somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা বন্ধুরা

১০ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা বন্ধুরা
=============================
আমরা বন্ধুরা একেকজন একেক রকম,
বলতে বাধা নেই বন্ধুত্বের মাঝে আবার কিসের শরম!
ফেসবুকে কথা হলেও
সশরীরে দেখা সাক্ষাৎ হয় খুব কম, তবুও মোরা বন্ধু পরম।
বছরে ঈদ পূজায় হয়তো দু একবার,
নয়তো রোজায় কোনো ইফতার, জমে আড্ডা চরম।

দুইজনের সমান একজনের ওজন,
এ যে আমাদের বন্ধু বাঁধন।
রেখে বন্ধুত্বের বন্ধন সদা হাসে আর ভালোবাসে,
তাইতো সবাই তার কাছেই আসে।

আরিফ, সে তো এক পিছ,
পড়েছে ইংলিশে শিখেছে চাইনিজ,
স্বাস্থ্য আছে আগের মতই,
হাইস্কুলে যেমনটা দেখতিস।

রাশেদ আমার ভাই, একসাথে খাই একসাথে ঘুমাই ,
একসময় এটাতেই দিতাম সুর, তবুও শুনাতো সুমধুর,
নেই কোনো অহংকার, যদিও সে এখন ব্যাংকার।

এসে গেলো নাঈম, বললো – ক এ্যালা কি খাইম?
আগে হাটতো যেন হাওয়ায় দুলে,
কি করে যেন হটাৎ গেল ফুলে।

সবাইকে মেরে টেক্কা সাইফুল করছে ব্যবসা একা,
মাঝে মাঝে বসে ভাবি – হতাম তার মত যদি থাকতো টাকা!

নিবিড় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিল বেশ ,
পড়ার চাপে পরে সবই গেলো নিরুদ্দেশ,
লেখক নাট্যকার দেখে তার লাগতো চমৎকার
রসায়ন পড়ে এখন সে ইউনিভার্সিটির লেকচারার।

ম্যাডামের ছেলে বলে কথা এমন ভদ্র যেন আমাদের গৌরব
যেন তার নামটিও সুগন্ধি ছড়ায় সে হলো সাদেকুল সৌরভ।
অমিত সদা থাকে দৌড়ের উপর, কোথাও না কোথাও সে যাচ্ছে,
থাকলে বসে বলে তখন- কম্পিউটারে একটা সফটওয়্যার ইন্সটল হচ্ছে।

সে হলো মংলার নাতি, রস যেন তার ভারি খাটি,
সাগরের মাঝে এতো যে রস - কেহ ভুলেনি কভু,
যে এখনো বুঝেনি বুঝবে যেদিন সে রস চিপে বলবে –
আর কোনদিন কিছু কবু?

মেসেজে বড় বড় ফুল দেয় আমাদের বন্ধু পিজুস,
সদা সরল ও সত্য বলে যেন মাত্র খেয়েছে ফ্রুটিকা জুস।
করে জিম বড়ই চার্মিং নেয়না কোনো টনিক,
সেও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আমাদের অনিক।

আছে আমাদের বন্ধু ডাক্তার মান্নান লিমন,
প্রায় ফোনে কল দিয়ে বলবে – এ্যাই, আছিস কেমন?
ভালোবাসা পূর্ণ হয়না না পেলে রোজ
ঠিক তেমনি যেন আমাদের বন্ধু ফিরোজ।

বাড়িতে ছেলের বাবা অফিসেতেও জোশ
হাস্যরসিক বন্ধুটির নাম যে পরশ।
ছবি আর ক্যামেরা নিয়ে যে কাটিয়ে দিতো দিনরাত,
সে আমাদের বন্ধু পাগলা নিরাত।

থাকে চুপচাপ শোনে বেশি মনে হয় কথা করছে চয়ন
বন্ধুটি এখন ব্যাংকার নাম তার অয়ন।
ঢাবির ছাত্র রাজনীতিতে সে যেন এক স্বপ্নলোক,
সে আর অন্য কেউ নয়, সে আমাদের বন্ধু পুলক।

সেও শিক্ষক বেশ নামডাক বলতে নেই মানা,
সে যে আমাদেরই বন্ধু মনিরুজ্জামান রানা।
যেই লোক সেই ম্যান – কি হবে দোস্ত তারপর?
এই যে শুরু হইল আবার ব্যাটার ঘর!

