যাবে?
না।
আশ্চার্য্য, রিক্সাওয়ালারা বুঝে ক্যামনে- কার পকেটে টাকা আছে, কার নেই? খিদে লেগেছে... দারুন খিদে...। আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি... যখনই টাকা থাকে না, তখনই রাজ্যের সব খিদা এসে জড়ো হয়। আমার ভীষন খিদে লাগছে। ভীষন...। কি খাওয়া যায়...? মন বললো- বিষ খা ব্যাটা। আমি হাসি... শুকনো হাসি নয়- অর্জিনাল হাস মার্কা স্বশব্দ হাসি।
ঐ খালি যাবা? রূপনগর আবাসিক?
হ যামু, 10 ট্যহা দেওন লাগবো। কিছুটা সংকোচ টেনে প্রস্তাবটা রাখলো সে।
উঠে গেলাম। মোবাইলটায় দুয়েক পয়সা থাকতে পারে... 566...! 14 টাকা! বিস্তর পয়সা...। হ্যালো... কই তুই? বাসায়?... না; 23 নাম্বার আছি, জলদি আয়। 8 সেকেন্ড... বাকী থাকলো 12 টাকা। 12 টাকাই আমার শেষ সম্বল...।
কতদিন আসোনিকো বিকেল...কতদিন...!!! বেশ কিছুদিন যাবৎ পুরনো স্মৃতিগুলো হন্নে হয়ে ঘুরে মরছে আমার পিছু পিছু... এমনটাতো হবার কথা নয়। স্মৃতিদের ডাক দিলেই- সুজন শালায় লজ্জাহীনের মত এসে হাজির হচ্ছে। বিকেল... সুজন ছাড়া আমাদের বিকেল...। আমিন বাজার... বুড়িগঙ্গা... ষোলহাটি... আশুলিয়া... বেগুনবাড়ি... পুরান ঢাকায়...এখন আমাদের ছায়াও পড়ে না। দলবেঁধে... হন্নে হয়ে খাবার খোঁজা... ছুটে বেড়ানো... নেই এখন। আরামবাগের চা... মনু মিয়ার বট... রাব্বানীর স্পেশাল মাংস পোলাও... শওকতের চাপ... প্রিন্সের খুপড়ির তলে মশকরা... ষোলহাটির কপি-টাচ ছাড়া সবই আছে। নেই কেবল আমাদের ছায়া... সবাই ব্যস্ত... পড়াশুনা নিয়ে... ভবিষ্যত নিয়ে... আউলা চিন্তা ভাবনা নিয়ে কেবল ব্যস্ত আমি...
রাশেদ ভাড়া দিল। তারপর কোলাকুলি... কি খবর তোর? এইতো... আছি। চল... মামা 7টা কপি-টাচ। স্পেশাল ভাবে একটা বানাইবা...। কিরে শালা এতদিন পর মনে অইলো!!! মিজান মুখ খুললো। পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত!!! চাপা পিটালাম। এদিকে রাশেদ মলিকে নাকি লাবনীকে... কোনটাকে নিবে... বাছাই করতেই বাঁচে না... মিন্টু হাসতে হাসতে বলে। মারপিট... মারপিট... শুরু হয়ে গেল হঠাৎ... শালা তোকে না মলি'র নাম মুখে আনতে নিষেধ করেছি...। সরি... সরি... ক্ষমা হয়ে গেছে... ভুল কইরা দে। বুঝা গেল মলি'কেই শালায় ভালাবাসে... ইত্যাদি ইত্যাদি...। চাকরিটা ছাড়লি ক্যান... প্রশ্ন রাজিবের... এমনি এমনি... ভালো লাগছিল না... পরীক্ষার চাপতো আছেই...!!! আবারও চাপা মারলাম...। এমনি কিছু আলাপচারিতা... সূর্য্যটা হঠাৎ টুপ করে পশ্চিমে ডুবে গেল। আজকে থেকে যা... সিগারেটে টান দিয়ে রাশেদ বললো... মনটা ভালো নেই। ওহিদ বিয়ে করে ফ্যালেছে...। বলিস কিরে? আমি অবাক হলাম। হুম... ফেসে গেছে। বিয়ের প্রতি ঘেন্না ধরে গেছে... ভাবি সব ছেড়ে দেই... পারিনা... সময়গুলো কাটতে চায়না... চল ক্লাবে চল...। আমি অসম্মতি জানাই। ও জায়গা আমার ভালো লাগে না। আমার একটা কাজ আছে...। ও বুঝে... কিছু বলে না। রিক্সা থামালাম... তারপর কোলাকুলি...। ঐ ব্যাটা আমাদের লগে দিলছে দিল মিলাবি না...? বাকীরা হাসে। একেক করে সবার সাথে...। সুজনের খবর জানিস? রাশেদ জানতে চাইলো... হু, কয়েকদিন আগে এস.এম.এস পাঠাইছিল... তেমন ভালো নেই। দারুন খাটনি যাচ্ছে... কলেজ... পার্টটাইম জব...। মজার ব্যাপার কি জানিস... ওখানেও শালার লুইচ্ছামি থামে নাই... দুইটারে যোগাড় কইরা ফ্যালাইছে এরমধ্যেই... একটা তুকর্ী আরেকটা মনে হয় বাঙালী... হা হা হা।
ফিরে আসছি আমি... পুরনো স্মৃতিরা পিছু হটে যাচ্ছে...। রিক্সার মেলায়... ক্রিং ক্রিং শব্দে মুখোরিত জীবনটা... সোডিয়াম আলোর নিচে... কয়েকটা বাচ্চা দড়ির দোলনা বানিয়ে দুলছে... দারুন সুখস্মৃতি... দারুন ওদের শৈশব। লোভ হয়। কয়েকটা তোকাই ল্যাম্পপোষ্টের নিচে... জড়ো হয়ে... হিসাব কষছে... দারুন... দারুন ওদের সোহাদ্যতা, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবেতো???
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




