somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

”তুমি অধম হলে আমি উত্তম হব না কেন” আর ইনডেমনিটি প্রসঙ্গঃ

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইনডেমনিটি শব্দটির সাথে আমরা পরিচিতি লাভ করি মূলতঃ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তখনকার মোশতাক আর জিয়ার পুষ্ট দাতা সরকারের মদদে যাতে তার বিচার রোধ করা যায়।এটা কতবড় অন্যায় সেটা রাষ্ট্র যেমন বুঝেছে তেমনি তার গ্লানি জনগণকে ও টানতে হয়েছে।কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল যারা কিনা এই ইনডেমনিটির অত্যাচার আর দহনে দগ্ধ হয়েছিল তারাই আজ সেই ইনডেমনিটি লালন করছে সযত্নে।এটা কি চরম দূর্বুদ্ধিতা নয়!বলতে গেলে যে আওয়ামীলীগ সরকারকে এই ইনডেমনিটি ভাঙতে ক্ষমতায় আসতে হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই আওয়ামীলীগই এখন নানা খাতে ইনডেমনিটি প্রয়োগ করছে।ইনডেমনিটি অবশ্যই একটা খারাপ শব্দ এই অর্থে যে যেখানে সুশাসন নেই,যেখানে অপরাধ শীর্ষ পর্যায়ে বাস করে,যেখানে দূণীর্তিকে রাষ্ট্রিয়ভাবে প্রশ্রয় দেয়া হয় সেখানে -ইনডেমনিটি পোলাও কোর্মা খায়!! ২০১৩সালে বিএনপির শীর্ষনেত্রি বলেছিলেন ,বিদ ্যৎ খাতে অবাধ দূর্ণীতির ব্যবস্থা করেছে সরকার,আমরা আবার কোন এক সময় ক্ষমতায় গেলে তাদের বিচার করব।" যেই কথা সেই কাজ-মাত্র কদিনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী সরকার তাড়াহুড়ো করে এ ব্যাপারে জড়িতদের সুরক্ষার জন্য সংসদের মাধ্যমে হ্যাঁ -না ভোট যাকে অনেকটা সামরিক আদলের সরকারের স্টাইলে ইনডেমনিটিটা করিয়ে নিল!! এটা কি তাদের জন্য লজ্জাষ্কর নয়।হয়ত মোটেও না।তা না হলে যে ইনডেমনিটি নামক এ শব্দটি আওয়ামীলীগ ফিরিয়ে আনল কেন? সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সেটাকে অপব্যবহার করতে হবে কেন?যদিও সামরিক সরকার নেই কিন্তু আদতে সামরিক প্রশাসকরাই তো দেশ চালায়।তা না হলে সরকারী এত প্রতিষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা ,রাজনৈতিক সরকার গুলো নিয়োগ দেবে কেন? এই ইনডেমনিটি কথাটি নিয়ে আসার প্রকৃত কারণ হল ,বর্তমানে চট্টগ্রাম ব্ন্দরে নাকি পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু গোষ্ঠী নানারকম অবশ্যই সরকার সংশ্লিষ্ট তারা নাকি নানা অসুবিধার সম্মুখীণ হচ্ছে।তাদেরকে নাকি এই ইনডেমনিটি না দিলে যত্রতত্র অপর গোষ্ঠীরা নাকি মামলা করে তাদের, আসলে বন্দরের নয় কাজের অসুবিধার মুখোমুখি হতে পারে এই ভয়ে তারা নাকি এই বিশেষ সুবিধা চাচ্ছে।আসল কথাটি তারা বলেননি তারা বলতে পারত আমরা চুরি করব,নানা অবৈধ মালামাল পাচার করব,ঘুষ খাব,ডাকাতি করব অথচ কেউ বাধা দিতে পারবে না।এমনিতে বন্দর কেন্দ্রিক যারা ব্যবসা পরিচালনা করেন তারা ভালই জানেন ঘুষ কত প্রকার ও কি কি এবং কিভাবে ঘুষ দিতে হয়!! একটা উদাহরণ দিই,আমাদের এক বড় ভাইকে দীর্ঘদিন ঘুষের জন্য প্যানপ্যান করছিল ঘুষ না দিলে তিনি তো কাজ পাবেন না যদি ও বৈধ ভাবে যে কাজ ঘুষ ছাড়া হওয়ার কথা ।যা হোক ঘুষের টাকা দিয়েছিলেন এরকম করে। ভদ্রলোক নাকি তখন আসরের নামাজ পড়ার জন্য বন্দর মসজিদে ওযু করছিল।এমন সময় তিনি গেলেন।তো ওই স্যারের পাশে গিয়ে তিনি দাঁড়ালেন তদুপরি ওনার ওযু করা তখন ও শেষ হয়নি।তিনি ইশারা করে বললেন, পকেটে দিয়ে দাও।পরে উনি পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি ওইস্থান ত্যাগ করলেন।এই ঘটনা তিনি আজও বলে থাকেন কেননা ভাবেন ,এটা কি করে সম্ভব? এখন ভাবুন এই ভাবে যত্রত্ত্র ইনডেমনিটির প্রয়োগ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এটা একবার অনুমান করতে পারেন!! আওয়ামীলীগ সরকারকে নানা কারণে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে তাই বলে এভাবে বিশ্বাসের মর্যাদা যদি ভঙ্গ করতে থাকে মানুষ তাহলে যাবে কোথায়।সরকারগুলো কি সাধারণ মানুষের কথা ভাববে না।আহমেদ ছফা একটা কথা বলেছিলেন,"আওয়ামীলীগ হারলে শুধু দল হারে না পুরো দেশটাই হারে আর জিতলে শুধু আওয়ামীলীগই জিতে"।এভাবে তারা দেশ চালাচ্ছে বড্ড ভয় আর আতঙ্ক বিরাজ করছে।তার ওপর রয়েছে "আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বচন"!!! দু-একদিন আগে নাকি প্রথম আলোয় এক রির্পোট বেরিয়েছিল,আমদানি-রপ্তানি কর্মকর্তা নাকি গুনে গুনে ঘুষ খান।এইরকম জলজ্যান্ত ভিডিও দেখার পর তার নাকি শাস্তি হয়েছে বদলি!!! কোথায় চাকরি যাবে ,জেল হবে তার শেষ জীবনের ঠিকানা।আর তার নাকি এই হাল । দুই বিদেশেী খুন হল-অথচ কি আজে বাজে কথা পরস্পর পরস্পরের ওপর চলছে,সত্যিই ভীষণ লজ্জাবোধ করছি। মানুষ হিসেবে আমাদের রুচিবোধ কোন জায়গায় নেমেছে।আজকাল টয়লেট ও এরচে সুন্দর হয়!!! প্রকৃত কথা হল,সরকার যাদেরকে লাই দিচ্ছেন তাদের পদাঘাতে তার পতন অনির্বায!! কারণ তারা শূধুই খেতে জানে। ...........এইজন্য বলা যায় তুমি অধম হলে আমি উত্তম হব না কেন।এই ইনডেমনিটি বাতিল করুন।আর কেউ করতে চাইলে তাকে ও চাটাই করুন।নিজে বাঁচুন আর অন্যকে ও বাঁচতে সহায়তা দিন !!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×