somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্প : হোমার ও একজন অন্ধ ভিক্ষুক

০৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ। গলচে শুয়োরের চামড়ার মতো রাস্তা। যানের চাকা পাথুরে কয়লা চুমিয়ে যাচ্ছে। সময় সালভাদর দালির ঘড়ির মতো গলিয়ে পড়ছে। সাথে থাকা রবীন্দ্রনাথ পড়ে থাক হিটলারের লাইব্রেরিতে। নিজেকে ভরশূন্য মনেহয় । প্রাক-পৌরাণিক বাল্যবন্ধুহারা উটপাখির চেয়ে অসহায় লাগে। স্টেশন আর.... কদ্দুর। তাকে যে যথাসময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। শুঁয়োপোকা বা বানরমানুষ নয় প্রজাপতি হতে মন চাইল তার। কয়েকটা যুদ্ধবিমান আকাশপথে মহড়া বসিয়েছে। মধ্যাহ্ন ছুটিতে খালি পায়ে সহস্র যুবতী। তারা আকাশমুখি হয়ে বিমান বিমান খেলা দেখছে। নতুনাগতদের কাছে মহাপতঙ্গের শহুরে ভার্সন হিসেবে ঠেকছে বিমানকে। কিছু দাঁড়কাক সময় গুণছে অপরাহ্ণের। গাড়ি এখনো কালো পাথরে গা ভাসিয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে চলছে। নিরাময় ক্লিনিক শেষতো ট্রেন স্টেশন। গাড়ি এবার খরগোশ গতিতে চলতে শুরু করলো। ওই ক্লিনিকই জটের মূলে। শাদা বললে আর্মড পুলিশ। কবুতর ভেবে কাকের মাংস ভক্ষণে প্রাণ বিয়োগ উপক্রম। আর প্রাণ যোগে প্রথা ভেঙ্গে নিরাময়ে। গতির টানে তান ধরলো গাড়ি। শিল্পীর গলায় লালন আবার গেয়ে ওঠলো ...যা ছুঁইলে প্রাণে মরি... এ জগতে তাইতে ত্বরি; ...বুঝেও তা বুঝতে নারি... কীর্তিকর্মার কী কারখানা। ট্রেনঘর হতে হুঁইশেল বেজে ওঠলো। যেনো মনে হলো মিকাইল শিঙ্গায় ফুৎকার দিয়েছে। এই বুঝি প্রলয় প্লাবনে রূপ নিল। নভোগতিতে স্বীয় আসনে পৌঁছামাত্র খবর হলো তরি আজি তারিই। হৃদক্যানভাসে ভেসে ওঠলো এক টুকরো চক বুকপকেটে একটি কলম আর মোটাফ্রেমের একটি চশমা। জীবনটা পড়ে থাকে জীবনহীন। সত্যের মতো বদমাইশসহ আরো অন্যান্য সবকিছু খসে পড়ে। আশাহত হোমার। আশায় বসতি ছিল যার। হঠাৎ ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ ভেসে আসে কানে। প্রদীপ হাতে এক অন্ধ ভিক্ষুক। যে শাদা কাফনে মুড়িয়ে হোমারকে গোরে নিয়ে যাচ্ছে। শবযাত্রী ট্রেনের সবযাত্রী আর তাদের যতোসব সামান। ফাঁকা ট্রেনে জানালার ফাঁক দিয়ে তাড়া খাওয়া অসংখ্য ইঁদুর মুখে কি যেনো নিয়ে ডুকে পড়ছে। ....আগমনি ট্রেনের শব্দে সম্বিৎ ফিরে আসে হোমারের। আর চোখ মেলে দেখতে পায় হোমার হাতে এক অন্ধ ভিক্ষুক পরবর্তী ট্রেনের টিকিট নিয়ে দাঁড়িয়ে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×