দেখলাম ঘুমন্ত এক আদমকে দাঁড়িওয়ালা এক লোক লাত্থি মারছে। তিন চার লাত্থি মারার পর অবশেষে লোকটা টের পেল তাকে মারা হচ্ছে! জেগে উঠেই মাগো বলে চিৎকার। তার চিৎকারে কার কি আসে যায়? উল্টো পথচারী ও যাত্রীগণ পরম উৎসাহে এগিয়ে এল। দাঁড়িওয়ালাটা তার চুল ধরে টেনে সেড় তিনেক ওজনের দুটো থাপ্পড় দিয়ে বললো- টাকা বাইর কর!
বুঝা গেল তার টাকা হারানো গেছে। আদমের ঘুম জড়ানো কথার কোনো মূল্যই দেয়া হলো না। তাকে উত্তমরূপে চেক করা হলো। লোকটার পরনে কেবল একটা ছেঁড়া সেলাইহীন লুঙ্গি। ফাইনালী সেই লুঙ্গি খুলেই তাকে চেক করা হলো। পাশ থেকে হাসির শব্দ উড়ে এল। কেউ কেউ লোকটার মান সম্মান (!) নিয়ে রসিকতা করছে! বাকীগুলো মুখ কেলিয়ে হাসছে। পাওয়া গেল না। একটা পয়সাও পাওয়া গেল না। পাওয়া গেল কেবল একটা আধ-খাওয়া বিড়ি। তাকে আরও একটা চড় মারা হলো। এটা মনে হয় টাকা চুরি না করার পুরস্কার!
বিষাধ লাগে এসব দেখতে। মনটা আগে হু হু করে উঠতো। এখন ওঠেনা। রোবট হয়ে যাচ্ছি দিন দিন। আশে পাশের মানুষজনের জটলা খুলতে শুরু করেছে। লক্ষ্য করলাম বেশির ভাগ মানুষেরই চোখে মুখে একটা তৃপ্তিকর হাসি ছড়িয়ে আছে। মনে হলো- বাংলা সিনেমা দেখে এইমাত্র হল থেকে তারা বেরিয়ে এলো কিংবা ফ্রি টিকেটে একটা দারুন পথনাট্য মেরে দিল। বাঙালী...!
পিছনে তাকিয়ে দেখলাম... লোকটা ভেজা চোখ নিয়েই ফুটপাতে ঘুমিয়ে গেছে। হা হয়ে আছে তার মুখ। মুখ দিয়ে লোল পড়ছে। চেহারায় কোনো চাওয়া-পাওয়ার সাইনবোর্ড নেই। নেই কোনো পাওয়া-না পাওয়ার বিজ্ঞাপন! কতই না সুন্দর প্রশান্তির ঘুম দিচ্ছে লোকটা। আশ্চার্য্য... মানুষ পারে বৈকি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



