দ্যা সামুরাই কথন
১৭ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামুরাই হল জাপানের প্রাক-শিল্পাঞ্চল যুগের সামরিক বাহিনীর সদস্য যা অনেকের কাছে জাপানী যোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত। এর অন্য আরেকটা নাম আছে সেটা হল বুশি। জাপানী ক্রিয়াবাচক শব্দ সাবুরাই থেকে সামুরাই শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে। এর অর্থ হচ্ছে কাউকে সেবা করা। ইদো শাসনামলে সামুরাই শব্দটির সর্বশেষ প্রয়োগ হয়েছিল। বিখ্যাত অনুবাদক উইলিয়াম স্কট উইলসনের মতে, ১০ম শতকে জাপানী কবিতার প্রাথমিক সংকলন গ্রন্থ কোকিন ওয়াকাশু তে প্রাচীন এবং আধুনিককালের সংমিশ্রণের গড়া জাপানী কবিতায় এর প্রথম উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একজন সামুরাই অনেক ধরনের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করার অধিকারী ছিলেন। তার মধ্যে তাদের কাছে জনপ্রিয় অস্ত্র হিসেবে রয়েছে কাতানা নামীয় লম্বাটে ধরনের তলোয়ার। ডান হাতেই তারা অস্ত্র ধারণ করে থাকেন।প্রতিটা সামুরাই তারা নিজেদের কাছে দুইটি করে তলোয়ার রাখেন। শান্তিকালীন সময়ে কাতানা এবং ওয়াকিজাশি নামীয় ছোট ধরনের তলোয়ার বহন করেন। কিন্তু যুদ্ধের সময়ে তারা লম্বা তলোয়ার তাচি এবং ছোট তলোয়ার টান্তো রাখেন। প্রাচীন ইউরোপের নাইটদের তুলনায় তারা কম অস্ত্র বহন করে থাকেন আর এটা
তাদের অন্যতম একটা গুন।

তলোয়ার হল উপমহাদেশের এক ধরনের বাঁকা অসি যা আধুনিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে পাওয়া যায়।এক সময়এই উপমহাদেশে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তলোয়ার ছিল প্রধান যুদ্ধ অশ্র।তলোয়ার অন্যান্য বাঁকা অসি যেমন আরব সাইফ, ফার্সি শমসের, তুর্কি কিলিজ এবং আফগান পুলয়ার এর পাশাপাশি উদ্ভূত, এই সব বাঁকা অসিগুলো উদ্ভূত হয়েছে মধ্য এশিয়ার তুরস্কের উন্নত বাঁকা অসি থেকে। 
একেকজন সামুরাই বিশ্বাস করেন যে তলোয়ারই তার আত্মাকে ধারন করে আছে,আর তাই তারা তলোয়ারকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসেবে মনে করেন। তাদেরকে যথোপযুক্ত সম্মান না করলে তাদেরকে যে কারোর সাথেই যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি তলোয়ারই পরীক্ষা করার জন্য তৈরী করা হয়েছে। সেজন্যে তলোয়ার ধারক যে-কোন অপরাধীকে হত্যা করার মাধ্যমে তলোয়ারের ধারালো অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। যোদ্ধার করণীয় বা বুশিদোর নীতি অনুসরণ করে সামুরাই নিজ জীবন সচল রাখেন। প্রভুর প্রতি আনুগত্যবোধ, আত্মনির্ভরশীল, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আচরণ ইত্যাদির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রেও সম্মানিত হয়ে থাকেন। যখন সামুরাই তার প্রভু বা শিক্ষককে হারান তখন তা দাইমিও নামে আখ্যায়িত করা হয় এবং তিনি রোনিন নামে পরিচিত হন। পরাজয় বা বুশিদো নীতি মেনে না চলার কারণে সামুরাই অসম্মানিত হলে তাকে অবশ্যই সেপ্পুকু নামের আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যা করতে হয়। তাদের কাছে অসম্মানের চেয়ে মৃত্যুই অধিকতর শ্রেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেপ্পুকু নামের আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যায় শত্রুর হাতে ধৃত হবার পূর্বে তারা তাদের পেট কেটে ফেলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা...
...বাকিটুকু পড়ুন
আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল...
...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫

মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের...
...বাকিটুকু পড়ুনবাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন