

(কিছুদিন আগে সেইদিন এইদিন শিরোনামে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম এটা তার পার্ট২ বলতে পারেন)
আমাদের বয়স্ক জনেরা অনেকেই বলেন কি সময়টাই না তখন ছিল : পুকুর ভরা মাছ ছিল, গোলা ভরা ধান ছিল, গোয়ালে গরু ছিল,খাঁচা ভরা মুরগী ছিল আরো কত কি? মোটকথা তখন ছিল স্বর্গ সুখ আর এখন নরক যন্ত্রণা। বিষয়টা কি আসলে এমন? আমাদের বাপ দাদারা তখন কি খুব সুখে ছিল,নাকি এখন আমরা সুখে আছি? আজ সেকাল আর একাল এর তুলনা করি :
সেকাল :
আমাদের বাপ দাদাদের সময় কোন কিছুতেই ভেজাল ছিল না। উনারা নিজের পুকুর থেকে টাটকা মাছ খেতেন। নিজের জমির ধান থেকে চাল বানিয়ে খেতেন, তখন শুধুমাত্র গরিব লোকেরাই বাজার থেকে চাল কিনে খেতো। তখন ধনী গরিবের বিচার হতো, ধানের গোলা,পুকুরের মাছ,গোয়ালের গরু দিয়ে। যার ধানের গোলা যতবড় সেই তত ধনী । বিষয়টা এমনই ছিল। বাড়ির সবাই হাড়ভাংগা খাটুনি খাটতো। মহিলাদের পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি ছিল। তখন এক একজন মহিলা ৭-২০টা পর্যন্ত বাচ্চার মা হতো। যার বাচ্চাকাচ্চা যত বেশি তার লাঠি ততই শক্ত, তাই পুরুষেরাও বাচ্চা জন্মদানে বেশি মনোযোগী ছিল। মানুষ তখন প্রকৃতিরর মাঝেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতো, (বন জংগল, খোলা যায়গায়)।
তখনকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। যেকোনো জরুরী প্রয়োজনে কাউকে চিঠি লিখলে সেই চিঠি তার কাছে পৌঁছাতে এক দেড় মাস লেগে যেতো। আবার কোন কোনটা ডাক পিয়নের বাড়িই থেকে যেতো প্রাপকের কাছে পৌছাতো না। জরুরি প্রয়োজনে টেলিগ্রাম করা হতো(কারো মৃত্যুর খবর জানাতে), টেলিগ্রাম পাওয়া মানেই কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া,টেলিগ্রাম এর ভাষা এমন হতো : 'mother serious please come'
শহরেও তখন খুব কম মানুষের ই ল্যান্ডফোন ছিল। যাদের ল্যান্ডফোন ছিল তারাই ছিল অভিজাত ফ্যামিলি। অনেকেরই ল্যান্ডফোন এ কথা বলার মানুষ ছিল না তবুও ফোন রাখতো আভিজাত্য প্রকাশের জন্য। ঢাকা থেকে নড়াইল, যশোর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম যেতে তিন চার দিন লেগে যেতো। শহুরে ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো দেখলেও, গ্রামের মুসলির পরিবারের ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকতো। কিছু কিছু পরিবারের ছেলেরা মক্তবে মাদ্রাসায় গেলেও মেয়েরা ১০০% ই থাকতো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তখন ফসলের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে মানুষের হাতে কাজ থাকতো না, তাই অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতো।
একাল :
একালে হয়তো উপরের অনেক সমস্যাই নেই। মোবাইল ইন্টারনেট মানুষের জীবন যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার সাথে সাথে যোগ হয়েছে নতুন নতুন সমস্যা। ট্রাফিকজ্যাম, পরিবেশ দুষন,খাবারে ভেজাল ইত্যাদি আমাদের প্রধান সমস্যা।
দারিদ্র বেকারত্ব এসব সমস্যা এখনো আছে তবে আগের দিনের সাথে তুলনা করলে অনেকটাই কম। গ্রামের সেই মাটির রাস্তা আর নেই,এখন সব ইট পাথরের রাস্তা। গ্রামে এখন কাচা বাড়ীর পরিবর্তে উঠছে পাকা বাড়ি। ফসল উৎপাদনে এখন ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার। গ্রামের মানুষ এখন আর আগের মত সহজ সরল জীবনযাপন করতে চায় না। তারাও দ্রুত নিজেদের উন্নতি চায়। গ্রামের মানুষ এখন শহরমুখী, সবাই তাদের ছেলে মেয়েকে শহরে পাঠাতে ব্যস্ত। মানুষের অতিরিক্ত শহরমুখীতায় শহরে চাপ বাড়ছে। তাই গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমানো জরুরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
