somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুসুম রঙের বিকেল

০৫ ই মে, ২০০৬ রাত ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুরফুরে হাওয়া। অলস কিছু মেঘ। দিক দিশাহীন চলছে। এদিক-ওদিক। সূযর্্য... কুসুম রঙের সূর্য্য। চলে যাওয়ায় ব্যস্ত সে... অন্য কোথাও... অন্যকোনো শহর তলীতে... অন্য কারো মনে বিষাদ ঢেলে দিতে...। ফিরে যাচ্ছে মানুষগুলো। সুখী মানুষগুলো। দুয়েকজনই কেবল অসুখী। আমার মতন। বেশির ভাগই জোড়ায় জোড়ায়... পাশাপাশি। ছন্নছাড়া যারা... তারা ঘুড়ি ওড়ানোয় ব্যস্ত। কেউ পিছু নিয়েছে ঘুড়ির... কেউ নিয়েছে পাখির...! দুয়েকজন আমার মত বসে কুসুম রঙের সূযর্্য আর উদাসী ঢেউ দেখায় মগ্ন। মগ্ন... উমমম... তাদের মগ্নই বলা যায়। কে জানে, কার ভেতরে কি আছে! আমি তেমন খেয়াল করি না ভালো। নিজের ভেতরে কত কিছু ঘটে যাচ্ছে! পরেরগুলো নাড়াচাড়া করার শক্তি নেই।

সন্ধ্যা নেমে এলো। মনের ভেতরে খুব লাজুক ভাবে প্রিয় কবির কবিতাগুলো উঁকি-ঝুঁকি দেয়া শুরু করেছে। জীবনানন্দ... আমার জীবনানন্দ...দাশ। প্রিয় কবি। শুনেছি বুড়ো বয়সে বৌয়ের হাতে মার খেতেন। ...বেচারা। দুঃখ পেলাম... শুনে বড় দুঃখ পেলাম। যে বলেছে তার কথা ফেলে দেবার মতনই। তবু ফেলতে পারছি না। নিজের লাইফ ষ্টাইল দ্যাখে বৌয়ের পিটুনি'র ঘটনাটা সত্য বলে মনে হচ্ছে... হা হা হা। আমার সাথে তার তফাৎ এক জায়গাই... কবিতার ক'ও বুঝিনা আমি! বনলতা থাকা তো দূরের কথা...! লোল।

ফিরছি আমি... খুড়িয়ে খুড়িয়ে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে স্মৃতিরা। কত কিছু মানুষ মিস করে...! কত কিছু ফিরে পাবার জন্য মানুষ হাফুস-হুফুস করে! পরিসংখ্যানে নেই এর সীমা। কালকের সোনালী দিন... আজকে বিষাদময়। দেখলাম... মানুষ অসুস্থ্য হলে সবার আগে প্রিয় মানুষের কথা মনে করে। প্রিয় মানুষের সানি্নধ্য পাবার আশায় ছটপট করে। আমি কি করি? ছেঁ্য... বিষাদী মন আমার। মনে করিনা কাউকে... ঝিম মেরে পড়ে রই। বাঁধনহারা হই...। সবুজ ঘাসে চিত হয়ে শুয়ে রই...। আকাশ দেখি...নীল দেখি... ওজন স্তরের ধ্বংস দেখি...।

রিঙ্াওয়ালারা আজকাল বেশ কর্মাশিয়াল হয়ে গেছে। অহন যাইমু না, অহন রেসট লইতাছি...! কথাগুলো শুনে মজা পাই। খুড়িয়ে হাঁটো...। বিপদ যখন আসে, তখন পিঁপড়ায়ও নাকি পাচায় লাত্থি দেয়...! দিক। ওদেরওতো অধিকার থাকা উচিৎ। ওদের ভেতরেও ঈশ্বর-শ্রষ্ট্রা থাকা উচিৎ। থাকা উচিৎ দেব-দেবী, যিশু-খ্রিষ্ট...। ওদের জন্যও থাকা উচিৎ ধর্মগ্রন্থ। ওগুলো পাঠ করে যেন ওরা স্বর্গে যেতে পারে। দুনিয়ার কোনো কিছুকেই ঈশ্বরের উচিৎ নয় খাটো করে রাখা। আশরাফুল মাখলুকাতের জন্যই যদি পৃথিবীটা হয়... তয় প্রার্থনা-টার্থনা করার কি দরকার... ভোগ বিলাস করে যাওয়াই উচিৎ...! নয় কি? বলাতো যায়না... স্বর্গের যেসব রগরগে বর্ণনা দেয়া আছে... সেসব ফেইকও হতে পারে... হা হা হা হা।

