মেঘলা দিনে মনটা ভার থাকে। সময় কাটেনা; কিছু করার মত কাজকর্ম! থাকেনা। হেঁটে কাটিয়ে দেয়া সারাটা দিন। অনেক সুন্দর ফুল আশে-পাশে; চেনাজানা। গোলাপী, নীল, লাল, শুভ্র সাদা। সাদা ফুলের মধ্যে তেলাপোকার সবচে' পছন্দের ফুল দুইটি। একটি বেলি, অপরটি টগর। কি মনে হতেই সে একটা টগর ছিঁড়ে নিলো। খুব খেয়াল করলে ওতে লুকোনো একটা মিষ্টি গন্ধ আঁচ করা যায়। আরও একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, কোনো এক খেপা শিল্পি যেন অপূর্ব সুন্দর একটা শিল্প এঁকে রেখেছে তাতে। হাতে নিলো সে। আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে সেটাকে ধরার চেষ্টা করলো। পারলো না। অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ দেখিয়ে সেটি নিচে পড়ে গেল। আবার চেষ্টা করলো; তারপর আবার। অনেক বার। একবারও সেটাকে হাতে নিতে পারলো না সে। একেবারে শেষ সময়ে; যখন সন্ধ্যার রঙ ছড়িয়ে গেছে লোকালয়ের সর্বত্র- তখন সেটাকে ধরতে পারলো সে। পরের বারও চেষ্টা করলো- সেবারও পারলো। এরপর যত্তবার তাকে ছুঁড়েছে যত্তদূরে ঠিক ততবারই তাকে দারুন দতায় সে ধরতে পেরেছে! মনটা বিজয়ের আনন্দে মুখোর ছিল। বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে যখন সে ফিরে এলো তখন ফুলটির দিকে আড়চোখে তাকালো। দেখলো আগের শুভ্রতা সেখানে নেই। দুমড়ে মুচড়ে সেটার দফারফা অবস্থা। মনটা থেকে বিজয় বেরিয়ে গেল। নিজেকে তার অভিশপ্ত মনে হতে লাগলো। সবকিছুতেই যেন বিষাদ নেমে এলো, মনে হলো যেন হাতের মুঠো থেকে সন্ধ্যারঙের মতই একটা দোমড়ানো কষ্ট দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মৃদু পায়ে চলে গেল...। বিনিময়ে দিয়ে গেল হতাশা, ব্যর্থতা, একাকিত্ব, বিষন্নতা আর গ্লানিময় অনাগত দিন...।
---[ কার্সড অব লাভ/2006 ]---
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০