somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

ছোট গল্প : ফেসবুকের ব্লক লিস্ট

০৫ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর হঠাৎ করেই কি মনে করে ফেসবুকের ব্লক লিস্ট দেখলো নুপুর। বেশ কিছু বিরক্তিকর নাম আছে ব্লক লিস্টে যারা বিভিন্ন সময় তাকে নানাভাবে বিরক্ত করেছে। এমন মানুষের সংখ্যা ১০জন। অনেকের ছবি দেখে মনে মনে গালিও দিল। তবে এতসব খারাপ মানুষের ভিড়ে একটি প্রিয় নামও আছে এই লিস্টে। যার নাম সায়েম। সায়েম নুপুরের সাবেক সহকর্মী, খুবই ভাল ছেলে, যাকে নুপুর একসময় ভালবাসতো। নুপুরের মনে পড়ে যায় ৮ বছর আগেকার স্মৃতি।

নতুন অফিসে জয়েন করার পর আস্তে আস্তে সহকর্মীদের সাথে পরিচয় হয় নুপুরের। সায়েম নামের এক সহকর্মীর সাথেও তার পরিচয় হয়। সায়েম পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর তাকে বলে
- আপনার চাকরি পাওয়ার পিছনে আমারো কিছুটা অবদান আছে নুপুর ম্যাডাম।
-সেটা কিভাবে? জিজ্ঞাসা করলো নুপুর
-সায়েম বলে ৮০০সিভির মধ্যে শর্ট লিস্ট করার দায়িত্ব আমাকেই দেওয়া হয়েছিল। আমি লিস্টে ২০টি সিভি রেখেছিলাম, তারমধ্যে আপনার সিভিটিও ছিল।
-তাহলেতো আপনাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।
-শুধু ধন্যবাদ দিলেই হবে না একদিন কফিও খাওয়াতে হবে সায়েম বললো।
-অবশ্যয়ই কফিতো আপনার পাওনা হয়ে গেছে।
এভাবেই নতুন সহকর্মী সায়েমের সাথে নুপুরের বন্ধুত্ব বেশ ভালই জমে উঠলো। মাঝেমাঝেই কফি সপে যাওয়া হতো সায়েমের সাথে।

একদিন নুপুর অনুভব করে সে সায়েমকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু মেয়েরাতো কখনোই আগে ভালবাসার কথা বলে না। অবশ্য সায়েমের হাবভাব দেখেই নুপুর বুঝতে পারে সেও তাকে ভালবাসে।

একদিন স্বাভাবিকভাবে সায়েম ফোন দেয় নুপুরকে।
-হ্যালো ম্যাডাম আপনি ভাল আছেন বলে সায়েম।
-জি স্যার আমি ভাল ,আপনি? নুপুর বলে।
-আপনি আমাকে স্যার বলছেন কেন? বললো সায়েম।
-ঔই যে আপনি আমাকে ম্যাডাম বললেন তাই।
-তাহলে কি বলে ডাকবো আপনাকে?
-নাম ধরেই ডাকতে পারেন। নুপুর উওর করলো।
-ওকে মিস নুপুর আপনার বাসার সবাই কেমন আছে?
-জি ভাল, আপনার বাসার সবাই?
-জি, ভাল সায়েম বললো। এভাবে নানান কথা বলতে বলতে একসময় সায়েম জিজ্ঞাসা করলো
-আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড কেমন আছে?
এইবার নুপুর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর বললো,
-আচ্ছা আপনার উদ্দেশ্য কি মশাই? কায়দা করে জানতে চাচ্ছেন আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কি না? আপনি কি কিছু বলতে চান?
এবার ইতস্তত করলো সায়েম, এমনটা আশা করেনি সে। সায়েম বললো
-বলতেতো চাই অনেক কিছুই সুযোগ দিলেন কই?
-বলে ফেলেন, নুপুর বললো।
-আজ নয়, কাল যদি অফিস শেষে কফি সপে আসেন তখন বলবো, সায়েম বললো।

পরদিন অফিসে শেষে কফি সপে যায় নুপুর। সায়েম আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। ফোনে যতটা সহজ ছিল সায়েম বাস্তবে দেখা হওয়ার পর ইতস্তত করতে লাগলো।
-নুপুর বললো আপনি নাকি কি বলবেন? তাড়াতাড়ি বলে ফেলেন আমাকে বাসায় যেতে হবে।
-এরপর সায়েম ব্যাগ থেকে একগোছা ফুল, একবক্স চকলেট, একটি কার্ড বের করলো যাতে লেখা,' ভালবাসি, শুধু ভালবাসি নয়, বিয়েও করতে চাই '
এমন প্রস্তাবের কথা কোনদিন শোনেওনি নুপুর।
-ওরে বাবা প্রথম দিনই বিয়ের প্রস্তাব?নুপুর বললো।
-হুম জীবনে বহুত সময় পার করে ফেলেছি তাই ভনিতা করার সময় এখন আর নেই সায়েম বললো।

এরপর থেকেই নুপুর আর সায়েম দুজন দুজনার। তবে অফিসে সবসময় ফরমাল সম্পর্ক বজায় রাখতো। অফিস শেষ হলেই সায়েম নুপুরকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে তবেই নিজে বাসায় যেতো। এভাবেই বেশ ভালই সময় কেটে যাচ্ছিল তাদের।

একদিন নুপুর তার বাবাকে সায়েমের কথা জানালো। নুপুরের বাবা সায়েমের সিভি দেখে বললেন ছেলে পছন্দ হয়নি তার। ছেলের আর্থিক অবস্থা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কোনটাই আমাদের সাথে যায় না।নুপুর বার বার তার বাবাকে অনুরোধ করার পরও বাবা কিছুতেই রাজী হলনা। বাবাকে অগ্রাহ্য করে সায়েমের সাথে পালিয়ে যাওয়া নুপুরের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একসময় বাবার সিদ্ধান্তের নুপুরের বিয়ে হয়ে যায়।

নুপুর আজ তিন সন্তানের মা, অনেকদিন পর ফেসবুকের ব্লক লিস্টে সায়েমকে দেখে নুপুর ভাবলো শুধু অপ্রিয় মানুষ নয়, সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকেও অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে ব্লক লিস্টে রাখতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:৫০
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একালের আওয়ামী লীগের সাথে সে কালের বিএনপির পার্থক্য কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



সে কালের বিএনপি বিভিন্ন সময় আন্দোলনের গল্প শুনাতো। একালের আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় আপা আসার গল্প শুনায়। এর মধ্যে দু’বছর পার হয়েছে আপা আসেননি। সামনে ডিসেম্বরের মহাক্ষণে আপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামারুহ মির্জারাও সত্য মেনে নেয় যখন/ যদিও এর কোনো প্রয়োজনিয়তা আমাদের নেই॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


বিএনপি ঘরানার মুখ থেকেও যখন সত্য বেরিয়ে আসে, তখন তা ইতিহাস হয়ে থাকে!

বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জার একটি সত্য স্বীকারোক্তি......
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ছাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কান্নার প্রতিধ্বনি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


এই গল্পটি একটি ফিকশন ক্রাইম স্টোরী, বাস্তবের একটি ঘটনার ছায়াবলম্বনে লেখা হয়েছে।

১০ মে, ২০১৮। টেকনাফ।

কাউন্সিলর শামসুল আলমের (৪৮) দোতলা বাড়িটি আজ বেশ আলো ঝলমলে।

বসার ঘরে ছোট মেয়ে সুমাইয়া (১২) গণিতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×