সন্ধ্যা নেমে এলো। মনের ভেতরে খুব লাজুক ভাবে প্রিয় কবির কবিতাগুলো উঁকি-ঝুঁকি দেয়া শুরু করেছে। জীবনানন্দ... আমার জীবনানন্দ...দাশ। প্রিয় কবি। শুনেছি বুড়ো বয়সে বৌয়ের হাতে মার খেতেন। ...বেচারা। দুঃখ পেলাম... শুনে বড় দুঃখ পেলাম। যে বলেছে তার কথা ফেলে দেবার মতনই। তবু ফেলতে পারছি না। নিজের লাইফ ষ্টাইল দ্যাখে বৌয়ের পিটুনি'র ঘটনাটা সত্য বলে মনে হচ্ছে... হা হা হা। আমার সাথে তার তফাৎ এক জায়গাই... কবিতার ক'ও বুঝিনা আমি! বনলতা থাকা তো দূরের কথা...! লোল।
ফিরছি আমি... খুড়িয়ে খুড়িয়ে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্মৃতিরা। কত কিছু মানুষ মিস করে...! কত কিছু ফিরে পাবার জন্য মানুষ হাফুস-হুফুস করে! পরিসংখ্যানে নেই এর সীমা। কালকের সোনালী দিন... আজকে বিষাদময়। দেখলাম... মানুষ অসুস্থ্য হলে সবার আগে প্রিয় মানুষের কথা মনে করে। প্রিয় মানুষের সানি্নধ্য পাবার আশায় ছটপট করে। আমি কি করি? ছেঁ্য... বিষাদী মন আমার। মনে করিনা কাউকে... ঝিম মেরে পড়ে রই। বাঁধনহারা হই...। সবুজ ঘাসে চিত হয়ে শুয়ে রই...। আকাশ দেখি...নীল দেখি... ওজন স্তরের ধ্বংস দেখি...।
রিঙ্াওয়ালারা আজকাল বেশ কর্মাশিয়াল হয়ে গেছে। অহন যাইমু না, অহন রেসট লইতাছি...! কথাগুলো শুনে মজা পাই। খুড়িয়ে হাঁটো...। বিপদ যখন আসে, তখন পিঁপড়ায়ও নাকি পাচায় লাত্থি দেয়...! দিক। ওদেরওতো অধিকার থাকা উচিৎ। ওদের ভেতরেও ঈশ্বর-শ্রষ্ট্রা থাকা উচিৎ। থাকা উচিৎ দেব-দেবী, যিশু-খ্রিষ্ট...। ওদের জন্যও থাকা উচিৎ ধর্মগ্রন্থ। ওগুলো পাঠ করে যেন ওরা স্বর্গে যেতে পারে। দুনিয়ার কোনো কিছুকেই ঈশ্বরের উচিৎ নয় খাটো করে রাখা। আশরাফুল মাখলুকাতের জন্যই যদি পৃথিবীটা হয়... তয় প্রার্থনা-টার্থনা করার কি দরকার... ভোগ বিলাস করে যাওয়াই উচিৎ...! নয় কি? বলাতো যায়না... স্বর্গের যেসব রগরগে বর্ণনা দেয়া আছে... সেসব ফেইকও হতে পারে... হা হা হা হা।
মাঝে মাঝে মনে হয় সবকিছুই যেন একটা খেলা। কোথায় থেকে নেমে এলাম... কোথায় থাকলাম... আর কোথায় চলে গেলাম...। আমরা আসলে এক একটা সিষ্টেম...। হুম... ভালো বলেছি বৈকি... সিষ্টেম...। কোনো ভালো প্রোগ্রামারের তৈরী একেকটা সিষ্টেম আমরা। মাঝে মাঝে হ্যাকিং এর শিকার হই... মুখোমুখি হই কিছু ইলিগ্যাল অপারেশনের... অথবা অন্য কারো তৈরীকৃত প্রোগ্রাম দ্বারা ইনফেকটেড।
ঢুহহহহ ...কি ভালো অবস্থায় আমি আজ। ডান পা'টা মাটিতে রাখতেই কষ্ট হচ্ছে। এমন অবস্থা... মসজিদের সামনে পা'টা একটু খাটু করে দাঁড়িয়ে থাকলেই অনেক রোজগার...! কেউ সন্দেহ করবে না। হা হা হা। করবে, করবে... মানুষজন আর আগের মতন নেই। আগের মতন নেই স্কুল ফ্রেন্ডরাও। শালারা মোবাইল ক্যাম দিয়ে ঠিকই নাটকটা ধারন করতো। অবশেষে এলাকার প্রত্যেকটা অলি-গলিতে 'পা-খাটো (!) কুদ্দুইচ্ছ্যা' নামক ছবির পোষ্টার ছাপিয়ে নিজেদের সুনাম কুড়াতো।
বুলবুলি... আমার বুলবুলি... কতদিন তারে দেখিনা। কতদিন ওর মুখের ইংরেজী ভাষা শুনিনা। বাংলা পত্রিকা ও খুব সুন্দর করে ইংরেজীতে পড়তে পারে! ক্যাইসা হে... তাবিয়্যাত কেইসা হে তেরা... আচ্ছা হেনা সব কুচ...? প্রশ্ন বুলবুলির...! আমার চেয়ে 25/30 বেশি বয়সী সে। সারি জাহানচে সে ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো তারে গুলিস্থান দেখি, কখনো কখনো উত্তরা, কখনো কখনো গাবতলী... তার একটাই কাজ... হেঁটে চলা। আমাকে খুব চিনে ভালো। আমিও তারে। বলি... হামারা সাদি কাব হোগা? আমি উর্দু ভালো বলতে পারিনা... তবু চেষ্টা করি। ও বলে... পেহলি সামান ঠিক কারো... তাব মে সোসেঙ্গা...। শুনে সবাই হাসে... হাসতে হাসতে ডিগবাজি খায়। আমিও হাসি, তয় বুলবুলি'র সামনে নয়। সামনে হাসলে ইঁট নিয়ে দৌঁড়ে আমাকে 3 মাইল দূরে দিয়ে আসবে!
আচ্ছা... বুলবুলিরা ঘুরে ঘুরে কি দ্যাখে? কি খোঁজে? ক্যামন লাগে তাদের এই পথচলা? তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো কেমন? তাদের স্বপ্নগুলো কতটা শক্তিশালী? তারা কি আদৌ স্বপ্ন দেখে? আমি নাহয় পরের স্বপ্নগুলো নিয়ে বিভোর থাকি, তারা কাদের স্বপ্ন বয়ে বেড়ায়? কাদের? জানা আছে কি কারো?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



