somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

 তাসিন
খুব সাধারন এক জন লেখক , তবে অবশ্য প্রফেশনাল লেখক নই.... মুক্ত চিন্তা ও মুক্ত জ্ঞানে বিশ্বাসী। এক গুয়ে স্বভাব অপছন্দ...

আমি রাজনীতি ঘৃনা করি না

০৬ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি রাজনীতি ঘৃণা করিনা।
নোংরা রাজনীতি ঘৃণা করি। সেই ছাত্র
রাজনীতি ঘৃণা করি,যে রাজনীতি আমার
বন্ধুদের এক মুহুর্তে অচেনা করে দেয়,
চোখে চোখ মেলাতে ঘৃণাবোধ হয়
এমনিভাবে আদর্শ থেকে বিচ্যুত
করে দেয়,স্বার্থপর করে দেয়, অসভ্য
করে দেয়, লাশ বানিয়ে দেয় আর সেই লাশ
দেখে কষ্ট হয়, ব্যথায়
চমকে উঠি তাকে ঘৃণা করি। এমন কেন
হয়? আমাদের মেডিকেল
কলেজে রাজনীতি চালু হওয়াটা আমার
কোনকালেই ভাল লাগেনি। ছাত্রলীগ আর
ছাত্রদলে দুটোতে ঢোকার প্রস্তাব
বিনয়সহকারে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম!
আমি লীগ অথবা দলের মিছিলে গলার রগ
ফুলিয়ে চিল্লাচ্ছি এটা চিন্তা করেই
হাসি পেয়ে যাচ্ছিল। আমার এক বন্ধু লোভ
দেখিয়েছিল, তুই জানিস
রাজনীতি করলে কত সুবিধা পাবি! ঐ দল
ক্ষমতায় থাকলে তোর প্রফ পাশ ঠেকায়
কে? পিজিতে হায়ার স্টাডির সিট
বরাদ্দ থাকবে এখন থেকেই।
আমি অবাক হয়ে শুনেছি। এতই সহজ?
লোভে পড়ে নিজেকে কলুষ
করতে রাজি হইনি তা নয় আসল
কথা আমি অনেক ভীতু। এই ভয়টাই
আমাকে বারবার খারাপ থেকে নিবৃত্ত
রেখেছে।
জীবনে আর যাই করি কখনো কোন অন্যায়ের
সাথে আপোষ করবনা। আই উইল শাউট!
গলার জোর যতই কম হোক ,চিত্কার করবোই!
বাবা এবং মা নামের দুটি প্রাণী এই
পৃথিবীতে আমার সম্প্রদান
কারককে মহিমান্বিত করে রেখেছেন।
প্রায়ই
ভাবি আমাদেরকে দূরে পাঠিয়ে সারাজীবন
তারা অপেক্ষায় থাকেন,
কবে বাড়ি ফিরব! তাদের অপেক্ষাকে যেন
এমনি এমনি বোবা কান্নায় না ভাসাই।
ছোট
ভাইয়া আপুরা যারা বাসা থেকে দূরে পড়াশোনা করছো তোমরা প্লিজ
কখনো কিছু করার আগে নিজের
বিবেককে প্রশ্ন করে দেখবে এই
কাজটা কি ভাল হবে? আমার
বাবা মা কি এই কাজে কোন দুঃখ পাবেন?
এখানে অবাধ স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার
কেউ নেই। একটু খামখেয়ালিপনায়
পা হড়কাবেই। কাদায় ডুবে যাবে। কিছু
করার আগে একটু তাদের কথা ভেবো।
যারা আর কিছুদিন পরেই দেশের শ্রেষ্ঠ
বিদ্যাপীঠগুলোতে
পড়তে যাচ্ছো কারো প্ররোচনায়
কিংবা জবরদস্তিতে রাজনীতিতে জড়াবেনা।
যদি তোমার একান্ত ইচ্ছে থাকে জড়াও
কিন্তু নিজেকে নোংরা হতে দিওনা।
একজন নোংরা মানুষ হওয়া সহজ । একজন
খাঁটি মানুষ হওয়া অসম্ভব কিন্তু চাইলেই
ভেতরটাকে পরিষ্কার রাখতে পারো।
ভেতরটাকে পরিষ্কার রাখার একটা সহজ
উপায় মানুষকে ভালবাসতে শেখো।
বিরুদ্ধ রাজনীতির জন্য তোমার বন্ধুর
বুকে ছুরি চালানর
আগে বাড়ি থেকে বহুদূরে পড়তে যাওয়া একমাত্র
ছেলেটার চেহারা ভাসতে থাকায় ভাল
তরকারিটা দিয়ে ভাত
মুখে তুলতে না পারা এক মায়ের কথা ভাব,
ভাঙা ফ্রেমের চশমায় কান্না আড়াল
করা তার বাবার কথা ভাবো,
বেনী দুলিয়ে এটা সেটা বায়না করা আর
খাতায় সুযোগ পেলেই আবোল তাবোল
আঁকিয়ে তার ছোট বোনটার কথা ভাব
কিংবা বিকেল বেলার পড়ন্ত রোদ লাজুক
ঠোঁটে মেখে শান্ত কৃষ্ণচূড়ার তলায়
ছেলেটির জন্য গভীর ভালবাসায়
অপেক্ষারত এক মায়াবতীর কথা ভাবো।
যাকে তুমি ঘৃণা করো এমন
করে ভাবলে তার জন্যেও মায়া হবে।
ক্ষমতা অদল বদল হয়। রুই
কাতলারা সুখে থাকে। আর দশটা দেশের
ছাত্র ছাত্রীরা দেশকে কিছু দেওয়ায়
ব্যস্ত থাকতে ভালবাসে , আর
তোমরা মর্গে তাজা লাশ
হয়ে পড়ে থাকতে ভালবাসো।
ডিসেকশন রুমের লাশটার কেউ নেই।
বেওয়ারিশ লাশ। অথচ
তারো মা ছিল,বাবা ছিল ভাই ছিল বোন
ছিল, প্রিয়তে রাখা কোন মুখ ছিল। পকেট
ভর্তি সুখ ছিল। এখন
সে ফরমালিনে ডুবে থাকে একা একা।
লোভ আর স্বার্থপরতায় তোমরা বেওয়ারিশ
হয়ে যাচ্ছ দিনকে দিন।
বেওয়ারিশ হচ্ছে ভেতরটা।
ভাল বোধ গুলো মারা যাচ্ছে। একদিন
তোমাদের ভেতরের বিবেকটাও
ফরমালিনে শুয়ে থাকবে, সকাল বিকেল
দুবেলা ডিসেকশন হবে।
মাছের বাজার আছে,মাংসের বাজার
আছে .. বিবেকের বাজার নেই।
থাকলে কিনে রাখতাম । কিছু
বিলিয়ে দিতাম কিছু ভেতরে পুষতাম
মানুষকে ভালবাসা অতীব সহজ ..
ঘৃণা করা অতীব কঠিন .. ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×