somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প : ঊষা ও সূর্য

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনুগল্প : ঊষা ও সূর্য

ওর নাম ইল। বন্ধুমহলে ইলা। স্কুলের রেজিস্ট্রি খাতায় অবশ্য অন্য নাম।
ইল ইলা’র বাবার দেয়া নাম-ঊষা। ঊষাকালে জন্ম বলে এমন নামকরণ।
প্রমোশন খাতায় দুটো নাম দেখে দ্বিধায় পড়েন স্কুলের সেকেন্ড মাস্টার হরহরিবাবু।
অভিভাবক ডেকে নাম শুধরানোর কথা বলে-ইল ইলা ঊষা সূর্য’কে।
মা’র অসুস্থতা এবং অপারগতার কথা বলে বাবা ঠিক করে-
ঊষা সামান্ত।
ক’দিন পর মা প্রকৃত অভিভাবকের দোহায় দিয়ে ঠিক করে যায়-
সূর্য সামান্ত।
নাম জটিলতায় প্রমোশন আটকে পড়ে। আসল নাম ঠিক না হলে প্রমোশন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় স্কুল কমিটির বড়কর্তা।
কথার বরখেলাপ হলো না।
অতঃপর ডিমোশন।
স্কুলের সহপাঠিরা তার ছবি স্কেচ করে। মাথায় শিঙ গজিয়ে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের জিন বানিয়ে দেয়। কখনো নাকফুল। কানফুল। আবার কখনো উসকো চুলে বেণী ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রমোশন পাওয়া বন্ধুরা কবিতা বানিয়ে টিফিন ছুটিতে সবাইকে পড়ে শোনায়।
অবশ্য ব্যঙ্গ কবিতা।
মা-বাবা সূর্য, ঊষা রাখলেও ইল নামটি যে কে রেখেছে এ রহস্যের জট খুললো সহসা।
- ইল, তুই আবার এই ক্লাসে!
বাক্যটি বাংলার হেড পণ্ডিত বশিষ্ঠদেবের করা। সুতরাং.....
নাম নিয়ে মা-বাবার দ্বৈত মত থাকায় ইল নামটিই তার পছন্দের ছিল। বন্ধুরা ইলা বললেও সে বড়ো বেশি নারাজ হতো না।
এভাবে বছরান্তে আবার প্রমোশন পরীক্ষা।
ক্লাস টিচার বশিষ্ঠদেব। এর একটা বিহিত করতে চান।
লোক মারফত অভিহিত করেন, ইলের মা-বাবা’কে। এবার তারা দু জনেই আসলেন। তবে এক সাথে নয়। সঙ্গে করে আরো দু জনকে নিয়ে।
- আপনাদের আদরের সন্তান ইলের জীবন ধ্বংসের পেছনে আপনারা শিক্ষক দম্পতিই দায়ী।
চটে ওঠলেন-দু জনেই।
‘ইল’ নামটি কে রেখেছে? কোরাস কণ্ঠে রাগান্বিত স্বরে প্রশ্ন তুলে শিক্ষক দম্পতি।
- আমি। হেড পণ্ডিত গাম্ভীর্যে উত্তর করে।
তৎক্ষণাৎ একের ধেয়ে আসা আগুনে হালকা পানির ছিটা পড়লেও অন্যজন অস্ফুটে হাওয়ার কানে কী যেনো বলছে।
তা-ই বলে ‘ইল’। চাপাস্বরে আওয়াজ আসে ইথারে ভেসে।
- মাস্টার মশায়, তার নাম ঊষা’ই থাক। বিবাদ তুলে ইলের মা।
- মোটেও সে ঊষাকালে জন্মেনি। রাঙা অরুণের ছেঁকা পেয়ে প্রশববেদনা প্রশমিত হয়ে ওর জন্ম হয়। সূর্য তখন নরম তুলতুলে। হাতে নিয়ে আদর করার মতো।
সূর্য নামটিই থাকবে মশায়।
- বড়ো আহ্লাদ করে নামটা রেখেছি। সূর্য কিনা প্রয়াগের পরাক্রমশালী রাজা পুরুরবার’ই আরেক নাম। আদিগ্রন্থ ঋগ্বেদের স্পষ্ট বয়ান।
মাস্টার মশায় বললেন-
সূর্য ওঠার আগে ঊষা; কিন্তু সূর্য উদিত হলে কি ঊষা থাকে ?
আলবদ সত্য...থাকে না।
উত্তর করলেন ইলের মায়ের সঙ্গীটা।
ইলের বাবা’র সঙ্গিনীটা ঠোঁট ফুলিয়ে কী যেনো বলতে চেয়ে চেপে গেলেন।
শেষ পর্যন্ত ইলই ফয়সালা করলো তার নাম ‘ইল’ই থাকবে।
তবে ঊষা নামটি তার বড়ো পছন্দের।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×