সকল কাজে সবার মাঝে সমান অনুভূতি,
বন্ধু মাঝে আছে যে একনাম আমাদের ভূপতি।

বন্ধু হয়েই রবে তুমি সদা মোদের কাছে,
ভুল কিছু দেখতে চাইনা তোমারি মাঝে,
বন্ধু হয়ে দেখতে চাইনা কোনো রাজনৈতিক খেল,
ছাত্রলীগের সভাপতি হলেও তুমি আমাদের সেই আপেল।

আওয়ামী লীগের সকল বিবৃতি কিংবা ভাষণ,
একটা কণ্ঠই শোনা যায় যখন তখন,
সে হলো আমাদের বন্ধু স্বপন।

নেভি শুভ ছেলে হিসেবে বড্ড স্বাধীন ও স্বতন্ত্র,
বন্ধুমহলে এলে ভুলে যায় ওসকল মন্ত্র।
উকিল হয়েও রৌশনি ছড়ায় হয়ে যেন দীপ,
এ হলো দীর্ঘদেহী আমাদের বন্ধু সজীব।

সুন্দর দেহ সুন্দর মন এমন বন্ধু আছে একজন,
তবে মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুর যায় নাম তার সুমন।
ছক্কা মারা ছিল যেন ছিল তার বড্ড সোজা,
থানা পাড়ার হিটার ব্যাটসম্যান আমাদের মুর্তজা।

বন্ধুমহল রবে যে মুদিত,
সালেকু শুভর নাম না হলে উদিত।
কথা খুব কম কয়, আমাদের বন্ধু দীপক রয়।
চেহারা সুন্দর পড়েছে বাংলায়,
কোয়েলের নাম মনে পড়ছে এবেলায়।

বন্ধু আশা, আশিক, জুয়েল, দেলোয়ার আর তোতন,
এরাই হাই স্কুলের ক্লাসগুলোতে ফার্স্ট সেকেন্ড হতো তখন।
রিয়াল, ফেরদৌস কিংবা ইমন তোদের কথা বলা যাবে আরও বহুক্ষণ।
ফাহিম, সাদ, সাকি, মুজাহিদ, কামাল আর রতন,
দৃঢ় থাকুক বন্ধুত্ব ডাকবাংলার পাঁচমাথার মোড়ের মতন।
রইলো বাকি মুন, ওয়াজেদ আর আপন
বন্ধুত্ব রবে টিকে ঠিক আগে ছিল যেমন।

রুবেল, রনি, জুলফিকার, ইমন, ইমরান, মারুফ, আয়ন, রিসাত, স্বপ্নিল, মানিক, রাঙ্গা, রচি,
ডাঃ হাসান, সানি, জীবন, আশরাফুল, ইফাত, মুকুট, তুষার, মিথেন, হিমেল ও মাইকেল,
বন্ধুদের নাম সকালে বলা শুরু করেছি
এখন প্রায় হলো যে বিকেল।

বন্ধুদের তালিকা আর কতদূর,
আছে বাকি রাকিব, টিটুল আর সোহাগ মাগুর।
একজনের হয়েও সে রইলো সবার চাচা বহমান,
সে যে আমাদের বন্ধু আব্দুর রহমান।
যদিও কোনো সিরিয়াল মানা হয়নি গুরু,
মুজাহিদ তবুও তোমার নামেই যে করতে হতো শুরু।

আমি তৌফিক নিজের কথা আর কি কই,
খোঁদার রহমতে সবসময় বন্ধুদের বন্ধনে সিক্ত হই।
তবুও কিছু বলতে চাই,
কে আছিস কোথায় তোরা,
সময় করে একটু এসে দাড়া।
যেমন ছিল শৈশব বন্ধুত্ব তোদের সাথে আমার,
আর মনের মাঝে করতাম মোরা অবাধ পারাপার।
বন্ধুত্বে নেই কোনো ছাড়,
ঠিক তেমনি ভাল থাকুক অমর হোক
এনজিএইচএস ফ্রেন্ড ব্যাচ দুই হাজার চার।

(তৌফিক এলাহী)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৫২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×