পৌষের রোদ লাগলে হাতজোড়া বুকের ওপর উঠে আসে
পুরনো সোয়েটার লাল নীল চকোলেট ওম।
একটু ফাঁকা জায়গা পেলে লোকজন দাঁড়ায় যায়
উতরানো ভাতের মত গড়ায়ে পড়ে তাগো ব্যকুলতা।
চোখ কচলানোর মত আবছা আবছা দৃশ্যযোগে যে নগর
বছরজুড়ে ফুলের চাষ এ এমনকি।
সব গাছ ছাড়ায়ে যে শিমুল কান্তি
পঞ্চাশবর্গফুটের দোকানে সেলাই করছে নতুন নতুন নানা সাইজের সোয়েটার।
সস্তা-- যারা কিনতে চায়, এমন উলের কাপড় বুনতো আমার মা।
শিকের সাথে প্যাচঁ মেরে মেরে চাদর,হাফহাতা সোয়েটার বুনে যেত কত সহজে!
পৌষে রোদ এত কাছে চলে আসে, এত ভালবাসে
ব্যাথায় ভালবাসায় দর্জি অথবা মায়েদের খোঁজাখুঁজি ওমের মত গাঁট মেরে থাকে।
কেউ যেন না খুঁড়ে মায়েদের ওম, না খুঁড়ে উল বুননের কথা
সমস্ত জগত ছেড়ে চলে যাবে পাখি,
সমস্ত জগত ছেড়ে চলে যাবে শিশির,কুয়াশার মাঠ
ভোরের ভেজা ভেজা পথ,
দেখা যাবে না ঋজুভঙ্গি খেজুর
অথবা ”মোয়া নিবে না মোয়া” অথবা সমস্ত চুলার আগুন!
পৌষ লাগলে হাতজোড়া বুকের ওপর উঠে আসে
প্রত্যেক ভাঁজে ভাঁজে নেমে আসে রোদ
পৌষ শুধু এক ঋতু নয়, হিম নয়, কাউকে কাউকে সর্বহারাও করে
এইভাবেও যদি মনে রাখস,মনে রাখস বুননের কথা
পরনে জড়ায়ে তারে ব্যাথা ভুলবার দেও।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