মাঝে মাঝে মনে হয় সবকিছুই যেন একটা খেলা। কোথায় থেকে নেমে এলাম... কোথায় থাকলাম... আর কোথায় চলে গেলাম...। আমরা আসলে এক একটা সিষ্টেম...। হুম... ভালো বলেছি বৈকি... সিষ্টেম...। কোনো ভালো প্রোগ্রামারের তৈরী একেকটা সিষ্টেম আমরা। মাঝে মাঝে হ্যাকিং এর শিকার হই... মুখোমুখি হই কিছু ইলিগ্যাল অপারেশনের... অথবা অন্য কারো তৈরীকৃত প্রোগ্রাম দ্বারা ইনফেকটেড।

ঢুহহহহ ...কি ভালো অবস্থায় আমি আজ। ডান পা'টা মাটিতে রাখতেই কষ্ট হচ্ছে। এমন অবস্থা... মসজিদের সামনে পা'টা একটু খাটু করে দাঁড়িয়ে থাকলেই অনেক রোজগার...! কেউ সন্দেহ করবে না। হা হা হা। করবে, করবে... মানুষজন আর আগের মতন নেই। আগের মতন নেই স্কুল ফ্রেন্ডরাও। শালারা মোবাইল ক্যাম দিয়ে ঠিকই নাটকটা ধারন করতো। অবশেষে এলাকার প্রত্যেকটা অলি-গলিতে 'পা-খাটো (!) কুদ্দুইচ্ছ্যা' নামক ছবির পোষ্টার ছাপিয়ে নিজেদের সুনাম কুড়াতো।

বুলবুলি... আমার বুলবুলি... কতদিন তারে দেখিনা। কতদিন ওর মুখের ইংরেজী ভাষা শুনিনা। বাংলা পত্রিকা ও খুব সুন্দর করে ইংরেজীতে পড়তে পারে! ক্যাইসা হে... তাবিয়্যাত কেইসা হে তেরা... আচ্ছা হেনা সব কুচ...? প্রশ্ন বুলবুলির...! আমার চেয়ে 25/30 বেশি বয়সী সে। সারি জাহানচে সে ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো তারে গুলিস্থান দেখি, কখনো কখনো উত্তরা, কখনো কখনো গাবতলী... তার একটাই কাজ... হেঁটে চলা। আমাকে খুব চিনে ভালো। আমিও তারে। বলি... হামারা সাদি কাব হোগা? আমি উর্দু ভালো বলতে পারিনা... তবু চেষ্টা করি। ও বলে... পেহলি সামান ঠিক কারো... তাব মে সোসেঙ্গা...। শুনে সবাই হাসে... হাসতে হাসতে ডিগবাজি খায়। আমিও হাসি, তয় বুলবুলি'র সামনে নয়। সামনে হাসলে ইঁট নিয়ে দৌঁড়ে আমাকে 3 মাইল দূরে দিয়ে আসবে!

আচ্ছা... বুলবুলিরা ঘুরে ঘুরে কি দ্যাখে? কি খোঁজে? ক্যামন লাগে তাদের এই পথচলা? তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো কেমন? তাদের স্বপ্নগুলো কতটা শক্তিশালী? তারা কি আদৌ স্বপ্ন দেখে? আমি নাহয় পরের স্বপ্নগুলো নিয়ে বিভোর থাকি, তারা কাদের স্বপ্ন বয়ে বেড়ায়? কাদের? জানা আছে কি কারো?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×