এই ছেলে দাঁড়াও, হ্যাঁথার্ড ব্যাঞ্চের তোমাকে বলছি- নিস্তব্ধতায় বোমা ছুড়লেন জব্বার স্যার। তিনি এই মেডিকেল কলেজের কুখ্যাত স্যার। সবাই তার ক্লাশ শুরু হবার আগেই ইমোটিন খেয়ে বসে থাকে। নো নড়াচড়ি, নো বাথরুম আসা-যাওয়া...
মফিজ নেপোলিয়ানের মত মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়ালো।
তুমি তো দেখছি দারুন আত্মবিশ্বাসী হে?
তা কিছুটা বৈকি, স্যার। মফিজ অমায়িক হাসি ঠোঁটে ফোটায়।
ঠিক আছে, আই লাইক আত্মবিশ্বাসী পোলাপাইন। এবার বাছাধন বলোতো মানুষের হার্ট কয়টা?
অ্যাঁ, স্যার কি জিগাইলোরে? মফিজ দিশাহারা হয়ে কুদ্দুসের পাজরে খোঁচা মারে। কুদ্দুস ব্যাথায় কুকড়ে ওঠে...
নো সাইড টক, যে বলবে তাকে 5 তলা থেকে ফেলে দেয়া হবে। স্যারের হুশিয়ারী।
মফিজ প্রথম বারের মত ঘামতে থাকে। ইসসস হার্টের ব্যাপারটা যদি আগে পইড়া আসতে পারতো? তারই বা দোষ কোথায় সেতো আগে থেকে জানে না যে স্যার হার্টের কথা জিনগাইবো!
কিহে আত্মবিশ্বাসী ছেলে- তুমি দেখছি গাইটন'টা বিক্রি করে কটকটি খেয়ে ফেলেছো! ঠিক আছে মানুষের কথা বাদ দাও- তোমার নিজের কয়টা হার্ট আছে এটা বলো...
মফিজ পুনরায় কুদ্দুসের পাঁজরে গুতা মারে। কুদ্দুস গুতার চোটে দুই আঙুল দেখালো।
স্যার দুইটা। উত্তরটা দেয়ার পাশাপাশি মফিজ একত্রিশটা দাঁত দেখিয়ে ক্লোজ-আপ মার্কা হাসি প্রদর্শন করলো। কিন্তু তার এই হাসি বেশিক্ষন স্থায়িত্ব লাভ করতে পারলো না। পাশর্্ব হাসির ঠেলায় তার হাসিতে ইলিগেল অপারেশন দেখা দিল। ক্লাশের সবাই হাসছে, এমনকি ট্যারা কুদ্দুইচ্ছাও হাসতাছে। ব্যাপারটা কি?
তুমি দেখি দারুন জিনিস হে? তোমার দুইটা হার্ট! অ্যাঁ বলো কি! আচ্ছা ঠিক আছে, এবার বলোতো তোমার কিডনি কয়টা?
স্যার এইডা জানি... হে হে হে মফিজ কল্কি মার্কা হাসি দেয়।
বলো, বলো, বলে ফেলো। স্যার তাগাদা দেয়।
একটা কিডনি স্যার।
বাহ বাহ, তোমার জুড়ি নাই। ঈশ্বর দেহি তোমারে নতুন ডিজাইনে বানায়া পাঠাইছেন। ঠিক আছে, এবার বলোতো- কিডনি কোথায় থাকে?
ইয়ে স্যার... মফিজ মাথা চুলকায়। অনেকক্ষন ভেবে বলে- স্যার, মনে পড়েছে- কিডনি পাকস্থলীতে থাকে।
বাহ্ দারুন! দারুন! তোমার দ্বারা হবে, এক কাজ করো, 5 বছর পড়াশুনা করার কি দরকার? আজই সার্টিফিকেট নিয়ে চলে যাও। কি বলো?
স্যার যা বলেন। গর্বে মফিজের মাথা ধড় থেকে আরও পৌনে তিন ইচ্ছি উপরের দিকে বৃদ্ধি পায়।
এ্যাঁই কে আছিস? পাগলটারে এখান থেকে লইয়া যা। যত্তসব গরু-ছাগলের দল... স্যার গর্জে উঠলেন।
আমি যাইমু না, আমি যাইমু না... মফিজকে টেনে হেঁছড়ে নেবার সময় মফিজ এ ক'টা শব্দ ছাড়া আর কিছুই বলতে পরছিলো না। পড়া পারার পরও স্যার কেনো যে তাকে বের করে দিলেন তা তার বোধগম্য হয়ে ওঠেনি।
[ পুনশ্চঃ 2006 সালে মফিজ এম.বি.বি.এস পরীক্ষায় পাশ করে বের হয়েছে। তার সাথে তার সমযোগ্য আরও 200জন এম.বি.বি.এস ডাক্তার! টাকায় কিনা হয়? তাও ভালো, ডাক্তাররা ভুল করে হাতঘড়ি, কাঁচি, হাতুড়ি রোগীর পাকস্থলীতে প্যাক করেন। অন্তত এটার জন্য ভালো যে, পাকস্থলীটার নড়চড় হয়না একটুও, কারন মফিজ ডাক্তাররা জানেনা কোনটা পাকস্থলী আর কোনটা কিডনী !!! ]
[ উৎসর্গঃ ভুক্তভোগীদের ]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




