-- তোমরা সবাই বাড়ির কাজ আইনেচো?
তিনি কারো জবাবের অপেক্ষা করলেন না। বললেন- জানো, আইজকে মনডা খুব খারাপ। সকালে ঘুম থেইকে উঠে দেখি আমার রুমের জানলার পাশে, (বুইজেছো?) পাশের বাড়ীর কাজের মাইয়াডা রাজ্যের সব ময়লা আইন্যে ফেলিছে। কয়েকটা কাক সেগুলো নিয়ে ঝগড়া বাধিছে। কাকের কা-কা-কা শব্দে আমার জানডা যায় যায় অবস্থা। মনটা কেইমন করে উঠলো। ভাবলাম কবিতা লিইখে ফেলি। লিখলাম কয়েক লাইন। আরো লিখা যেতো, কিন্তু হঠাৎ কাকগুলি চইলে গেল। আর লিখতে ইচ্ছা করলো না। তোমাদের শুনাই কি বলো? বলেই তিনি পকেট ছ্যাড়া প্যান্ট এর ভেতর থেকে ইয়া বড় একটি কাগজ বের করলেন। তিনি পড়া শুরু করলেন-
হে নারী, তুমি এ কি করিলে?
আমার এই অবুঝ মনকে দিলে নাড়ি।
ময়লা তুই কাকগুলোকে গিইলা খা,
উইড়া গেলে দুঃখ করিস না
আমি ঢিল দিয়া তোরে দিমুনি পাড়ি...
তার কবিতার প্রথম চার লাইনের মাথায় মাঝের ছাত্ররা ঘুমে অচেতন। পেছনের কয়েকজন প্রেমিকাদের দিকে কাগজ ছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত। সামনেরগুলো স্যারের বঙ্গবানীটিকে কঠিন সাজেশন মনে করে গিলছে। বাদবাকী ফাঁকিবাজরা 'স্যার সুন্দর হইছে- পইড়া যান' বলে স্যারের ভেঁপুকে আরো ফুলাচ্ছে। এরই ফাঁকে ক্লাশ শেষের ঘন্টা। স্যার খুব হতাশ হলেন। ক্ষুন্ন মন নিয়ে ক্লাশ রুম ত্যাগ করলেন।
[সত্য ঘটনা, আংশিক পরিবতর্ীত, সময়- জুনের মাঝামাঝি- 1997ইং]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




