন। কিন্তু একা একা এসব জায়গায় ভাল লাগবে না ভেবে পরিকল্পনা বাতিল করে।

যে সময়টুকু কলেজে থাকে সেটুকু সময় মুনিয়ার আনন্দে কাটে। কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তাকে খুবই ভালনাসে। মুনিয়া ম্যাডাম বলতে সবাই অজ্ঞান, মুনিয়াও ছাত্রছাত্রীদের আপনজনের মত ভালবাসে। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনা এবং ব্যক্তিগত যেকোনো সমস্যার কথা শুনে সে, এবং সমাধানের পথ দেখিয়ে দেয়। এজন্যই তার এত জনপ্রিয়তা। কলেজের পিকনিকগুলোতে দারুণ আনন্দের সময় কাটে তার। ছাত্রছাত্রীদের উচ্ছাস সে প্রাণভরে উপভোগ করে।

মুনিয়ার বাবা মা তার জন্য অনেক ছেলে খোজার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিসিএস ক্যাডার মেয়ের জন্য পাত্র পাওয়া কঠিন। যা পাওয়া যায় তাদের ডিমান্ড একটি সুন্দরি অল্প বয়সী মেয়ে। অবশেষে সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছে তার বিয়ের ব্যাপারে। তার ছোট ভাইবোনেরা সবাই বিয়েশাদী করে সুখে শান্তিতে আছে।

আজ মুনিয়ার সহপাঠী রাসেলের কথা মনে পড়ছে। রাসেল বেশ কয়েকবারই তার ভালবাসার কথা মুনিয়াকে বলেছে। সে কৌশলে এড়িয়ে গেছে প্রতিবারই। একবার ভ্যালেন্টাইন ডের আগের দিন রাসেল তাকে শাড়ি পরে সেজেগুজে ক্যাম্পাসে আসতে বলেছিল। মুনিয়া সেটা করেনি, সে সাধারণ পোশাকেই ক্যাম্পাসে গিয়েছিল । রাসেল সেদিন পাচটা লাল গোলাপ দিয়ে তাকে ভালবাসার কথা জানিয়েছিল। সেদিন রাসেলকে সরাসরি না করে দিয়েছিল। রাসেলকে বলেছিল
-দেখো রাসেল আমি এখন এসব ভাবতে চাই না। আমার কাছে ভাল রেজাল্ট এবং ভাল জব খুবই জরুরি। তারপর অন্য কিছু ভাববো।
মুনিয়ার আজ সবই হয়েছে শুধু রাসেল আজ অন্যজনের। রাসেল সেদিন খুবই অপমানিত বোধ করে। তার সাথে জিদ করেই তারই বান্ধবী শিখাকে প্রোপজ করেছিল,শিখা আজ রাসেলের বউ। ওরা অনেক সুখে আছে, ফেসবুকের কল্যানে আজ সবার খবরই পায় সে। এই ফেসবুক আজ মুনিয়াকে আরো বেশী বিষণ্ণ করে দেয়। তার মনে হয় পৃথিবীর সব মানুষ সুখে শান্তিতে আছে শুধু তার জীবনটাই অন্যরকম।

শাড়ি পরতে গেলেই মুনিয়ার রাসেলের কথা মনে পড়ে। সেদিন রাসেলের কথামত শাড়ি পড়লে তার জীবনটা অন্যরকম হতো। ঘরের জানালা দিয়ে ওয়ালের উপর একটা শালিক পাখিকে একা বসে থাকতে দেখে তার কষ্ট আরো বেড়ে যায়। আহা ওই শালিকটারও কি আমার মত একা!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:০৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×