somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃখদিন যায় কেটে, সুখ খুঁজে খুঁজে...

২৬ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুরে আছি, তাই এর অভাবটা খুব অনুভব করি। প্রতিটিক্ষন, প্রতিটি মুহুর্তে। ছোট একটি সবুজে ঘেরা গ্রাম। একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে দিঘী। এই নিয়েই আমাদের ছোট গ্রামটি। গ্রামের প্রায় আধ-মাইল দূর থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়ের সীমানা। সে এক অন্যরকম জগৎ। এর কথা অন্য কোনোদিন বলবো। আজ বলবো, আমার প্রিয় স্থানের কথা। আমাদের দিঘীর পাড়ের কথা।

দীঘির কথা ভাবলে মনের ভেতর হাজার শূণ্যতা জেগে ওঠে। ব্যাকুলতারা মনের ভেতর বাসা বাঁধার তাড়া অনুভব করে। জানিনা কেন মাঝে মাঝে আমার এমন হয়। তবে, দীঘিটি আমাকে প্রচুর টানে। যখনই গ্রামে গেছি, তখনই সর্ব প্রথম নিজের বাড়ীতে না যেয়ে দীঘির পাড়ে উঠে চুপচাপ বসে থেকেছি। আমার শৈশব আমাকে এখানে ছুঁতে আসে। আমি আনমনে স্মৃতির হার্ডডিস্ক মেরামত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ঐযে ঠিক ওখানেইতো আমরা হাডুডু খেলতাম। আর শত বছরের পুরনো ঐ গাছটার নিচ থেকে শিমুল ফুল কুড়িয়ে বাড়ি ফিরতাম। দূরের ঐ উঁচু জায়গাটায়, যেখানে দিঘীর পাড় ভেঙ্গে ভোঁতা হয়ে গেছে, ঠিক সেখানে শীতের শিশির ভেজা সকালে জলসা বসতো। রোদ্রু জলসা। আমরা ছোটরা এখানে এসে রোদ পোহাতাম।

এমনই কিছু টুকরো স্মৃতি। কিছু ঝাপসা, কিছু ঝলসানো। অতীতের ঝাপসা আর ঝলসানো দুই ধরনের স্মৃতি নিয়েই আমার এই তেলাপোকা জীবন। আর....হুমমম... এখন যেখানে বসে আছি.... আমার বাড়ি ফেরাগুলোর মাঝে সময়ের ব্যবধান তৈরী করার জন্য এটার অবদানও কম নয়। এর কথা না হয় আজ নাই বললাম। তবে, একদিন বলবো। এযে আমার হারানো দিন, ঝরে যাওয়া অতীত আর বদলে যাওয়া সময়ের লুকনো কান্না। মাঝে মাঝে মনে হয় যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে। মাঝে মাঝে নিজেকে খুব বেশী ঠকবাজ মনে হয়।

ওহো একটা কথাতো বলতে ভুলেই গেলাম। দিঘীতে নেমে যে আমরা উঠতেই চাইতাম না। বালিহাঁস ধরার জন্য দলবেঁধে কত ব্যর্থ সাঁতার কাটতাম। কখনো এ পাড়, কখনো ওপার...চোখ লাল করে যখন বাড়ি ফিরতাম, তখন ঝাপসা চোখে মায়ের কেবল রুদ্ধমুর্তিটিই দেখতাম। কত্ত মার খেয়েছি... তবু আমাদের তৃষ্ণা মিটতো না। দিঘীটি আমাদের এক অদ্ভুত মায়াজালে বেঁধে রেখেছিল, এখনো ঠিক তাই রেখেছে। এর সৃষ্টির মত, এর কাছে টানার আকর্ষনেও প্রচুর রহস্য লুকানো।

কত হাজার হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার চিরন্তন স্বাক্ষী এই দিঘী। কতবার বাড়ি পালিয়েছি...কতবার...! যাবো কোথায়? আত্মীস্বজনদের যে দুচোখে দেখতে পারতাম না। তাই বরাবরই ভাইয়া আমাকে দিঘীর পাড়ের এক কোন থেকে ঠিকই ধরে নিয়ে আসতো। আমার আরও একটি দিনের ব্যর্থ বাড়ি পালানোর অবসান ঘটতো। বিনিময়ে মিলতো মায়ের সেই চিরচেনা বুকের ভেতর ঠাঁই...। মা...। সে এক অন্যরকম সৃষ্টি। তার দিকে তাকিয়ে অন্য নারীদের প্রতি ঘৃনাবোধ আমার হারিয়ে যায়।

সবাই স্বর্গে যেতে চায়, আমি চাইনা। আমি আমার মায়ের কোলকে চিরদিনের জন্য পেতে চাই...। বেশ এটুকুই চাওয়া আমার।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×