somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তরুন ইউসুফ
কাব্যগ্রন্থ : ট্রাফিক সিগন্যালে প্রজাপতি, না গৃহী না সন্ন্যাসী; রম্যগল্পগ্রন্থ : কান্না হাসি রম্য রাশি। ছোটদের বই : রহস্যে ঘেরা রেইনফরেস্ট ইতিহাস গ্রন্থ: শেরে বাংলা ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিছু দুষ্প্রাপ্য দলিল

‘আমার জন্মদিন ও জন্মকথা’

২৬ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ খুব গুরত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটল । একটি জাতি একটি দেশ স্বাধীন হিসেবে জন্মগ্রহণ করল । তার ঠিক ২৬ বছর পর ১৯৮৯ সালের ২৬ মার্চ সকাল ৫ ঘটিকায় খুব দুর্বল, দারিদ্র পীড়িত এক মহিলার প্রসব বেদনা উঠল এবং টানা তিন ঘণ্টা বেদনা ভোগ করার পর অবশেষে ঠিক ৮ ঘটিকায় একটি সন্তান প্রসব করল । সদ্যজাত সন্তানটি নাকি এতোটাই ছোট এবং শীর্ণ ছিল যে, তার পেটের নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল । তারপরও সেই শিশুটি চিৎকার করেছিল এবং পরবর্তীতে নানা ঘাত প্রতিঘাত পার হয়ে তার জীবনের ২৬ টি বছর পার করল। এখন সে ২৬ বছরের পরিপূর্ণ যুবক। যদিও শারীরিক শীর্ণতার কারনে তাকে কিশোর বলে ভ্রম হয় । সেই শিশুটিই আমি।
জন্মের সময় মায়ের পক্ষ থেকে আমার নাম রাখা হয়েছিল তরুণ । বাবা ধার্মিক মানুষ ।নবীর নামে নাম রাখলেন ইউসুফ। দাদিও একখানা নাম দিয়েছিল মানিক কিন্তু এই দুই নামের চাপে সে নাম বেসিদিন টিকতে পারেনি। একটু হাত পায়ে বেড়ে ওঠার পর যখন বুদ্ধি সুদ্ধি কিছু গজালো, একটু আধটু কবিতা লিখতে শুরু করলাম তখন খায়েশ হল নাম পরর্তনের । তবে বাবা মা কাউকেই হতাশ করিনি। মায়ের দেয়া তরুণ এবং বাবার অংশের ইউসুফ যুক্ত করে নাম ধারন করলাম তরুণ ইউসুফ ।অবশ্য সেটা লেখালেখির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ।
জন্মদিনের কথা আসলে জন্মদিন পালনের কথা চলে আসে । এখন অবশ্য জন্মদিন পালন হয় জন্মদিনের পার্টি করে। আমার জীবনের ১৬ তম জন্মদিন পর্যন্ত জন্মদিন বা জন্মদিন পালনের ব্যাপারের সাথে পরিচিত ছিলাম না। একে তো অজপারাগায়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম তার উপর পারিবারিক অবস্থা ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরায় এই আর কি। নানা বাড়ীর অবস্থা বেশ ভালো ছিল। তাদের ওখানে কখনও জন্মদিনের কোন অনুষ্ঠান হয়েছে কি না বলতে পারব না। তবে আমার ১৭ তম জন্মদিনটা ছিল অন্যরকম। তখন কলেজের মেছে থাকি। বিকেলে ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার খুব ভালো একজন বন্ধু সন্ধ্যার দিকে ডেকে তুলে আমাকে সারপ্রাইজ দিল। একটা ছেলে যে জন্মদিন পালন তো দূরে থাক জন্মদিনের ব্যাপারটাই জানতোনা, তাকে যদি ঘুম থেকে ডেকে তুলে, খোলা মাঠের মধ্যে সামনে খুব সুন্দর ছোট্ট একটা কেক দিয়ে, মাথায় জাতীয় পতাকা বেধে দিয়ে happy birtday বলে একবার চিন্তা করে দেখেন তার কেমন লাগবে। তখন সূর্য ডুবে আকাশে লালিমাটুকু ছিল। সেই সন্ধ্যা, আরজুর দেয়া সেই সুন্দর ছোট্ট কেক, লাল সবুজ পতাকা আমি সারা জীবন আমার স্মৃতিতে রেখে দিব। এই স্মৃতিটুকু মিষ্টি স্মৃতির একটি হয়ে থাকবে। এখন আমি ইচ্ছে করলেই অনেক বড় কেক কিনতে পারি, অনেক আয়োজন করে জন্মদিন পালনের সামর্থ্য রাখি কিন্তু আরজুর দেয়া সেই মিষ্টি কেকের আনন্দ কখনও ভুলতে পারব না।
বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্লাসের বন্ধুরা মিলে আমার জন্মদিন পালন করল। আমি হলফ করে বলতে পারি আমার ব্যাচে আমার জন্মদিনই প্রথম সবাই মিলে একসাথে পালন করে এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বন্ধু সেখানে উপস্থিত ছিল। খুব মজা হয়েছিল সেদিন।আজকে এই ২৬ তম জন্মদিনে এসে বন্ধুদের কথা খুব মনে পড়ছে।
বল্টুর মায়ের সাথে প্রেম হওয়ার পর জন্মদিনটা ছিল একটু আলাদা, অন্যরকম, মিষ্টি.......সময় গুলো কত তারাতারি চলে যায় তাই না। ব্যস্ততা, দূরত্ব......। চাকরি পাওয়ার পর এটা আমার প্রথম জন্মদিন । ইচ্ছে ছিল ঘটা করে পালন করব। বিভিন্ন কারনে হয়ে উঠল না। তাই এবারের জন্মদিনটা সধারন হয়েই অসাধারণ হয়ে থাক।তবে আমি খুব ভাগ্যবান। যে দিন একটি জাতি নতুন করে জন্মগ্রহণ করল সেই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। আমি জন্মদিন পালন না করলেও চারিদিকে উৎসব হবে, আলোকসজ্জা হবে,পালন করা হবে পুরো জাতি তথা দেশের জন্মদিন । তাই জন্মদিন পালন করতে না পারার দুঃখটা থাকল না ।
আমার মা কে স্বার্থপরের মত ধন্যবাদ জানাচ্ছি, খুব শারীরিক দুর্বলতা, খুব আর্থিক কষ্ট নিয়েও আমাকে আমাকে গর্ভে ধারণ করে অবশেষে সফলতার সাথে জন্মদেয়ার জন্য।
আর কেন জানি না আমার খুব কান্না পাচ্ছে। বুকের ভিতর একটু একটু করে বাস্প জমা হচ্ছে। জানি না বাস্প মেঘ হয়ে বৃষ্টি হবে কি না। তবে হলে সেটা হবে নিভৃতে, গোপনে। অনেক বড় হয়ে গেছি যে। ২৬ বছর আগে যখন জন্মগ্রহণ করেছিলাম তখনও কেঁদেছিলাম। সেই কান্নায় চিৎকার ছিল আস্রু ছিল না । আজ ২৬ তম জন্মদিনে যদি কান্না পায় অশ্রু থাকবে চিৎকার থাকবে না ।
আর হ্যাঁ শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ । তুমি না জন্মগ্রহণ করলে জন্মদিনের কথাগুলো এতো নিশ্চিতে বসে লিখতে পারতাম না কিংবা হয়ত লেখাই হতো না । সবাইকে অনেক অনেক সুভেচ্ছা । ভালো থাকবেন সবাই ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×