রোববারে ছেলের ডাকে ঘুম ভাঙলো, চেঁচিয়ে বলল ইলেকট্রিসিটি নেই! খুব অবাক হলাম--এখনও বড় ধরনের তুষারপাত তো দুরের কথা, ঝিরিঝিরি স্নো ফলও শুরু হয়নি, অথবা নেই ঝড়ো বাতাস, পরিস্কার দিন- তাপমাত্রা অবশ্য প্রায় হিমাংকের নীচে। কি হয়েছে তা দেখার জন্য লাইট জ্বালালাম, জ্বলল না--নীচের তলায় নামলাম, হালকা অন্ধকার। নীচতলা বেশ ঠান্ডা হয়ে আছে, বিদ্যুৎ নেই, তাই বয়লার বন্ধ! স্লাইডিং ডোর দিয়ে পাশের প্রতিবেশীর বেড়ায় ভেঙে পড়া বিশাল গাছ দেখে বুঝলাম সব! আমার বাসার ঠিক পেছনেই মিমি নামে ৯০ বছরের এক ইহূদী বুড়ি একাএকা এক বাসায় থাকতো--ওনার কীচেন থেকে আমার কীচেনে চোখাচোখি হতো মাঝেমাঝে। গত মাস ধরে কাজ থেকে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে যায়, তারপরে সময় যায় চোখের পলকে--ভাত রান্না, ছেলেমেয়ের হোমওয়ার্ক দেখা, লান্চ বানানো!--মিমির সাথে অনেকদিন আর আই কন্টাক্ট হয়নি
আমরা এই নিরিবিলী এলাকার প্রচুর গাছে ছাওয়া সৌন্দর্য দেখে এখানে বাড়ী কিনেছিলাম। গাছ কাটতে দেখলে আমার কান্না পায়, যদিও পাইন আর বার্চ আমার দেশী গাছ না--তবুও গাছতো!--ওদের সাথে আমার আত্মিক যোগাযোগ, জানালার ফাঁকে শীতের পত্র শুণ্য ন্যাড়া গাছগুলো দেখলেও আমার দেশের বাড়ীর কৎবেল গাছের কথা মনে পড়ত---ওদের শুকনো মড়া ডালগুলোর ফাঁকে নভেম্বেরর হাড় কাঁপানো বাতাসের শণশণ শব্দে আমার নানু বাড়ীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করোতোয়ার নৌকা গুলির পালের পত্পত্ শব্দেরই প্রতিদ্ধনী মনে হতো!--আমার এই ব্যস্ততাময়, প্রবাস জীবনে ওটুকু ছিলো একফালি স্বস্তির নিঃশ্বাস!--গাছ বিহীন বাড়িটি আজ মিমির চেয়েও একাকী হয়ে গেছে! ঠান্ডা না সইতে পেরে ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি আর আমার স্বামী বেড়িয়ে পড়লাম, সন্ধ্যা অব্দি লাইব্রেরিতে বসে রইলাম--ওরা হোমওয়ার্ক সেশ করল, আমরা চুপচাপ ম্যাগাজিন ঘাটলাম--রাস্তায় এই কনকনে ঠান্ডায় কয়েক সাদা আমেরিকান দের দেখলাম প্ল্যাকার্ড হাতে বড়বড় করে লেখা--সেইভ দ্য ট্রী! সুজলা সুফলা দেশের মানুষগুলো কেন পরদেশে যেয়ে গাছ কেটে ফেলে---সেট বোধগম্য হয়না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




