somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

হোম কোয়ারেন্টাইনের দ্বিতীয় দিন( ব্যক্তিগত ডাইরি)

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





২৬.০৩.২০২০

আজ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। প্রতি বছর এই দিবসটা যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তবে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতংকে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানই বাতিল হয়ে গেছে। ২৫শে মার্চের সেই ভয়াল কালোরাতের কথা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে । কতটা নির্মম আর নিষ্ঠুর হলে এভাবে মানুষ মানুষকে হত্যা করতে পারে। প্রকৃতিতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা তাদের স্বজাতিকে হত্যা করে। আমার মতে মানুষ যেমন আশরাফুল মাখলুকাত আবার কখনো কখনো এই মানুষই সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী।

চমৎকার একটি সকাল, মসজিদে ইমাম সাহেব ফজরের নামাজের সুরা কেরাত তেলোয়াত করছেন তারই শব্দ ভেসে আসছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন মসজিদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেরই মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের চাপ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাসাতেই নামাজ আদায় করছেন। সম্ভবত ইমাম সাহেব দুই একজন মুসল্লিকে সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করছেন। গতকাল(২৫.০৩.২০২০) মসজিদের সামনে গিয়েছিলাম , তালাবদ্ধ মসজিদের সামনে লেখা "হাত ধুয়ে মসজিদে প্রবেশ করুন"। এখন চাইলেও মসজিদে প্রবেশ করা যাবে না, এমন দিন দেখতে হবে আমরা কি এটা কোনদিন ভেবেছি?

শুধু মসজিদ নয় বাসার পাশের ছোট্ট কাচাবাজারটির সামনেও সাবান পানি রাখা হয়েছে হাত ধোঁয়ার জন্য।

বাইরে থেকে কিছু চেনা পাখির ডাক ভেসে আসছে, এরা শহুরে পাখি। শব্দশুনেই বোঝা যাচ্ছে চড়ুই, শালিক, কাকসহ নাম না জানা কিছু পাখি। এরা মানুষের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেচে থাকে। মানুষের মত এদের জীবনযাত্রাও সম্ভবত কঠিন হয়ে পড়েছে মানুষ ঘর বের না হলে এদের খাবারেরও সমস্যা হবে। কাক হয়তো ময়লার ডাস্টবিন ঘেটে তার প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবে তবে অন্য পাখিদের জন্য সংগ্রহ করা কঠিন হবে। আমরা চাইলে এসব শহুরে পাখিদের জন্য নিজেদের বাসার সানসেটের উপর কিছু চাল ফেলে রাখতে পারি। তাছাড়া রাস্তার কুকুর বিড়ালদের কথাও ভাবা উচিত এরা হোটেল, মুদি দোকানের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেচে থাকে। গত দুই তিনদিনে খুববেশি কুকুরের ডাক কানে আসছে না কোথায় গেল কুকুরগুলো? এদের সামনেও মহাবিপদ।

বাজার করার জন্য গতকাল বাইরে গিয়েছিলাম । ফাঁকা রাস্তার পাশে রিকশাওয়ালাদের বিরাট লাইন দেখতে পেলাম। কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে গেলাম জানতে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টা পরিস্কার হল। যেহেতু ঢাকার অধিকাংশ মানুষ ঘরে বন্দী তাই রিকশা ওয়ালাদের রোজগার নেই বললেই চলে এটা বিবেচনা করে রিকশাওয়ালাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন কিছু মানবিক মানুষ যারা চাল, ডাল,আলু,পিয়াজ বিতরণ করছেন। দুনিয়া এখনো পচে যায়নি এখানো কিছু মানুষ আছেন যাদের অন্তর মানুষের জন্য কাদে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র মানুষের জন্য খারারের ব্যবস্থা করছেন। এদের পরিচালিত এক টাকার আহার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশের সব শ্রেণীর মানুষ অনুদান পাঠাচ্ছেন এটা সত্যি চমৎকার একটি বেসরকারি উদ্যোগ। ওরা নিজেরাই লিখেছেন কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ১০টাকা দিচ্ছেন আবার অনেক ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্রাক ভর্তি করে খাবার পাঠাচ্ছেন। জানি না ওরা কিভাবে এগুলো বিতরণ করছেন,এতো বিরাট কঠিন কাজ! এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।

