somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতদিন আসোনিকো বিকেল

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবসন্ন মন! ভাবছি...আর... হাঁটছি... সময় বাঁচানোর তাড়া নেই। পকেটের চার্জ শেষ। কবে যে ব্যাংকে টাকা আসবে? রিক্সাওয়ালারা আয়েশী পা তুলে চুটিয়ে গপ্প করছে। ওদের হাসিগুলো দেখার মত। বহু বছর মনে রাখার মত। লোভ হলো... সময় বাঁচানোর লোভ। পারলাম না। পকেটর যা তা অবস্থা। হেঁটে মেরে দাও কয়েক মাইল। দ্যাখো, দেখে দেখে শিখো... একটা যুক্তি দাঁড় করানো গেলো। রাশেদের ওখানে যাওয়া যায়। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত... আমার দৌড় বন্ধুদের বাড়ি পর্যন্ত। ভাগ্যিস প্রিয় বন্ধুগুলোর ছোট কোন বোন নেই। যাদের আছে, তাদের ওখানে যাবারও মুখ নেই।

যাবে?
না।
আশ্চার্য্য, রিক্সাওয়ালারা বুঝে ক্যামনে- কার পকেটে টাকা আছে, কার নেই? খিদে লেগেছে... দারুন খিদে...। আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি... যখনই টাকা থাকে না, তখনই রাজ্যের সব খিদা এসে জড়ো হয়। আমার ভীষন খিদে লাগছে। ভীষন...। কি খাওয়া যায়...? মন বললো- বিষ খা ব্যাটা। আমি হাসি... শুকনো হাসি নয়- অর্জিনাল হাস মার্কা স্বশব্দ হাসি।

ঐ খালি যাবা? রূপনগর আবাসিক?
হ যামু, 10 ট্যহা দেওন লাগবো। কিছুটা সংকোচ টেনে প্রস্তাবটা রাখলো সে।
উঠে গেলাম। মোবাইলটায় দুয়েক পয়সা থাকতে পারে... 566...! 14 টাকা! বিস্তর পয়সা...। হ্যালো... কই তুই? বাসায়?... না; 23 নাম্বার আছি, জলদি আয়। 8 সেকেন্ড... বাকী থাকলো 12 টাকা। 12 টাকাই আমার শেষ সম্বল...।

কতদিন আসোনিকো বিকেল...কতদিন...!!! বেশ কিছুদিন যাবৎ পুরনো স্মৃতিগুলো হন্নে হয়ে ঘুরে মরছে আমার পিছু পিছু... এমনটাতো হবার কথা নয়। স্মৃতিদের ডাক দিলেই- সুজন শালায় লজ্জাহীনের মত এসে হাজির হচ্ছে। বিকেল... সুজন ছাড়া আমাদের বিকেল...। আমিন বাজার... বুড়িগঙ্গা... ষোলহাটি... আশুলিয়া... বেগুনবাড়ি... পুরান ঢাকায়...এখন আমাদের ছায়াও পড়ে না। দলবেঁধে... হন্নে হয়ে খাবার খোঁজা... ছুটে বেড়ানো... নেই এখন। আরামবাগের চা... মনু মিয়ার বট... রাব্বানীর স্পেশাল মাংস পোলাও... শওকতের চাপ... প্রিন্সের খুপড়ির তলে মশকরা... ষোলহাটির কপি-টাচ ছাড়া সবই আছে। নেই কেবল আমাদের ছায়া... সবাই ব্যস্ত... পড়াশুনা নিয়ে... ভবিষ্যত নিয়ে... আউলা চিন্তা ভাবনা নিয়ে কেবল ব্যস্ত আমি...

রাশেদ ভাড়া দিল। তারপর কোলাকুলি... কি খবর তোর? এইতো... আছি। চল... মামা 7টা কপি-টাচ। স্পেশাল ভাবে একটা বানাইবা...। কিরে শালা এতদিন পর মনে অইলো!!! মিজান মুখ খুললো। পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত!!! চাপা পিটালাম। এদিকে রাশেদ মলিকে নাকি লাবনীকে... কোনটাকে নিবে... বাছাই করতেই বাঁচে না... মিন্টু হাসতে হাসতে বলে। মারপিট... মারপিট... শুরু হয়ে গেল হঠাৎ... শালা তোকে না মলি'র নাম মুখে আনতে নিষেধ করেছি...। সরি... সরি... ক্ষমা হয়ে গেছে... ভুল কইরা দে। বুঝা গেল মলি'কেই শালায় ভালাবাসে... ইত্যাদি ইত্যাদি...। চাকরিটা ছাড়লি ক্যান... প্রশ্ন রাজিবের... এমনি এমনি... ভালো লাগছিল না... পরীক্ষার চাপতো আছেই...!!! আবারও চাপা মারলাম...। এমনি কিছু আলাপচারিতা... সূর্য্যটা হঠাৎ টুপ করে পশ্চিমে ডুবে গেল। আজকে থেকে যা... সিগারেটে টান দিয়ে রাশেদ বললো... মনটা ভালো নেই। ওহিদ বিয়ে করে ফ্যালেছে...। বলিস কিরে? আমি অবাক হলাম। হুম... ফেসে গেছে। বিয়ের প্রতি ঘেন্না ধরে গেছে... ভাবি সব ছেড়ে দেই... পারিনা... সময়গুলো কাটতে চায়না... চল ক্লাবে চল...। আমি অসম্মতি জানাই। ও জায়গা আমার ভালো লাগে না। আমার একটা কাজ আছে...। ও বুঝে... কিছু বলে না। রিক্সা থামালাম... তারপর কোলাকুলি...। ঐ ব্যাটা আমাদের লগে দিলছে দিল মিলাবি না...? বাকীরা হাসে। একেক করে সবার সাথে...। সুজনের খবর জানিস? রাশেদ জানতে চাইলো... হু, কয়েকদিন আগে এস.এম.এস পাঠাইছিল... তেমন ভালো নেই। দারুন খাটনি যাচ্ছে... কলেজ... পার্টটাইম জব...। মজার ব্যাপার কি জানিস... ওখানেও শালার লুইচ্ছামি থামে নাই... দুইটারে যোগাড় কইরা ফ্যালাইছে এরমধ্যেই... একটা তুকর্ী আরেকটা মনে হয় বাঙালী... হা হা হা।

ফিরে আসছি আমি... পুরনো স্মৃতিরা পিছু হটে যাচ্ছে...। রিক্সার মেলায়... ক্রিং ক্রিং শব্দে মুখোরিত জীবনটা... সোডিয়াম আলোর নিচে... কয়েকটা বাচ্চা দড়ির দোলনা বানিয়ে দুলছে... দারুন সুখস্মৃতি... দারুন ওদের শৈশব। লোভ হয়। কয়েকটা তোকাই ল্যাম্পপোষ্টের নিচে... জড়ো হয়ে... হিসাব কষছে... দারুন... দারুন ওদের সোহাদ্যতা, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবেতো???
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×