কিছুদিন আগে এক বন্ধু এসে জোর করেই ফটকা (!) বন্ধুটির বাসায় নিয়ে গেল। আমি যেতে রাজি ছিলাম না... ওর সমস্যার কথা শুনে যেতেই হলো। আমার ফটকা বন্ধুটির সাথে আমার মোটামুটি রিলেসন ভালোই ছিল। ওর সাহস... বলার মত। কত মারপিট করেছে (আমাকে নিয়েই... ওর গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ একজন সহযোগী ছিলাম)। 5 বছর আগের কথা, এক বন্ধু ও তার বান্ধবীকে বখাটেরা একা পেয়ে ইচ্ছেমত মজা লুটেছে... বান্ধবীর সামনেই বন্ধুটির মান সম্মানের কুলখানি...! যেতেই হলো... মান সম্মানের প্রশ্ন... ফটকা বন্ধুটি লিড নিল... কয়েকজন পালালো, দুইজনকে ধরা গেল। বখাটে নেতার হাত পা ভাঙ্গার পর... বাকীজনের দিকে দৃষ্টি ফেলানো হলো... নিরামিষ ছেলে... চোখ দুটো দারুন... ভয়গুলো বাসা দখল করে আছে সেখানে। কয়েকটা ভিটামিন খেলো... তারপর হাউ মাউ করে... আমার পা জড়িয়ে বিলাপ... বুকটা কেঁপে উঠলো... প্রথম বারের মত... 'আমি কিছু জানিনা, কিছু জানিনা... আমি ওদেরকে চিনিনা...' শব্দকটি বার বার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হলো... আমি হাত উঠালাম। সরে গেল তারা... ফটকা বন্ধুটিকে এক পাশে টেনে এনে... বললাম- 'ছেড়ে দে'। শুনেই ও উত্তেজিত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল... আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারলো না... 'ঐ ছেড়ে দে'...। ফিরে যাচ্ছি আমরা। পেছনে একবার তাকালাম... একজন ঝিম মেরে পড়ে আছে, অজ্ঞান...। বাকী ছেলেটা... মাটি থেকে উঠতে পেরেছে... খুড়িয়ে খুড়িয়ে যাচ্ছে... কান্নার একটা চিকন সূর মুখে টেনে সে পথ ভাঙ্গছে... ভেতরটা আমার মুছড়ে গেল... কই এর আগেওতো কত কিছু করেছি... এমন বোধতো কখনো আসেনি... বেল্ট... ছোরা... হকিষ্টিক... ক্রিকেট ব্যাট, ষ্ট্যাম্প... কতকিছু...!
বদলে গেছি কিছুটা... কখনো আর যাইনি তার সাথে। কখনোই না...। তার সাথে দেখা হলে পরম আত্মীয়ের মত বুকে জড়িয়ে ধরতো। ঢুকে যেতাম... টং দোকান, হোটেল, ফাস্টফুড...যেখানে যেমন। গল্প বলতো সে... আমুদে সব গল্প...। ...তারপর শুন... কি হয়েছে... ষ্টেশন থেকে বের হয়ে দেখে তার বউ সাথে নাই... বেটাই হাউ মাউ করে বিলাপ করা শুরু করলো... পরে মাইকিং করা হইলো... অমুকের বউ হারানো গিয়াছে... হা হা হা... হালায় কুদ্দুস...কুদ্দুস নাম্বার ওয়ান...। আমি শুনতাম আর অবাক হতাম। মানুষের কত রূপ...!
আজ তার বাসার ছাদে উঠে বসে আছি। কতদিন পর... 3 বছর... হুম... হবে। ঘড়িতে বাজে... 11:45। আরও খানিক পর সে বাসায় আসবে। ছাদটায় দারুন বাতাস। মনটা ঠান্ডা করার মত বাতাস। পাশের বন্ধুটি বক বক করে যাচ্ছে। কিছু শুনছি... কিছু শুনছিনা। আমার আরো একটি বদ-স্বভাব। যখন বুঝি মানুষ কি বলতে যাচ্ছে... তখন বাকীটুকু শুনার প্রয়োজন বোধ করিনা। অন্যকিছুতে ধ্যন দেই। এখান থেকে চারদিক ভালোই দেখা যাচ্ছে। বিশাল বিল্ডিংগুলোর জানলাগুলো থেকে আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। ভেতরে মানুষজন হঠাৎ উদয় হয়, আবার হঠাৎ অদৃশ্য হয়। কেউ কেউ পা ছড়িয়ে দলবেঁধে টিভি দেখছে... কেউ কেউ ঘুমানোর আয়োজন... কেউ কেউ বারান্দায় এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টে... কয়েকটা বাচ্চা দেখি হাত বাড়িয়ে একে অপরকে ছুয়ে দেখছে... মজার দৃশ্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



