
আবারো মনে পড়ে গেল গ্রামে কাটানো শৈশবের কথা, সে সময় আমাদের গাছগুলোতে বসে বেহায়া কোকিলটা ডেকেই যেতো। কোকিলের ডাক শুনলে আমিও চেষ্টা করতাম কোকিলের মত করে কু-কু-কু করে ডাকে তাকে ভেঙাতে কিন্তু বেহায়া পাখিটার কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না তাতে। সে আপন মনে ডেকেই যেতো, কু-কু-কু । কতদিন চেষ্টা করেছি পাখিটাকে দেখার জন্য কিন্তু কোনদিনই দেখা পায়নি বেহায়া পাখিটির। কোকিল আসলে পাতার আড়ালে বসেই কু-কু গান গায়, কোকিলকে দেখা যায় না কিন্তু শোনা যায় তার গান।
এখন নিশ্চয় আম গাছগুলো মুকুলে ভরে গেছে। এ সময় আমের বোলের ঘ্রাণে বাড়ি ম-ম করে। রাতের বেলা আমের বোলের কড়া একটা ঘ্রাণ পাওয়া যাতো,যে ঘ্রাণ রাতের বেলায় অদ্ভুত এক ধরনের মাদকতা সৃষ্টি করতো। আম্মা টক বরই ভর্তা করার সময় গাছ থেকে একটা আমের মুকুল ছিড়ে এনে আম্মাকে দিতাম। টক বরই ভর্তার সাথে ধনেপাতা আর আমের মুকুল দিলে খেতে দারুণ লাগে। কাঁঠাল গাছগুলোতে নিশ্চয় এখন ছোট ছোট মুচি এসেছে? একবার একটা কাঠালের মুচি ছিঁড়ে লবন দিয়ে খেয়েছিলাম,সে সময় খেতে খারাপ লাগেনি। আজ নিশ্চয়ই কাঠালের মুচি লবন দিয়ে খেতে ভাল লাগবে না।
আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটা শিমুল গাছ ছিল, এসময় গাছটিতে লাল টকটকে শিমুল ফুল ফুটে থাকতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতাম গাছের তলাটা শিমুল ফুল পড়ে রঙিন হয়ে আছে, দুর থেকে দেখলে মনে হতো কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সজনে গাছটাও হয়তো এখন ফুলে ফুলে ভরা।স্কুলের পাশের সেই কৃঞ্চচুড়া গাছটিও লাল লাল ফুলে ভরে উঠতো । দুএকটা শালিক পাখিকে দেখতাম ফুলগুলোতে ঠোকর দিতে, এখন বুঝি পাখিগুলো ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করে।
বসন্তের ঝিরিঝিরি ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগলে অদ্ভুত এক ভাল লাগা কাজ করে সবসময়। সত্যি বসন্ত ঋতুরাজ, যে ঋতুর কোন তুলনা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



