somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গলে তনিমাসে ১৫ নারী-শশিু র্ধষণ-যৌনপীড়নরে শকিার যশোরে

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুন থেকে আগস্ট-এই তিন মাসে যশোরে জেলায় ১৫ নারী-শিশু ধর্ষণ ও যৌননিপীড়নের শিকার হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তা-সকলেই বলছেন, এ সংখ্যা আরও বেশি। ধর্ষণ ও যৌননিপীড়নের শিকারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী থেকে দু’সন্তানের জননী রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ও আত্মহত্যা করেছে দুই স্কুলছাত্রী ও এক যুবতী।
মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের ডকুমেন্টেশন সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জুন থেকে আগস্ট মাসে পাঁচটি করে মোট ১৫টি ধর্ষণ ও যৌনপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যশোরের ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও কেশবপুর উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক প্রতিবন্ধী যুবতী, স্কুলছাত্রী ও এক যুবতী। এদের মধ্যে লজ্জায় অভিমানে একজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কেশবপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা দু’গৃহবধূ ধর্ষণ ও যৌনপীড়নের শিকার হয়েছেন। পীড়ক হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক।
সেলের দেয়া তথ্য মতে,অপহরণের পর ধর্ষণের শিকার হয়েছে যশোর সদর ও শার্শা উপজেলার এক শিক্ষার্থীসহ দুজন। উল্লিখিত তিনমাসে ধর্ষণ ও যৌনপীড়নের শিকার হয়েছে ৮ শিক্ষার্থী এবং তিনজন গৃহবধূ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যশোর সদরে ৪, কেশবপুরে ২ এবং শার্শা ও মণিরামপুরে একজন করে। এরা স্কুলশিক্ষক, প্রতিবেশী এবং প্রেমিক ও তার বন্ধুদের দ্বারা ধর্ষণ বা যৌনপীড়নের শিকার হয়। এছাড়া ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে একজন করে গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়। এ সময়ে যৌনপীড়নের শিকার হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূসহ ৬ শিক্ষার্থী।
জুন মাসে ঝালমুড়ি বিক্রেতা কর্তৃক যৌনপীড়নের শিকার হয় প্রথম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। স্থানীয় জনতার হাতে আটক ওই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ মাসের দ- দেন।
বেশিরভাগ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে বলে সেল সূত্রে জানা যায়।
রাইটস যশোরের সাইকো-সোশাল কাউন্সিলর শাওলী সুলতানা বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে শিশুরা তার স্বজন বা প্রতিবেশী বা বন্ধুদের দ্বারা ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এরা এসব কথা কাউকে বলতে পারে না, বললেও অভিভাবকরা অনেক সময় তা বিশ্বাসও করে না। উল্টো তারা ধমকের শিকার হয়। মাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধু বা প্রেমিকদের দ্বারাও ধর্ষণ বা যৌনপীড়নের শিকার হয়ে থাকে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সকিনা খাতুন বলেন, ধর্ষণের সব ঘটনা প্রকাশ পায় না। পত্রিকায় প্রকাশ বা মামলা হয় খুবই কম সংখ্যক ঘটনার। সামাজিক অবস্থান এবং ধর্ষণের শিকার মেয়ে বা তার পরিবারের লোকজন এসব বিষয় যতটা পারে, লুকিয়ে রাখে। কেননা বিষয়টি সারাজীবন তাকে তাড়িত করে, সমাজের মানুষকে তাকে বা তার পরিবারের লোকজনকে ঘৃণার চোখে দেখে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, সঠিক বিচার না পাওয়া কিংবা ধর্ষকের সাথে মীমাংসা অথবা তার সাথে বিয়ের কারণেও ধর্ষকরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এসব নির্যাতনের পক্ষে জোরাল মতামত সংগঠিত এবং সবাইকে সচেতন হওয়ার পক্ষে তিনি মতামত ব্যক্ত করে বলেন, তবেই হয়তো সমাজ থেকে এই রোগটি হ্রাস পেতে পারে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পিপি শরীফ নূর মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে মামলা থানায় হলে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং পরে তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসে।
তিনি বলেন, চার্জশিট প্রদানে বিলম্ব, ভিকটিমের আলামত বিনষ্ট, বাদীর মামলা পরিচালনায় অনীহা এবং দীর্ঘসূত্রতা ও আসামিপক্ষের সাথে আপসের কারণে অনেক মামলার ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায় না।
গত তিনমাসে ধর্ষণ মামলায় তেমন সাজাপ্রদানের ঘটনা তার জানা নেই বলে তিনি জানান।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র এএসপি রেশমা শারমিনও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের সংখ্যা যাই হোক না কেন, এটি বড় ধরনের ক্রাইম। পুলিশ বিষয়টি কোজলি মনিটরিং করছে।
তিনি বলেন, ধর্ষণ এবং যৌনপীড়নের মামলাগুলো আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় তদারকি করে থাকেন।
শিশুরা কেন বেশি যৌনপীড়ন বা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা এবং তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা না করে এটি বলা সম্ভব হচ্ছে না।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×