somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই দশকেও কমেনি কষ্টের পাহাড়; নিভৃতে কাঁদে বিচারের বাণী

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই দশকেও কমেনি কষ্টের পাহাড় : নিভৃতে কাঁদে বিচারের বাণী

রাঙমাটি জেলার লংগদু উপজেলায় ১৯৯৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর উপজাতি সন্ত্রাসী শান্তি বাহিনী কর্তৃক নির্মমভাবে ৩৫ বাঙ্গালী কাঠুরিয়া হত্যার পিছনে দায়ী সন্তু লারমা গংদের বিচারের পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাঙ্গালী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

লংগদু’তে ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস পালন উপলক্ষ্যে পার্বত্য বাঙালী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এই অভিযোগ করে আরো বলেন ৯৬ সালের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টিকারী শান্তিবাহিনী নামধারী সন্তু লারমার দোসর ও সশস্ত্র ক্যাডাররা লংগদু ও বাঘাইছড়ি সীমান্তে পাকুয়াখালী নামক স্থানে নিরীহ ৩৫ বাঙালী কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এই হত্যাকান্ডের দীর্র্ঘ বিশ বছর পর আজ পর্যন্ত সেই খুুনীদের কোন বিচারতো করা হয়ইনি উপরন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে খুনীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। উপরন্তু সরকার খুনিদের পুরস্কৃত করে এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদেরকে পুনঃবার্সন করা হয়েছে। এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। দুইটি দশকেও কমেনি স্বজনহারা পরিবারগুলোর কষ্টের পাহাড়। বিচার যেন নিভৃতে কাঁদে।

পাহাড়ে গণহত্যা সংগঠিতকারী সন্তু লারমার গংদেরসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী সশস্ত্র ক্যাডার কর্তৃক সকল হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবী জানিয়ে নিহত বাঙালী পরিবারদের যথাযত পুর্নঃবাসন করার দাবী জানিয়েছেন বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা শহরসহ লংগদুতে আয়োজিত পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ, আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।

লংগদু উপজেলা সমধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সমধিকার আন্দোলন লংগদু উপজেলা শাখার সহ সভাপতি এম এ হালিমের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিন, গুলশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু নাছির, সমধিকার আন্দোলন রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবছার আলী, সাবেক কালাপাকুজ্জা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বারেক দেওয়ান, লংগদু উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুর রশীদ, সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলন, লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাকিব হাসান প্রমুখ।

অপরদিকে শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি শহরে দিবসটি উপলক্ষ্যে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা কমিটি। শোক সভায় দোষীদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের দাবী জানানো হয়। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান আসাদ, মোঃ হাবিবুর রহমান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালীদের বিতাড়নের আরেকটি নীল নকশা তৈরী করেছে। শুধু তাই নয়, কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমিও পাহাড়ীদের ভাগ করে দেওয়া হবে সরকারের এমন বক্তব্য আত্মঘাতি ঘোষনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বক্তারা নিরপেক্ষ ভূমি কমিশনে তিন পার্বত্য জেলার তিন জেলা প্রশাসক ও নির্বাচিত বাঙালী জনপ্রতিনিধিদের অন্তভূর্ক্তি করার দাবী জানিয়ে বলেন, আমরা কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না।

আমরা আমাদের অধিকার বাস্তবায়নের দাবীতে আন্দোলন করছি। বক্তারা বলেন, তৎকালীন শান্তি চুক্তির সময় সন্তু বাহিনী বলেছিল অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। কিন্ত, এখন দেখতে পাচ্ছি পাহারের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। পাহাড়ী অস্ত্রধারী গোষ্টির কাছে সাধারণ পাহাড়ী-বাঙালী কেউ নিরাপদ নয়। বক্তারা বলেন, পার্বত্য ভূমি কমিশনে সন্তু লারমার নেতৃত্বকে আমরা মেনে নেবনা।

সন্তু লারমার বিচার দাবী করে ভূমি কমিশন সংশোধন আইনকে অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থি কালো আইন বলে আখ্যা দেন বক্তারা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাহাড়ীরা দেশের স্বাধীনতা না মেনে তারা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিল। প্রকৃত পক্ষে তারাও রাজাকার উল্লেখ করে বক্তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সন্তু লারমা গংদেরও বিচার দাবি করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×