স্ত্রীকে হত্যার পর চার টুকরা করে কার্টনে ভরে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন সাইফুল ইসলাম (৩৪)।
গতকাল শনিবার রাতে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুভপুর সেতুর পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পুলিশ সাইফুলকে আটক করে। তিনি চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙার (শিপইয়ার্ড) কাজ করেন।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থানার নিউ মুড়িং আবাসিক এলাকায় একটি দোতলা বাড়িতে স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিনকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সাইফুল। প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বছর খানেক আগে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন সালমা নামের এক কলেজছাত্রীকে। এ নিয়ে ফারজানার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাতে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। এরপর ফারজানা ঘুমিয়ে পড়লে ঘুমন্ত স্ত্রীকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সাইফুল। পরের দিন শনিবার সারা দিন স্ত্রীর লাশ কী করবে, তা নিয়ে চিন্তা ভাবনার পর লাশটিকে মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু গোটা লাশ বহন করা কষ্টকর হবে চিন্তা করে লাশটিকে ছুরি দিয়ে চার টুকরা করেন। এরপর দুই টুকরো বাসার রেফ্রিজেরেটরে (ফ্রিজ) রেখে দুই টুকরো মাছ বহনের কার্টনে ভরে বরফ দিয়ে গ্রামের বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ বল্লভপুরের দিকে রওনা হন। চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে মাছের দুটি কার্টন নিয়ে তিনি মিরসরাইয়ের বারইয়ার হাট পৌঁছেন। সেখান থেকে কার্টনে ইলিশ মাছ আছে বলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে ছাগলনাইয়ার পথে রওনা দেন।
বিএনপির হরতাল সামনে রেখে এবং মাদকদ্রব্য তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ শুভপুর সেতুর পাশে একটি চেকপোস্ট বসায়। সেখানে পৌঁছার পর পুলিশ অটোরিকশা থামিয়ে কার্টনে কী আছে, জানতে চাইলে সাইফুল রুই মাছ আছে বলে জানান। পুলিশ কার্টন খুলতে চাইলে তিনি পুলিশকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দিতে বলেন। পরে পুলিশ ওই কার্টন খুলে এক নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে ও তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
আজ রোববার সকালে ছাগলনাইয়া থানায় গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে স্ত্রী ফারজানাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে অনুতপ্ত হন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুল আবসার প্রথম আলো অনলাইনকে জানান, খণ্ডিত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ফারজানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশটি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাইফুলকে চট্টগ্রামের বন্দরথানা পুলিশের হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