লাজ ফার্মায় গিয়েছিলাম কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ কেনার জন্য। লাজ ফার্মর কর্মীরা চাহিদামত ঔষধ দিতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন। প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধের বিপুল চাহিদা এসব ঔষধ একপাতার বেশি বিক্রি করছেন না লাজ ফার্মার বিক্রয়কর্মীরা। তাছাড়া ডেটল, সেভলন, হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না ফার্মেসিগুলোতে। ফার্মেসির সামনে নোটিশ লাগানো
" প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঔষধ কেনা থেকে বিরত থাকুন সবাইকে ঔষধ কেনার সুযোগ দিন"

এই নোটিশ থেকেই অনুমান করা যায় ঔষধের চাহিদার ব্যাপারটা।

বাজারে মাছের দাম বেশ বেড়েছে । তবে শাকসবজির দাম আগের মতই আছে।ক্রেতাদের ভিতর প্রচুর তাড়া দামাদামি করার সময় কারো নেই, দোকানীরা দাম যা চাইছে তা দিয়েই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ডাক্তাররা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য লেবু খেতে বলছেন তাই লেবুর বিপুল চাহিদা, একহালি লেবুর দাম ৪০-৬০ টাকা পর্যন্ত যা স্বাভাবিক সময়ে ছিল ১৫-২৫ টাকা মধ্যে।

ইন্টারনেটে দেখলাম কলিকাতা পুলিশের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের দেশের পুলিশও রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষকে পেটাচ্ছে। আমার ধারণা যাদের পেটানো হচ্ছে এরা চায়ের দোকানে আড্ডাবাজীর জন্য বের হননি পেটের দায়ে রাস্তায় বের হয়েছেন।

একটি ভাইরাস যাকে খালিচোখে দেখা যায় না সেটাই আমাদের দৈনন্দিন কর্মমুখর জীবনটাকে নিথর করে দিয়েছে। ইউরোপ আমেরিকার মত পরাশক্তিরা এই ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে অসহায়। জানি না এর শেষ পরিণতি কি?

তারেক মাহমুদ
২৬.০৩.২০২০
সকাল ৭.৩০
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:১৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুটা আত্মকথন, কিছুটা স্মৃতিচারন আর আমার গানের ভুবন!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০১ লা জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৩




কোন একটা ক্রাইসিসে একেক মানুষ একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সবার একরকমের হয় না। মানুষ হিসাবে আমি কেমন….…..দুর্বোধ্য নাকি সহজবোধ্য? প্রশ্নটা আমার নিজের কাছেই।

গত কয়েকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৭)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০০

বিভিন্ন সময়ের তোলা কিছু ছবি ।
১। পিটুনিয়া



কেমন আছেন সবাই? কেমন ছিলেন? বন্দিত্বের দিনগুলোতে। অনেক দিন গ্যাপ হয়ে গেলো পোস্ট দিচ্ছি না। বন্দি থেকে থেকে হয়রান হইতে হইতে অফিস করছি এখন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খানসাব জানিলো কেমনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫


খানসাব জানিলো কেমনে!!
নূর মোহাম্মদ নূরু

ও মনু তাইলে তুমিও ছিলা ওদের দলে
বুঝছ এখন ক্যামনে তুমি পড়াছা যাতা কলে!
বারোটা সাঙ্গাত যখন উঠলা রাতের ট্রেনে
মতি গতি ভালোনা তা বুঝলো আামার ব্রেনে।

মজা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান সৌন্দর্য্য

লিখেছেন শের শায়রী, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০৩



একেই বলে আমেরিকান সৌন্দর্য্য। সব খানে জর্জ ফ্লয়েডের কারনে আমেরিকায় শুধু মারামারি, হানাহানির ছবি খবর দেখে বিরক্ত। কারন এতে আমি নতুনত্ব কিছু খুজে পাই নাই। আমাদের দেশে এসব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

লিখেছেন অনল চৌধুরী, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০



ইউরোপ-এ্যামেরিকায় প্রতিদিন মুসলমান-এশিয় ও আফ্রিকানদের উপর জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণ হয়।
এ্যমেরিকাতে এখনো কালোদের প্রায় ক্রীতদাসই ভাবা হয়।

তাদের প্রতি পুলিশের আচরণই তার প্রমাণ।পুলিশ তাদের যেকোনো সময়ে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এমনকি হত্যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×