বৃস্তি পলে লে... ছেলেটি গুনগুনিয়ে গেয়ে যায়। বৃষ্টির শব্দে সে মাতাল হয়। ঐটুকুন পুসকি, কত বড় আজ! ঐটুকুন বয়সেই সে বৃষ্টির ঘ্রানে মাতাল হয়! বৃষ্টির শব্দে বিভোর হয়! তেলাপোকা ভাইয়া বৃস্তি হচ্ছে... চলো বিজবো। চলো ছাদে, চলো জলদি। কানের কাছে মুখ এনে সে ফিসফিসিয়ে বলে। আগে দেখ খালা কোথায়? আম্মু রান্না ঘলে, সুন্দর একটা হাসি উপহার দেয় ছেলেটি। দারুন হাসতে পারে সে। বিশ্ব জয় করার মত হাসি। আমি গলে যাই। রান্না ঘর থেকে খালার গলার আওয়াজ পাওয়া যায়। তোর মা জানলে আমাকে বকে কিছু রাখবে না। ভিজার দরকার নাই, বৃষ্টিতে আজ ভেজাল আছে। তোর মাথায় পড়বে, তোর হাতে পড়বে। তুই শিলাবৃষ্টিতে ব্যাথা পাবি। আজ বাদ দাও লক্ষি সোনা... কাল অবশ্যই ভিজবো...। উহু, তাকে পোষ মানানো অত সহজ নয়। খালা বৃষ্টির খবর পেয়ে টাটকা পেঁয়াজু ভাজায় ব্যস্ত। এই ফাঁকে ছেলেটি ছাদের দরজা খুলে... বৃস্তি পলে লে... রব তুলে নৃত্য করা শুরু করে দেয়। আমি মুগ্ধ চোখে দেখতে থাকি।
খালা সব ফেলে 'এই শয়তান করিস কি, করিস কি? জলদি আয়, জলদি আয়। জ্বর হবেতো তোর...! কে নামিয়েছে ওকে, কে?' খালা সন্দেহের দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আমার প্রতি।
আমি কি করলাম ? দুহাত ছড়িয়ে আমি প্রতিবাদ জানাই।
... কি করিসনি, বৃষ্টিতে ভিজার অসুখটা কে ঢুকিয়েছে ওর মাথায়? ওর জ্বর হলে তুই টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাবি...বলে দিলাম।
জ্বর হবে না।
...তোকে বলেছে কে?
ঠিক আছে আমি নিয়ে আসছি... মনে মনে দারুন খুশি আমি। এ চান্সে বৃষ্টির ঘ্রাণটা নেয়া যাবে।
30 মিনিট পর... ছেলেটি দারুন আনন্দিত। তিন/চারটি চড় খেয়েও প্রচুর খুশি সে।
শাস্তি দেয়া হয়েছে আমাকেও। আমার আর ওর ভাগের 2টা করে পেঁয়াজু কম। তাতে কি? একটা নুনু ভেজা তো ভিজতে পারা গেল? ছেলেটি খিলখিল করে হেসে ওঠে। আমি চেয়ে থাকি... মুগ্ধ চোখে হারানো শৈশবকে চোখের সামনে দেখতে থাকি...।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০