somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোশ্যাল একসেপ্টেন্স তৈরিতে ফেসবুক ব্যবহার এবং পার্সোনালিটি প্রকাশ

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশেও দিনের পর দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। ফেসবুকে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ব্যাপক অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতিবিদসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে কৌতুক কিংবা ব্যাঙ্গ অনেক সময় ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি মানুষের কাছে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতা ছড়ানোর ক্ষেত্রে কি বাড়তি মাত্রা যোগ করছে? বিবিসি বাংলার সাংবাদিক আকবর হোসেন সেকথাই জিজ্ঞেস করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ শাহ এহসান হাবীবকে। সেই আলোচনায় ডঃ হাবীবের মতামত নিম্নে প্রকাশ করা হলো।

“হিউম্যান সাইকোলজিতে আমাদের ব্রেনে যে রিওয়ার্ডিং ফিলিং থাকে তা ফেসবুকে কাজ করে। এটার মাধ্যমে আমরা সোশ্যাল একসেপ্টেন্স তৈরি করতে চাই। ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধমে আমরা আমাদের পার্সোনাল টাইপ প্রকাশ করে থাকি। Social media give your personality type. অর্থাৎ আমি কিভাবে কমেন্ট বা মতামত প্রকাশ করছি সেটার সাথে আমার পার্সোনালিটির সম্পর্ক রয়েছে। মানুষটি কেমন তা তাঁর লেখা পোস্ট দেখেই ধারণা করা যায়। যেমন আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা ডিবেট পছন্দ করেন, তাঁরা কিছু একটা বলে মানুষের মাঝে ডিবেট ছেড়ে দিয়ে আনন্দ পান।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা ভার্চুয়াল এম্পাথি তৈরি করি। একজন আরেকজনের সাথে সলিডারিটি, ইউনিটি বা দ্য ওয়ে অফ থিংকিং শেয়ারের মাধ্যমে এক ধরনের ভার্চুয়াল এম্পাথি তৈরি হয়। ফেসবুকের কমেন্টসগুলো ক্লাসিফাই করলে বোঝা যায়, কতকগুলো মতামতের বিষয় যখন বন্ধুবান্ধবকেন্দ্রিক হয় তখন তাঁদের মধ্যে পার্সোনাল রিলেশনশিপ – হৃদ্যতা বা দূরত্বের সম্পর্ক বুঝতে পাই। কিন্তু যখন রাজনৈতিক বা ন্যাশনাল ইস্যু নিয়ে কেউ মন্তব্য করেন তখন এটার মধ্যে বড় ধরনের ডিভিশন তৈরি হয়। এখানে একধরনের বিদ্বেষ বা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়, তখন মানুষের মনের রিপেয়ারমেন্টটা স্লো হয়ে যায় অর্থাৎ একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা কমে যায়।

এটি নতুন কোনো বিষয় নয়, মানুষের বিদ্বেষ অনেক আগে থেকেই ছিল কিন্তু তা প্রকাশের জন্য প্লাটফর্ম ছিলোনা। এখন পসিটিভ বা নেগেটিভ ইমোশনগুলো আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে সহজে প্রকাশ করতে পারি। হিউম্যান সাইকোলজিতে পজিটিভ রিওয়ার্ড ও নেগেটিভ রিওয়ার্ড সবসময় ছিল, এখন টেকনোলোজি তা প্রকাশের জন্য আমাদের সেই সুযোগটা করে দিয়েছে।

ফেসবুকে সমাজের পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে কৌতুক কিংবা ব্যাঙ্গবিদ্রুপ করে যারা মতামত প্রকাশ করেন তাতে প্রকাশ পায় তাঁরা নিজেরা কি ধরনের পার্সোনালিটির মানুষ! তাঁরা ইন্ট্রোভার্ট নাকি এক্সট্রোভার্ট, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করার মতো তাঁদের হাতে কি পরিমান সময় থাকে, তিনি জবলেস নাকি কোনো গুরুগম্ভীর কাজের দায়িত্ব নিয়ে আছেন – তা বোঝা যায়।

ফেসবুকে সমালোচনার বিষয়টি মারাত্মকভাবে পরিলক্ষিত হয়। আমরা একটা কালচার তৈরি করেছি যেখানে সমালোচনা করাটা একটা বিনোদন বা ইন্টারটেইনমেন্ট। মতামত বা কমেন্টের পাল্টা কমেন্টকে আমরা দারুণ ইনজয় করছি।’’

সমাজবিজ্ঞানীর সাথে একমত হয়ে আমি বলতে চাই - আমার কাছেও অতিরিক্ত সমালোচনা করাটা খুব খারাপ লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×