somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিয়ো..................

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু
এক বছর আগেও আমার সমবয়সী অন্য সব ছেলেদের মত আমিও নিজের জীবনটাকে শুধুমাত্র উপভোগ করতাম।আমার কাছে পড়ালেখা করে জীবনে সফল হওয়াটাই মূল লক্ষ্য ছিল।কিন্তু যখন থেকে ইসলামের সংস্পর্শে এসেছি তখন থেকেই জীবনের মানেটা অনেকটাই পাল্টে গেছে।এরপর থেকে শুধু জীবনের মানে নয়,পাল্টে গেছে জীবনের অনেক কিছু।এই অনেক কিছুর মধ্যে “বন্ধুত্ব” বিষয়টাও একটি।আমি যখন থেকে ইসলাম নিয়ে জানা শুরু করলাম,বুঝতে পারলাম কত ভুল কত পাপ নিজের অজান্তেই করে ফেলেছি।কত খারাপ কাজে হয়ত বন্ধুদের হেল্প করেছি না বুঝেই।বন্ধুদের জন্য কিছু করতে পারাটা আমাদের সবার জন্যই একটা বড় ব্যাপার।তাই আমরা মাঝে মধ্যেই বন্ধুত্বের খাতিরে হয়ত খারাপ কাজও করে ফেলি,এটা ভেবে খুশি হই যে বন্ধুর জন্য কিছু অন্তত করতে পেরেছি।তাই যখন বুঝলাম আমার এই সকল পাপ আর খারাপ কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই,তখন আমি সেই চেষ্টাই করতে থাকলাম,এখনোও করছি,জানিনা আমি ক্ষমা পেয়েছি বা আমি ক্ষমার যোগ্য কি না??
ইসলাম Study করতে করতে আমি বুঝলাম শুধু নিজে ইসলাম জানলাম কিন্তু আমার বন্ধুরা জানল না এটা তো হতে পারে না।তাই বন্ধুদের জন্য কিছু করার সংকল্প নিয়ে আমি শুরু করলাম আমার ক্ষুদ্র ইসলামিক জ্ঞান দিয়ে তাদের দ্বীন সম্পর্কে জানাতে আগ্রহী হলাম।জানাতে চাইলাম আমাদের অতীতে আমরা কি ভুল করেছি আর তা শোধরানোর জন্য আমাদের কি করতে হবে।কিন্তু আমি খুব অবাক হলাম যাদের আমি খুব কাছের,খুব ভালো বন্ধু ছিলাম তারাই সর্বপ্রথম আমাকে প্রত্যাখ্যান করলো।সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল যখন একজন আমায় ঠাট্টা করে বলেছিল,“তোদের ভার্সিটিতে কি এগুলাও শিখায়???”
আমার কিছু মেয়ে বন্ধু ছিল যাদের আমি সবসময় বোনের মত সম্মান করতাম,এখন করি।একটা পর্যায়ে যখন আর তাদের সাথে নিয়মিত দেখা করা বা কথা বলা বন্ধ করে দিলাম তখন হয়ত তারা খুব কষ্ট পেয়েছে।কিন্তু আমি তাদের কিভাবে বুঝাই ইসলাম তো এটা Allow করে না????
শুধু দাঁড়ি আর তাখনুর উপর কাপড় দেখে আমার বন্ধুদের কেউ আমাকে জামায়াত ভাবে,কেউ হিযবুত তাহরির ভাবে,কেউ মাদ্রাসার ছাত্র বলে হাসাহাসি করে,কেউ হেফাজত বলে ঠাট্টা করে।তখন খুবই কষ্ট লাগে,তবু মনে মনে বলি তোরা যা মনে করিস আমি তার কোনটাই নই।আমি তোদের মতই একজন যাকে আল্লাহপাক তার কুদরতি হিদায়াত দান করেছেন।
যখন ইসলাম বুঝিনি তখনও আমি ভালো কিছু করতে না পারলেও বন্ধুদের খারাপ চাইনি,আর এখন যখন ইসলাম বুঝি,এখন তো নিঃসন্দেহে তাদের খারাপ চাওয়া সম্ভব না।বরং আমি তাদের সবার জন্য মন থেকে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের হিদায়াত দান করেন,তারা যেন দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারে।
অনেক পুরোনো বন্ধুর সাথে দূরত্ব তৈরি হলেও ইসলামের সংস্পর্শে থেকে অনেক নতুন বন্ধু আমি পেয়েছি।দ্বীনের ব্যাপারে তাদের অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি,শিখেছি।আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান নসিব করুন।
আজ লিখতে বসলাম মুলত কুরআনের একটি আয়াত দেখে,“সেদিন(কিয়ামতের দিন)দুনিয়ার সব বন্ধুরা পরস্পরের দুশমন হয়ে যাবে,অবশ্য যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করেছে তাদের কথা আলাদা” সুরা যুখরুফ ৬৭
আমাদের তরুন প্রজন্মের সিংহভাগই আমাদের মাঝে কাউকে দ্বীনের পথে দেখলেই তার ব্যাপারে Negative Attitude Show করে তাদের ছিদ্রান্বেষণে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।তার সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনেই ‘ছাগু’ ‘রাজাকার’ বলে হেও করে।তাকে Unsmart, Uncultured হিসেবে ঘোষণা দিতেও দ্বিধা করে না।কিন্তু কুরআনের আয়াতটা দেখলে এটা পানির মতস্বচ্ছ হয়ে যায় যে শেষ বিচারের দিন সেই So Called Smart বন্ধুরা যারা আবেগের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়ে হালাল ও হারামের পার্থক্য ভুলে গেছে তারা পরস্পরের কোন উপকারই করতে পারবে না,বরং সেই দিন তারা পরস্পরের শত্রু হয়ে যাবে।আর যাদের Unsmart,Uncultured বলা হচ্ছে সেই দ্বীনী ভাইরাই,যারা আল্লাহকে ভয় করে নিজেদের আবেগের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয় নি,হালাল ও হারামের পার্থক্য করতে শিখেছে,নিজেদের সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে Unsmart,Uncultured রয়ে গেছে,তারা ও তাদের বন্ধুরা সেইদিন পরস্পরের সাহায্য করতে পারবে।এখন Decision টা আমাদের নিতে হবে যে আমরা কাদের Choose করবো।সময় এসেছে প্রকৃত বন্ধুদের চিনে নেবার।

The ball is in our court now………….

April 23, 2013 at 4:55pm
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×