somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি আদর্শ ক্লাশরুম

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুর। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম। মাথার উপর ফ্যান রেলগাড়ীর মত শব্দ করে অলসভাবে ঘুরছে। ক্লাশের বেশির ভাগ ছাত্র/ছাত্রীই হাই তুলে ঘুমানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। বাদ বাকীরা স্যারের টেবিলে কলম কলম খেলা খেলছে। প্রেমিক ছাত্ররা কেউ কেউ এক দৃষ্টে প্রেমিকার চোখে চোখ রেখে স্বপ্ন বুনায় ব্যস্ত। ছাত্রীরা কেউ কেউ ঘুমন্ত ছাত্রদের ব্যাঙাচির মত হা করা মুখ অবলোকন করে নিরবে হাসছে। এমন সময় দরজা খুলে অংক স্যারের আগমন। সবাই তড়িগড়ি করে নিজ নিজ আসনে দ্রুতগতিতে অবস্থান নিল। স্যারের এমন বেরসিক আগমনে সবাই মোটামুটি ক্ষুব্ধ। কিন্তু আশার কথা, স্যারের আজকের মুড ভালো। মার খাবার ভয় নেই। স্যার ক্লাশে ঢুকে টেবিলে হেলাম দিতে গেলেন। টেবিল অমন ভেঁপুর মত পেটওয়ালার ভার সহ্য করতে পারলো না। ক্যাচক্যাচ করতে করতে একপাশে বেঁকে গেল। স্যার মুখটাকে হনুমানের মত করে কিযেন বললেন- বুঝা গেল না। তিনি মুলত সহকারী শিক্ষক। আগে ছিলেন ভূগোল শিক্ষক। কিন্তু গোল জিনিসটা কি তা ছাত্রদের ভালোভাবে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন বিধায় সাফল্যস্বরূপ তার চাকরীর যায়যায়দিন অবস্থা। অংক স্যার ছুটিতে থাকায় তিনি এখন অংকের টিচার। ছাত্রদের এত ভালোভাবে বুঝানোর পরও তারা কেন যে সবাই এক সাথে গোল খেল তার কারণ আজও তার কাছে বোধগম্য হয়নি। তিনি মানুষের লেজওয়ালা পূর্বপুরুষদের বৈশিষ্ট মুখে এনে বললেন-

-- তোমরা সবাই বাড়ির কাজ আইনেচো?
তিনি কারো জবাবের অপেক্ষা করলেন না। বললেন- জানো, আইজকে মনডা খুব খারাপ। সকালে ঘুম থেইকে উঠে দেখি আমার রুমের জানলার পাশে, (বুইজেছো?) পাশের বাড়ীর কাজের মাইয়াডা রাজ্যের সব ময়লা আইন্যে ফেলিছে। কয়েকটা কাক সেগুলো নিয়ে ঝগড়া বাধিছে। কাকের কা-কা-কা শব্দে আমার জানডা যায় যায় অবস্থা। মনটা কেইমন করে উঠলো। ভাবলাম কবিতা লিইখে ফেলি। লিখলাম কয়েক লাইন। আরো লিখা যেতো, কিন্তু হঠাৎ কাকগুলি চইলে গেল। আর লিখতে ইচ্ছা করলো না। তোমাদের শুনাই কি বলো? বলেই তিনি পকেট ছ্যাড়া প্যান্ট এর ভেতর থেকে ইয়া বড় একটি কাগজ বের করলেন। তিনি পড়া শুরু করলেন-

হে নারী, তুমি এ কি করিলে?
আমার এই অবুঝ মনকে দিলে নাড়ি।
ময়লা তুই কাকগুলোকে গিইলা খা,
উইড়া গেলে দুঃখ করিস না
আমি ঢিল দিয়া তোরে দিমুনি পাড়ি...

তার কবিতার প্রথম চার লাইনের মাথায় মাঝের ছাত্ররা ঘুমে অচেতন। পেছনের কয়েকজন প্রেমিকাদের দিকে কাগজ ছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত। সামনেরগুলো স্যারের বঙ্গবানীটিকে কঠিন সাজেশন মনে করে গিলছে। বাদবাকী ফাঁকিবাজরা 'স্যার সুন্দর হইছে- পইড়া যান' বলে স্যারের ভেঁপুকে আরো ফুলাচ্ছে। এরই ফাঁকে ক্লাশ শেষের ঘন্টা। স্যার খুব হতাশ হলেন। ক্ষুন্ন মন নিয়ে ক্লাশ রুম ত্যাগ করলেন।

[সত্য ঘটনা, আংশিক পরিবতর্ীত, সময়- জুনের মাঝামাঝি- 1997ইং]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×